দেশের বরেণ্য ‘জুলাই যোদ্ধা’, শহীদ পরিবার ও আহতদের আর্থিক সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে আয়োজিত একটি উদ্যোগের অধীনে প্রথম ধাপে মোট অনুদানের অর্ধেক বিতরণ সম্পন্ন হয়েছে। বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এবং চট্টগ্রাম-৪ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী আসলাম চৌধুরীর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত জেএএম (JAM) সংস্থা কর্তৃক প্রদত্ত এই অনুদানের আওতায় ১২০০ জন সুবিধাভোগীর মধ্যে ৫০০ জন ইতোমধ্যে তাদের অর্থ উত্তোলন করেছেন, যার পরিমাণ প্রায় আড়াই কোটি টাকা। সংস্থাটি জানিয়েছে, প্রথম ধাপের অর্থ বিতরণ শেষ হওয়ার পর দ্রুতই দ্বিতীয় পর্ব শুরু হবে এবং পর্যায়ক্রমে দেশের সকল গেজেটেড ‘জুলাই যোদ্ধা’দের এই অনুদান ও সম্মাননার আওতায় আনা হবে।
আগ্রাসন বিরোধী আন্দোলনের সদস্য সচিব আল আমিন আটিয়া সোমবার (৭ জুলাই) এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, “আমরা ইতিমধ্যে ৫০০ জন ‘জুলাই যোদ্ধা’কে তাদের প্রাপ্য অর্থের চেক নগদায়নের ব্যবস্থা করেছি। বাকি ৭০০ জনের প্রক্রিয়াও চলছে। শহীদ পরিবার এবং বীর মুক্তিযোদ্ধাদের আমরা অগ্রাধিকার দিয়েছি। আমাদের অনুদান নিয়ে যে গুজব ছড়ানো হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং ভিত্তিহীন। এটি রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের উদ্দেশ্যে ছড়ানো হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে সকল গেজেটেড ‘জুলাই যোদ্ধা’ আমাদের এই উদ্যোগের আওতায় আসবেন। আমরা আশা করি, কেউ অপপ্রচারে বিভ্রান্ত হবেন না।”
গত ৭ ফেব্রুয়ারি ঢাকার ইন্সটিটিউট অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্সে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সারাদেশে ১২০০ ‘জুলাই যোদ্ধা’, শহীদ পরিবার এবং আহতদের অনুদান প্রদান করে জেএএম সংস্থা। সেদিনের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি নেতা লায়ন আসলাম চৌধুরী। আধিপত্যবাদ বিরোধী সংগঠন আগ্রাসন বিরোধী আন্দোলনের মাধ্যমে এই অনুদানের আয়োজন করা হয়েছিল। সংগঠনটি সারাদেশ থেকে ‘জুলাই যোদ্ধা’দের তালিকাভুক্ত করে ঢাকায় একটি বিশেষ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে সম্মাননা স্মারক হিসেবে ক্রেস্ট তুলে দেয়।
একটি সূত্র জানিয়েছে, আসলাম চৌধুরীর ব্যক্তিগত কিছু সংকটের কারণে ব্যাংক থেকে চেক উত্তোলনে কিছুটা বিলম্ব হওয়ায় একটি মহল এই অনুদান নিয়ে অপপ্রচার শুরু করেছে। রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের লক্ষ্যে এই গুজব ছড়ানো হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা অভিযোগ করেছেন। কেউ কেউ এমনও রটনা ছড়িয়েছেন যে, আসলাম চৌধুরীর দেওয়া চেক দিয়ে টাকা তোলা যাচ্ছে না এবং ভুয়া চেক বিতরণ করা হয়েছে।
আগ্রাসন বিরোধী আন্দোলনের নেতারা এই অভিযোগ খণ্ডন করে বলেন, “একজন মানুষের ব্যক্তিগত সংকট হতেই পারে। তিনি প্রায় ১৭ বছর ধরে স্বৈরাচারী সরকারের হাতে নানাভাবে নির্যাতিত হয়েছেন। নয় বছর কারাবাস করেছেন এবং তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই সংকট নৈতিক। যাদের হাতে চেক পৌঁছেছে, তারা সবাই তাদের প্রাপ্য অর্থ পাবেন। ‘জুলাই যোদ্ধা’দের সম্মান আমাদের কাছে আমানতের মতো।”
এদিকে, সীতাকুণ্ডের কয়েকজন ‘জুলাই যোদ্ধা’ জানিয়েছেন, তারা গত রোববার (৭ জুলাই) তাদের প্রাপ্য অর্থ উত্তোলন করেছেন এবং বিষয়টি আগ্রাসন বিরোধী আন্দোলনকে অবহিত করেছেন। এছাড়াও দেশের বিভিন্ন স্থানে ‘জুলাই যোদ্ধা’রা পূবালী ব্যাংক থেকে অর্থ উত্তোলন করেছেন বলে জানা গেছে।
অন্যদিকে, সীতাকুণ্ডে ‘ওয়ারিয়র্স অব জুলাই’ (Warriors of July) সীতাকুণ্ড শাখা আসলাম চৌধুরীর বিরুদ্ধে আনীত অপপ্রচারের প্রতিবাদে এক সংবাদ সম্মেলন করেছে। সংগঠনটির উপজেলা আহ্বায়ক এবং ‘জুলাই যোদ্ধা’ মো. মারুফ বলেন, “রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এই অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। সমাজে এমন কিছু মানুষ আছেন যারা সহযোগিতা করতে না পারলেও সমালোচনায় মুখর থাকেন। যাদের হাতে চেক দেওয়া হয়েছে, আমরা বিশ্বাস করি তারা সবাই অর্থ পাবেন। কারো প্ররোচনায় কান না দেওয়ার জন্য আমরা সকলের প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছি।”
রিপোর্টারের নাম 























