বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দাবি করেছেন, দেশে প্রথম রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (ইপিজেড) স্থাপন করেছিল তাদের দলই। সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে ঢাকা-৫ আসনে একটি নতুন ইপিজেড গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি। এই অঞ্চলের ইপিজেড স্থাপন হলে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলে মন্তব্য করেন তারেক রহমান।
সোমবার বিকেলে যাত্রাবাড়ীর শহীদ ফারুক হোসেন রোডে এক নির্বাচনি পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তারেক রহমান বলেন, কীভাবে ইপিজেড স্থাপন ও পরিচালনা করতে হয়, সেই অভিজ্ঞতা বিএনপির রয়েছে। এই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই ঢাকা-৫ আসনে দ্রুত একটি ইপিজেড গড়ে তোলা হবে, যা এই এলাকার অর্থনৈতিক কাঠামোকে সুদৃঢ় করবে। তিনি জানান, এই ইপিজেড স্থাপন করা গেলে অন্তত ছয় লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। দীর্ঘদিন ধরে এই এলাকার মানুষের কর্মসংস্থানহীনতার দুর্ভোগ দূর করতে বিএনপি ক্ষমতায় এলে পরিকল্পিতভাবে এখানে ইপিজেড গড়ে তুলবে।
তারেক রহমান বলেন, দেশ গড়তে হলে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও অভিজ্ঞতা থাকা জরুরি। কর্মসংস্থান ছাড়া কোনো দেশের ভাগ্য পরিবর্তন সম্ভব নয়। তার মতে, বিএনপিই একমাত্র দল যাদের কাছে দেশ পরিচালনার অভিজ্ঞতা এবং সুস্পষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে।
বক্তব্যে তারেক রহমান ‘২৪-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন’-এ ঢাকা-৫ এলাকার মানুষের ভূমিকার কথা স্মরণ করেন। আন্দোলনে নিহত ও আহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, এই এলাকার মানুষ গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি আরও বলেন, অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য যারা জীবন উৎসর্গ করেছেন, তাদের প্রতি সম্মান দেখাতে হলে আমাদের দায়িত্বশীলভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে হবে।
বিএনপি ক্ষমতায় এলে নারীদের স্বাবলম্বী করা, কৃষকদের সহায়তা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং শিক্ষাব্যবস্থার মানোন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানান তারেক রহমান। তিনি বলেন, শুধু ভোটাধিকার নয়, মানুষের জীবনের মৌলিক নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতাও গণতন্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
নারীদের ক্ষমতায়নের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, এর মাধ্যমে প্রতিটি পরিবারের গৃহিণী সরাসরি সরকারি সহায়তা পাবেন এবং ধীরে ধীরে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হয়ে উঠবেন।
ছাত্র ও তরুণ সমাজের কর্মসংস্থানের বিষয়ে তারেক রহমান বলেন, প্রতিটি সংসদীয় আসনে অন্তত একটি করে ভোকেশনাল ইনস্টিটিউট স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। সেখানে কারিগরি ও দক্ষতাভিত্তিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তরুণদের দেশ ও বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা হবে। বিদেশগামী কর্মীদের জন্য স্বল্প সুদে ব্যাংক ঋণের ব্যবস্থার কথাও জানান তিনি। তারেক রহমান বলেন, বিদেশে যেতে গিয়ে যাতে আমাদের তরুণদের জমি বা পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করতে না হয়, সে ব্যবস্থা করা হবে।
কৃষকদের জন্য ‘কৃষি কার্ড’ চালুর ঘোষণা দিয়ে তারেক রহমান বলেন, এর মাধ্যমে সার, বীজ ও কীটনাশক সরাসরি কৃষকের হাতে পৌঁছে দেওয়া হবে। পাশাপাশি সরকার গঠন হলে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ সুদসহ মওকুফ করা হবে।
স্বাস্থ্যখাতে পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, গ্রামে গ্রামে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে হেলথকেয়ার কর্মী নিয়োগ করা হবে, বিশেষ করে মা ও বোনদের চিকিৎসা সেবায় গুরুত্ব দেওয়া হবে।
বক্তব্যের শেষে ‘জুলাই শহীদদের’ প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, যারা জীবন দিয়ে যে বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলেন, সেই বাংলাদেশ গড়তে আমরা একসঙ্গে এগিয়ে যাব।
রিপোর্টারের নাম 
























