ঢাকা ০১:২৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬

ভোটকেন্দ্রে মোবাইল নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি ছাত্রশিবিরের

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০২:৫১:১৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৬ বার পড়া হয়েছে

আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে মোবাইল ফোন ব্যবহারে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সাম্প্রতিক নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্তে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। সংগঠনটি এই সিদ্ধান্তকে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের অন্তরায় হিসেবে অভিহিত করে অবিলম্বে তা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে।

সোমবার সংবাদমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম ও সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ এই প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। বিবৃতিতে তারা বলেন, যখন একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য জনমনে আস্থা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি, তখন মোবাইল ফোন ব্যবহারের ওপর এ ধরনের বিধিনিষেধ জনমনে নতুন করে সংশয় তৈরি করেছে। নির্বাচনের পরিবেশকে প্রশ্নাতীত রাখার পরিবর্তে কেন এমন রহস্যজনক সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো, তা নিয়ে দেশবাসীর মধ্যে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।

শিবির নেতারা অভিযোগ করে বলেন, একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের চাওয়ার প্রেক্ষিতে ভোটকেন্দ্র থেকে বিএনসিসির মতো নিরপেক্ষ সংস্থাকে সরিয়ে দেওয়া এবং এখন সাধারণ ভোটারদের মোবাইল ফোন ব্যবহারের ওপর কড়াকড়ি আরোপ করা কোনো সুদূরপ্রসারী ষড়যন্ত্রের অংশ কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, আধুনিক যুগে মোবাইল ফোন কেবল যোগাযোগের মাধ্যম নয়, বরং এটি অনিয়ম ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের তাৎক্ষণিক প্রতিবাদের অন্যতম হাতিয়ার। এই অধিকার কেড়ে নেওয়ার মাধ্যমে কোনো বিশেষ মহলের জন্য ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’ বা ভোট জালিয়াতির পথ সুগম করা হচ্ছে কি না, সেই প্রশ্নও তোলেন তারা।

বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, দীর্ঘ ১৭ বছর এ দেশের মানুষ তাদের ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল। গত জুলাইয়ের রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য ছিল একটি স্বচ্ছ নির্বাচনী ব্যবস্থার মাধ্যমে জনগণের ভোটাধিকার পুনরুদ্ধার করা। সে সময় সাধারণ মানুষের হাতের মোবাইল ফোনই ছিল ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে বড় প্রামাণ্য দলিল। এখন সেই ফোনকে ভয় পাওয়ার অর্থ হলো জনমতের প্রকৃত প্রতিফলনকে বাধাগ্রস্ত করা।

ছাত্রশিবিরের নেতারা সতর্ক করে বলেন, ৪০০ গজের এই বিধিনিষেধের ফলে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় সাধারণ ভোটারদের যাতায়াত ও নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়বে। এর ফলে নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতিও আশঙ্কাজনকভাবে কমে যেতে পারে। তাই নির্বাচনের বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় রাখতে এবং ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই বিতর্কিত সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার জন্য নির্বাচন কমিশনের প্রতি জোর আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে শরিফুলের রাজকীয় প্রত্যাবর্তন: তপ্ত গরমে কিউইদের নাভিশ্বাস

ভোটকেন্দ্রে মোবাইল নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি ছাত্রশিবিরের

আপডেট সময় : ০২:৫১:১৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে মোবাইল ফোন ব্যবহারে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সাম্প্রতিক নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্তে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। সংগঠনটি এই সিদ্ধান্তকে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের অন্তরায় হিসেবে অভিহিত করে অবিলম্বে তা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে।

সোমবার সংবাদমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম ও সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ এই প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। বিবৃতিতে তারা বলেন, যখন একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য জনমনে আস্থা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি, তখন মোবাইল ফোন ব্যবহারের ওপর এ ধরনের বিধিনিষেধ জনমনে নতুন করে সংশয় তৈরি করেছে। নির্বাচনের পরিবেশকে প্রশ্নাতীত রাখার পরিবর্তে কেন এমন রহস্যজনক সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো, তা নিয়ে দেশবাসীর মধ্যে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।

শিবির নেতারা অভিযোগ করে বলেন, একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের চাওয়ার প্রেক্ষিতে ভোটকেন্দ্র থেকে বিএনসিসির মতো নিরপেক্ষ সংস্থাকে সরিয়ে দেওয়া এবং এখন সাধারণ ভোটারদের মোবাইল ফোন ব্যবহারের ওপর কড়াকড়ি আরোপ করা কোনো সুদূরপ্রসারী ষড়যন্ত্রের অংশ কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, আধুনিক যুগে মোবাইল ফোন কেবল যোগাযোগের মাধ্যম নয়, বরং এটি অনিয়ম ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের তাৎক্ষণিক প্রতিবাদের অন্যতম হাতিয়ার। এই অধিকার কেড়ে নেওয়ার মাধ্যমে কোনো বিশেষ মহলের জন্য ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’ বা ভোট জালিয়াতির পথ সুগম করা হচ্ছে কি না, সেই প্রশ্নও তোলেন তারা।

বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, দীর্ঘ ১৭ বছর এ দেশের মানুষ তাদের ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল। গত জুলাইয়ের রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য ছিল একটি স্বচ্ছ নির্বাচনী ব্যবস্থার মাধ্যমে জনগণের ভোটাধিকার পুনরুদ্ধার করা। সে সময় সাধারণ মানুষের হাতের মোবাইল ফোনই ছিল ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে বড় প্রামাণ্য দলিল। এখন সেই ফোনকে ভয় পাওয়ার অর্থ হলো জনমতের প্রকৃত প্রতিফলনকে বাধাগ্রস্ত করা।

ছাত্রশিবিরের নেতারা সতর্ক করে বলেন, ৪০০ গজের এই বিধিনিষেধের ফলে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় সাধারণ ভোটারদের যাতায়াত ও নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়বে। এর ফলে নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতিও আশঙ্কাজনকভাবে কমে যেতে পারে। তাই নির্বাচনের বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় রাখতে এবং ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই বিতর্কিত সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার জন্য নির্বাচন কমিশনের প্রতি জোর আহ্বান জানিয়েছেন তারা।