ঢাকা ০৩:১০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ মার্চ ২০২৬

নির্বাচন ও রমজানের প্রভাবে পর্যটকশূন্য কক্সবাজার, হোটেল ব্যবসায় ধস

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:৩৩:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং আসন্ন রমজান মাসকে কেন্দ্র করে পর্যটন নগরী কক্সবাজারে বিরাজ করছে অস্বাভাবিক নীরবতা। একদিকে নির্বাচনকে ঘিরে দেশজুড়ে ছুটির আমেজ থাকলেও, অন্যদিকে পর্যটকদের পদচারণায় মুখরিত থাকার কথা সেই সৈকত এখন অনেকটাই জনশূন্য। কক্সবাজারের পাঁচ শতাধিক আবাসিক হোটেল ও গেস্ট হাউসে বুকিংয়ের হার নেমে এসেছে ১০ শতাংশেরও নিচে, যা পর্যটন ব্যবসায়ীদের জন্য এক গভীর উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি করেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এই নির্বাচনকে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে পর্যটকদের আগমনের ওপর এক ধরনের নিরুৎসাহিত করার নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। হোটেল মালিক সমিতি এবং পর্যটন সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলো যৌথভাবে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানা গেছে। তাদের মতে, নির্বাচনের সময় যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে এবং জাতীয় স্বার্থে এই পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

কক্সবাজারের মাঝারি মানের আবাসিক হোটেল ‘হিলভিউ’-এর ম্যানেজিং পার্টনার রহমত উল্লাহ জানান, তাদের হোটেলে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মাত্র ১০-১২টি কক্ষের বুকিং রয়েছে। তিনি বলেন, “নির্বাচনের এই সময়ে পর্যটকদের আনাগোনা কমে যাওয়াটা স্বাভাবিক। আমরা আশা করছি নির্বাচনের পরপরই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে।”

একই চিত্র দেখা গেছে তারকা মানের হোটেলগুলোতেও। ‘কক্স টুডে’ হোটেলের সহকারী মহাব্যবস্থাপক (এজিএম) আবু তালেব বলেন, তাদের দুই শতাধিক কক্ষের মধ্যে মাত্র ২০-২৫টি কক্ষের বুকিং হয়েছে। তিনি জানান, নির্বাচনের কারণে দেশি পর্যটকদের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।

আরেকটি তারকা মানের হোটেল ‘সায়মান’-এর অ্যাসিস্ট্যান্ট ফিনান্সিয়াল কন্ট্রোলার আসাদুজ্জামান নূরও একই অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, তাদের হোটেলে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মাত্র ৫০টি কক্ষ বুকিং হয়েছে, যার মধ্যে বেশিরভাগই বিদেশি পর্যটক। দেশি পর্যটকদের সংখ্যা খুবই কম।

কক্সবাজার হোটেল গেস্ট হাউস মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার বলেন, জেলার পাঁচ শতাধিক আবাসিক হোটেলে সব মিলিয়ে মাত্র পাঁচ হাজার কক্ষের মতো বুকিং হয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, নির্বাচনকে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য পর্যটকদের কক্সবাজার ভ্রমণে নিরুৎসাহিত করার সিদ্ধান্তটি হোটেল মালিক সংগঠনগুলোর সম্মিলিত প্রচেষ্টা। তিনি বলেন, “জাতীয় নির্বাচন আমাদের সকলের দায়িত্ব। এটি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য আমাদের সবাইকে সহযোগিতা করা উচিত।”

সাধারণত, কয়েকদিনের ছুটি পেলেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পর্যটকদের ঢল নামে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে। কিন্তু এবারের জাতীয় নির্বাচন এবং রমজানের আগমনকে কেন্দ্র করে এই চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। নির্বাচন ঘিরে দেশে ছুটি মিললেও, পর্যটকদের দেখা মিলছে না, যা এখানকার পর্যটন অর্থনীতিতে এক বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা দিয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মূল জার্মান থেকে অনূদিত হ্যারমান হেসের গ্রন্থ বইমেলায়

নির্বাচন ও রমজানের প্রভাবে পর্যটকশূন্য কক্সবাজার, হোটেল ব্যবসায় ধস

আপডেট সময় : ০৫:৩৩:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং আসন্ন রমজান মাসকে কেন্দ্র করে পর্যটন নগরী কক্সবাজারে বিরাজ করছে অস্বাভাবিক নীরবতা। একদিকে নির্বাচনকে ঘিরে দেশজুড়ে ছুটির আমেজ থাকলেও, অন্যদিকে পর্যটকদের পদচারণায় মুখরিত থাকার কথা সেই সৈকত এখন অনেকটাই জনশূন্য। কক্সবাজারের পাঁচ শতাধিক আবাসিক হোটেল ও গেস্ট হাউসে বুকিংয়ের হার নেমে এসেছে ১০ শতাংশেরও নিচে, যা পর্যটন ব্যবসায়ীদের জন্য এক গভীর উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি করেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এই নির্বাচনকে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে পর্যটকদের আগমনের ওপর এক ধরনের নিরুৎসাহিত করার নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। হোটেল মালিক সমিতি এবং পর্যটন সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলো যৌথভাবে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানা গেছে। তাদের মতে, নির্বাচনের সময় যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে এবং জাতীয় স্বার্থে এই পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

কক্সবাজারের মাঝারি মানের আবাসিক হোটেল ‘হিলভিউ’-এর ম্যানেজিং পার্টনার রহমত উল্লাহ জানান, তাদের হোটেলে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মাত্র ১০-১২টি কক্ষের বুকিং রয়েছে। তিনি বলেন, “নির্বাচনের এই সময়ে পর্যটকদের আনাগোনা কমে যাওয়াটা স্বাভাবিক। আমরা আশা করছি নির্বাচনের পরপরই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে।”

একই চিত্র দেখা গেছে তারকা মানের হোটেলগুলোতেও। ‘কক্স টুডে’ হোটেলের সহকারী মহাব্যবস্থাপক (এজিএম) আবু তালেব বলেন, তাদের দুই শতাধিক কক্ষের মধ্যে মাত্র ২০-২৫টি কক্ষের বুকিং হয়েছে। তিনি জানান, নির্বাচনের কারণে দেশি পর্যটকদের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।

আরেকটি তারকা মানের হোটেল ‘সায়মান’-এর অ্যাসিস্ট্যান্ট ফিনান্সিয়াল কন্ট্রোলার আসাদুজ্জামান নূরও একই অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, তাদের হোটেলে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মাত্র ৫০টি কক্ষ বুকিং হয়েছে, যার মধ্যে বেশিরভাগই বিদেশি পর্যটক। দেশি পর্যটকদের সংখ্যা খুবই কম।

কক্সবাজার হোটেল গেস্ট হাউস মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার বলেন, জেলার পাঁচ শতাধিক আবাসিক হোটেলে সব মিলিয়ে মাত্র পাঁচ হাজার কক্ষের মতো বুকিং হয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, নির্বাচনকে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য পর্যটকদের কক্সবাজার ভ্রমণে নিরুৎসাহিত করার সিদ্ধান্তটি হোটেল মালিক সংগঠনগুলোর সম্মিলিত প্রচেষ্টা। তিনি বলেন, “জাতীয় নির্বাচন আমাদের সকলের দায়িত্ব। এটি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য আমাদের সবাইকে সহযোগিতা করা উচিত।”

সাধারণত, কয়েকদিনের ছুটি পেলেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পর্যটকদের ঢল নামে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে। কিন্তু এবারের জাতীয় নির্বাচন এবং রমজানের আগমনকে কেন্দ্র করে এই চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। নির্বাচন ঘিরে দেশে ছুটি মিললেও, পর্যটকদের দেখা মিলছে না, যা এখানকার পর্যটন অর্থনীতিতে এক বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা দিয়েছে।