আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের মোবাইল ফোন বহনে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সাম্প্রতিক নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্তে গভীর উদ্বেগ ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির পক্ষ থেকে এই পদক্ষেপকে অযৌক্তিক এবং অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের অন্তরায় হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে।
সোমবার এক বিবৃতিতে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের ভেতরে মোবাইল ফোন নেওয়া যাবে না বলে নির্বাচন কমিশন যে নির্দেশনা দিয়েছে, তা বর্তমান বাস্তবতায় অত্যন্ত হতাশাজনক। মোবাইল ফোন এখন নাগরিক জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। ভোটাধিকারের মতো একটি সাংবিধানিক অধিকার প্রয়োগের ক্ষেত্রে এ ধরনের কঠোর বিধিনিষেধ ভোটারদের মধ্যে অহেতুক ভীতি ও শঙ্কা তৈরি করবে, যা একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের পরিবেশকে বাধাগ্রস্ত করবে।
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ভোটারদের সচেতন থাকা এবং পর্যবেক্ষণের সুযোগ থাকা জরুরি। কিন্তু মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ করার মাধ্যমে সেই স্বচ্ছতা বজায় রাখার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হতে পারে। জামায়াত মনে করে, এই সিদ্ধান্ত ভোটারদের স্বাধীনতা খর্ব করার পাশাপাশি তাদের ওপর এক ধরনের অযাচিত নিয়ন্ত্রণ আরোপের শামিল।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, নির্বাচন কমিশনের মূল দায়িত্ব হলো জনগণের আস্থা অর্জন করা এবং নির্বাচনকে প্রশ্নাতীত ও গ্রহণযোগ্য করে তোলা। তবে এ ধরনের একতরফা সিদ্ধান্ত কমিশনের নিরপেক্ষতা ও গ্রহণযোগ্যতাকে আরও বেশি বিতর্কের মুখে ঠেলে দিচ্ছে।
বিবৃতিতে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে অবিলম্বে এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে ভোটারদের মৌলিক অধিকার, নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের লক্ষে প্রয়োজনীয় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে। জনগণের অধিকার উপেক্ষা করে কোনো নির্বাচনই টেকসই বা গ্রহণযোগ্য হতে পারে না বলে বিবৃতিতে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।
রিপোর্টারের নাম 
























