ঢাকা ০৪:২৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

দেশের মানুষ ‘কী হবে’ ভেবে চিন্তিত, শত্রুরা মাথাচাড়া দিচ্ছে: মির্জা ফখরুল

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভিযোগ করেছেন, দেশে একটি নৈরাজ্য সৃষ্টির অপচেষ্টা চলছে, এমনকি সোশ্যাল মিডিয়াতেও প্রোপাগান্ডা ও মিথ্যাচারের মাধ্যমে অস্থিতিশীলতা তৈরির প্রচেষ্টা চলছে।

রোববার (২ নভেম্বর) নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ৭ নভেম্বর সিপাহী-জনতার বিপ্লব দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘৭ নভেম্বর বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক গুরুত্বপূর্ণ দিন। ১৯৭৫ সালে সিপাহী-জনতার বিপ্লবের মধ্য দিয়ে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে গৃহবন্দি অবস্থা থেকে মুক্ত করা হয়। তখন দেশের বিরুদ্ধে চক্রান্তকারীরা তাকে বন্দি করে রেখেছিল, কিন্তু দেশপ্রেমিক সৈনিক ও জনগণ তাকে মুক্ত করে নিয়ে আসে। এরপরই শুরু হয় বাংলাদেশের সাফল্যের নতুন অধ্যায়।’

তিনি আরও বলেন, “শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক ক্ষণজন্মা পুরুষ। তিনি দেশকে এমন অবস্থানে নিয়ে যান, যেখানে একসময় বাংলাদেশকে ‘বটমলেস বাস্কেট’ বলা হলেও, তার নেতৃত্বে দেশ সম্ভাবনার নতুন দিগন্তে পৌঁছায়। তার হাত ধরেই শুরু হয় বাংলাদেশের পুনর্জাগরণ-একটি উদীয়মান টাইগার হিসেবে আত্মপ্রকাশ।”

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তানি বাহিনী নিরস্ত্র বাঙালির ওপর হামলা চালালে ২৬ মার্চ কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। ‘এরপরের পাঁচ বছর ছিল আওয়ামী লীগের দুঃশাসনের ইতিহাস,’ বলেন তিনি। ‘শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে দেশে প্রতিষ্ঠিত হয় একদলীয় বাকশাল শাসনব্যবস্থা, যার ফলে দুর্নীতি, অপশাসন ও প্রশাসনিক ব্যর্থতায় ১৯৭৪ সালে ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়, যেখানে লাখ লাখ মানুষ না খেয়ে মারা যায়।’

তিনি বলেন, ‘৭৫ সালের পর জিয়াউর রহমান দেশের রাজনীতিতে পরিবর্তন আনেন। তিনি একদলীয় শাসনের অবসান ঘটিয়ে বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ফেরান, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করেন এবং অর্থনীতিতে নতুন যুগের সূচনা করেন। তার হাত ধরেই গার্মেন্টস শিল্প, প্রবাসে শ্রমিক প্রেরণ, নারী শিক্ষা ও ক্ষমতায়নে যুগান্তকারী পদক্ষেপ শুরু হয়। কৃষি ও শিল্পে আসে বিপ্লব।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘দুর্ভাগ্যজনকভাবে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে চট্টগ্রামের সার্কিট হাউসে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। তবুও তার দর্শন, তার আদর্শ আজও বেঁচে আছে। তার প্রদত্ত বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের দর্শন কখনো পরাজিত হয়নি। বিএনপিও পরাজিত হয়নি- বারবার ধ্বংসস্তূপ থেকে ফিনিক্স পাখির মতো জেগে উঠেছে।’

তিনি বলেন, ‘শহীদ প্রেসিডেন্ট যেমন জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন, আজ তারই উত্তরসূরি তারেক রহমান প্রবাস থেকে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে যে সংগ্রাম শুরু হয়েছিল, সেটি আজও অব্যাহত। জাতিকে নতুন আশার আলো দেখাচ্ছেন তারেক রহমান।’

শেষে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘৭ নভেম্বর আমাদের জাতীয় জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি দিন। এই দিনেই জেগে ওঠে জাতির চেতনা। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের দর্শনকে সামনে রেখে আমরা গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ও সার্বভৌম বাংলাদেশের স্বপ্ন পূরণের পথে এগিয়ে যাব।’

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জগন্নাথের বেদখল হল উদ্ধারে সব ধরনের আইনি সহায়তার আশ্বাস এমপি হামিদের

দেশের মানুষ ‘কী হবে’ ভেবে চিন্তিত, শত্রুরা মাথাচাড়া দিচ্ছে: মির্জা ফখরুল

আপডেট সময় : ০৩:৩৮:৪৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ নভেম্বর ২০২৫

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভিযোগ করেছেন, দেশে একটি নৈরাজ্য সৃষ্টির অপচেষ্টা চলছে, এমনকি সোশ্যাল মিডিয়াতেও প্রোপাগান্ডা ও মিথ্যাচারের মাধ্যমে অস্থিতিশীলতা তৈরির প্রচেষ্টা চলছে।

রোববার (২ নভেম্বর) নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ৭ নভেম্বর সিপাহী-জনতার বিপ্লব দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘৭ নভেম্বর বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক গুরুত্বপূর্ণ দিন। ১৯৭৫ সালে সিপাহী-জনতার বিপ্লবের মধ্য দিয়ে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে গৃহবন্দি অবস্থা থেকে মুক্ত করা হয়। তখন দেশের বিরুদ্ধে চক্রান্তকারীরা তাকে বন্দি করে রেখেছিল, কিন্তু দেশপ্রেমিক সৈনিক ও জনগণ তাকে মুক্ত করে নিয়ে আসে। এরপরই শুরু হয় বাংলাদেশের সাফল্যের নতুন অধ্যায়।’

তিনি আরও বলেন, “শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক ক্ষণজন্মা পুরুষ। তিনি দেশকে এমন অবস্থানে নিয়ে যান, যেখানে একসময় বাংলাদেশকে ‘বটমলেস বাস্কেট’ বলা হলেও, তার নেতৃত্বে দেশ সম্ভাবনার নতুন দিগন্তে পৌঁছায়। তার হাত ধরেই শুরু হয় বাংলাদেশের পুনর্জাগরণ-একটি উদীয়মান টাইগার হিসেবে আত্মপ্রকাশ।”

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তানি বাহিনী নিরস্ত্র বাঙালির ওপর হামলা চালালে ২৬ মার্চ কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। ‘এরপরের পাঁচ বছর ছিল আওয়ামী লীগের দুঃশাসনের ইতিহাস,’ বলেন তিনি। ‘শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে দেশে প্রতিষ্ঠিত হয় একদলীয় বাকশাল শাসনব্যবস্থা, যার ফলে দুর্নীতি, অপশাসন ও প্রশাসনিক ব্যর্থতায় ১৯৭৪ সালে ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়, যেখানে লাখ লাখ মানুষ না খেয়ে মারা যায়।’

তিনি বলেন, ‘৭৫ সালের পর জিয়াউর রহমান দেশের রাজনীতিতে পরিবর্তন আনেন। তিনি একদলীয় শাসনের অবসান ঘটিয়ে বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ফেরান, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করেন এবং অর্থনীতিতে নতুন যুগের সূচনা করেন। তার হাত ধরেই গার্মেন্টস শিল্প, প্রবাসে শ্রমিক প্রেরণ, নারী শিক্ষা ও ক্ষমতায়নে যুগান্তকারী পদক্ষেপ শুরু হয়। কৃষি ও শিল্পে আসে বিপ্লব।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘দুর্ভাগ্যজনকভাবে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে চট্টগ্রামের সার্কিট হাউসে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। তবুও তার দর্শন, তার আদর্শ আজও বেঁচে আছে। তার প্রদত্ত বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের দর্শন কখনো পরাজিত হয়নি। বিএনপিও পরাজিত হয়নি- বারবার ধ্বংসস্তূপ থেকে ফিনিক্স পাখির মতো জেগে উঠেছে।’

তিনি বলেন, ‘শহীদ প্রেসিডেন্ট যেমন জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন, আজ তারই উত্তরসূরি তারেক রহমান প্রবাস থেকে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে যে সংগ্রাম শুরু হয়েছিল, সেটি আজও অব্যাহত। জাতিকে নতুন আশার আলো দেখাচ্ছেন তারেক রহমান।’

শেষে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘৭ নভেম্বর আমাদের জাতীয় জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি দিন। এই দিনেই জেগে ওঠে জাতির চেতনা। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের দর্শনকে সামনে রেখে আমরা গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ও সার্বভৌম বাংলাদেশের স্বপ্ন পূরণের পথে এগিয়ে যাব।’