ঢাকা ১১:৫৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬

ঘরের মানুষই বুঝবে এলাকার দুঃখ-কষ্ট, উন্নয়নে স্থানীয় নেতৃত্বের বিকল্প নেই: তারেক রহমান

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:৫৫:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

এলাকার টেকসই উন্নয়ন ও জনদুর্ভোগ লাঘবে স্থানীয় নেতৃত্বের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, বাইরের কেউ কোনো অঞ্চলের সমস্যাগুলো কার্যকরভাবে সমাধান করতে পারে না। কেবল এলাকার আলো-বাতাসে বেড়ে ওঠা মানুষই স্থানীয়দের দুঃখ-কষ্ট ও প্রয়োজন সবচেয়ে ভালো অনুভব করতে পারেন। তাই জনসেবায় ঘরের মানুষকে বেছে নেওয়া ছাড়া প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব নয়।

সোমবার রাজধানীর পীর জঙ্গি মাজার রোডে ঢাকা-৮ আসনের এক নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তারেক রহমান বলেন, এই নির্বাচন কেবল ক্ষমতার রদবদলের লড়াই নয়, বরং এটি দেশের ভবিষ্যৎ পুনর্গঠনের একটি বড় সুযোগ। জনগণের প্রকৃত প্রতিনিধি হিসেবে তাকেই নির্বাচিত করা উচিত, যার নাড়ির টান এই মাটির সঙ্গে মিশে আছে।

দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে ইনশাআল্লাহ ধানের শীষের সরকার গঠিত হলে তা হবে জনগণের সরকার। নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী দলগুলোর মধ্যে একমাত্র বিএনপিরই রাষ্ট্র পরিচালনার দীর্ঘ ও বাস্তব অভিজ্ঞতা রয়েছে। তবে বিএনপি শুধু অতীতের ওপর নির্ভর করছে না; বরং আগামীর সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে একটি সুনির্দিষ্ট ও আধুনিক কর্মপরিকল্পনা নিয়ে জনগণের দ্বারে হাজির হয়েছে। দেশের উন্নয়ন ও কল্যাণেই বিএনপির মঙ্গল নিহিত—এই দর্শন থেকেই দলটি রাজনীতি করে।

নারীদের অর্থনৈতিক সুরক্ষায় বিশেষ পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, আগামীতে বিএনপি সরকার গঠন করলে গৃহিণী ও শ্রমজীবী নারীদের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করা হবে। এর মাধ্যমে প্রতি মাসে সরাসরি সরকারি আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হবে নারীদের হাতে, যাতে তারা স্বাবলম্বী হতে পারেন।

দেশের তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, কর্মসংস্থান বর্তমান সময়ের সবচেয়ে বড় সংকট। এই সংকট নিরসনে বিএনপি আগামী পাঁচ বছরে এক কোটি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধির মাধ্যমে নতুন নতুন শিল্প-কারখানা স্থাপন এবং প্রতিটি জেলায় ভোকেশনাল, টেকনোলজিক্যাল ও আইটি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট গড়ে তোলা হবে। এর পাশাপাশি দেশের স্বাস্থ্যসেবাকে তৃণমূলের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে এক লক্ষ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের ঘোষণা দেন তিনি, যারা ঘরে ঘরে গিয়ে মা ও শিশুদের প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করবেন।

খেলাধুলা ও ধর্মীয় নেতাদের কল্যাণেও বিএনপি বিশেষ পদক্ষেপ নেবে জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, প্রতিভাবান তরুণদের আন্তর্জাতিক মানের পেশাদার খেলোয়াড় হিসেবে গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে। এছাড়া সমাজের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে মসজিদ-মাদ্রাসার ইমাম, খতিব, মুয়াজ্জিনসহ সব ধর্মের ধর্মগুরুদের জন্য সম্মানজনক রাষ্ট্রীয় ভাতার ব্যবস্থা করা হবে।

দুর্নীতি ও সুশাসনের বিষয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বিএনপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, দুর্নীতির সঙ্গে কোনো আপস করা হবে না। অপরাধীর পরিচয় সে অপরাধীই; কোনো রাজনৈতিক দল তার ঢাল হতে পারবে না। আইনের চোখে সবাই সমান—এই নীতিতেই দেশ চলবে।

বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে তিনি ঢাকা-৮ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী মির্জা আব্বাসকে এলাকার সন্তান ও পরীক্ষিত নেতা হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেন এবং আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর হাতে দলীয় প্রতীক তুলে দেন। আগামী ১২ তারিখের নির্বাচনে ধানের শীষে ভোট দিয়ে দেশ পুনর্গঠনের যাত্রায় শরিক হওয়ার জন্য তিনি সর্বস্তরের ভোটারদের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে শরিফুলের রাজকীয় প্রত্যাবর্তন: তপ্ত গরমে কিউইদের নাভিশ্বাস

ঘরের মানুষই বুঝবে এলাকার দুঃখ-কষ্ট, উন্নয়নে স্থানীয় নেতৃত্বের বিকল্প নেই: তারেক রহমান

আপডেট সময় : ০৬:৫৫:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

এলাকার টেকসই উন্নয়ন ও জনদুর্ভোগ লাঘবে স্থানীয় নেতৃত্বের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, বাইরের কেউ কোনো অঞ্চলের সমস্যাগুলো কার্যকরভাবে সমাধান করতে পারে না। কেবল এলাকার আলো-বাতাসে বেড়ে ওঠা মানুষই স্থানীয়দের দুঃখ-কষ্ট ও প্রয়োজন সবচেয়ে ভালো অনুভব করতে পারেন। তাই জনসেবায় ঘরের মানুষকে বেছে নেওয়া ছাড়া প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব নয়।

সোমবার রাজধানীর পীর জঙ্গি মাজার রোডে ঢাকা-৮ আসনের এক নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তারেক রহমান বলেন, এই নির্বাচন কেবল ক্ষমতার রদবদলের লড়াই নয়, বরং এটি দেশের ভবিষ্যৎ পুনর্গঠনের একটি বড় সুযোগ। জনগণের প্রকৃত প্রতিনিধি হিসেবে তাকেই নির্বাচিত করা উচিত, যার নাড়ির টান এই মাটির সঙ্গে মিশে আছে।

দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে ইনশাআল্লাহ ধানের শীষের সরকার গঠিত হলে তা হবে জনগণের সরকার। নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী দলগুলোর মধ্যে একমাত্র বিএনপিরই রাষ্ট্র পরিচালনার দীর্ঘ ও বাস্তব অভিজ্ঞতা রয়েছে। তবে বিএনপি শুধু অতীতের ওপর নির্ভর করছে না; বরং আগামীর সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে একটি সুনির্দিষ্ট ও আধুনিক কর্মপরিকল্পনা নিয়ে জনগণের দ্বারে হাজির হয়েছে। দেশের উন্নয়ন ও কল্যাণেই বিএনপির মঙ্গল নিহিত—এই দর্শন থেকেই দলটি রাজনীতি করে।

নারীদের অর্থনৈতিক সুরক্ষায় বিশেষ পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, আগামীতে বিএনপি সরকার গঠন করলে গৃহিণী ও শ্রমজীবী নারীদের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করা হবে। এর মাধ্যমে প্রতি মাসে সরাসরি সরকারি আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হবে নারীদের হাতে, যাতে তারা স্বাবলম্বী হতে পারেন।

দেশের তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, কর্মসংস্থান বর্তমান সময়ের সবচেয়ে বড় সংকট। এই সংকট নিরসনে বিএনপি আগামী পাঁচ বছরে এক কোটি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধির মাধ্যমে নতুন নতুন শিল্প-কারখানা স্থাপন এবং প্রতিটি জেলায় ভোকেশনাল, টেকনোলজিক্যাল ও আইটি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট গড়ে তোলা হবে। এর পাশাপাশি দেশের স্বাস্থ্যসেবাকে তৃণমূলের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে এক লক্ষ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের ঘোষণা দেন তিনি, যারা ঘরে ঘরে গিয়ে মা ও শিশুদের প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করবেন।

খেলাধুলা ও ধর্মীয় নেতাদের কল্যাণেও বিএনপি বিশেষ পদক্ষেপ নেবে জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, প্রতিভাবান তরুণদের আন্তর্জাতিক মানের পেশাদার খেলোয়াড় হিসেবে গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে। এছাড়া সমাজের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে মসজিদ-মাদ্রাসার ইমাম, খতিব, মুয়াজ্জিনসহ সব ধর্মের ধর্মগুরুদের জন্য সম্মানজনক রাষ্ট্রীয় ভাতার ব্যবস্থা করা হবে।

দুর্নীতি ও সুশাসনের বিষয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বিএনপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, দুর্নীতির সঙ্গে কোনো আপস করা হবে না। অপরাধীর পরিচয় সে অপরাধীই; কোনো রাজনৈতিক দল তার ঢাল হতে পারবে না। আইনের চোখে সবাই সমান—এই নীতিতেই দেশ চলবে।

বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে তিনি ঢাকা-৮ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী মির্জা আব্বাসকে এলাকার সন্তান ও পরীক্ষিত নেতা হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেন এবং আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর হাতে দলীয় প্রতীক তুলে দেন। আগামী ১২ তারিখের নির্বাচনে ধানের শীষে ভোট দিয়ে দেশ পুনর্গঠনের যাত্রায় শরিক হওয়ার জন্য তিনি সর্বস্তরের ভোটারদের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।