জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ঘোষণা দিয়েছেন, তাদের দল সরকার গঠনের দায়িত্ব পেলে বিগত সরকার আমলে দেশ থেকে লুটপাট ও পাচার হওয়া বিপুল অঙ্কের অর্থ ফিরিয়ে আনতে সব ধরনের আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। একই সাথে অর্থপাচারের সঙ্গে জড়িত কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে দায়মুক্তি দেওয়া হবে না এবং তাদের কঠোর বিচারের আওতায় আনা হবে। রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে তিনি এই অঙ্গীকার করেন।
নাহিদ ইসলাম তার ভাষণে অভিযোগ করেন, “বিগত ফ্যাসিবাদী শাসনামলে” বাংলাদেশ থেকে প্রায় ৩০ লাখ কোটি টাকা, যা ২৩৪ বিলিয়ন ডলারের সমপরিমাণ, লুটপাট করে বিদেশে পাচার করা হয়েছে। তিনি ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে প্রণীত একটি শ্বেতপত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, এই বিপুল পরিমাণ অর্থ তৎকালীন শাসকগোষ্ঠী ও তাদের মদদপুষ্ট ব্যবসায়ী এবং আমলারা বিদেশে সরিয়ে নিয়েছেন, যা দেশের অর্থনীতির জন্য এক ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে এনেছে।
তিনি বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের সমালোচনা করে বলেন, লুটপাটকৃত এই বিশাল অঙ্কের অর্থ উদ্ধারের চেষ্টা চালানোর কথা বললেও তাদের অবহেলা ও অদক্ষতার কারণে এখন পর্যন্ত কোনো উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জিত হয়নি। তার অভিযোগ, “ফ্যাসিবাদী যুগের সুবিধাভোগী” কিছু শীর্ষ আমলা ও বিশেষজ্ঞের অন্তর্ঘাতমূলক কর্মকাণ্ডের কারণে এই বিপুল পরিমাণ রাষ্ট্রীয় সম্পদ পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
এনসিপির আহ্বায়ক দৃঢ়তার সাথে বলেন, দেশবাসী যদি তাদের সরকার গঠনের দায়িত্ব দেয়, তবে লুটপাট ও অর্থপাচারের সঙ্গে যুক্ত কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে ছাড় দেওয়া হবে না। তিনি “খুনি হাসিনার দোসর” হিসেবে আখ্যায়িত ব্যবসায়ী গোষ্ঠী, তাদের সুবিধাভোগী আমলা ও আত্মীয়-স্বজনদের আইন ও বিচারের আওতায় আনার ঘোষণা দেন। নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, বিদেশে পাচারকৃত যাদের অর্থ ইতোমধ্যে শনাক্ত হয়েছে, তা বাংলাদেশের কর বিভাগের কাছে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দেওয়া হিসাবে অন্তর্ভুক্ত করে জরিমানাসহ কর বসানো হবে এবং দেশে থাকা তাদের সমুদয় সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা হবে। তিনি চিহ্নিত লুটপাটকারীদের ‘গণশত্রু’ ঘোষণা করে তাদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে একটি ‘পাবলিক ট্রাস্ট’-এর মালিকানায় নেওয়ার প্রস্তাব করেন। আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন পেশাজীবীদের নিয়োগ দিয়ে দক্ষ ও স্বচ্ছ ব্যবস্থাপনা কাঠামোর মাধ্যমে নবগঠিত এই সংস্থাটি পরিচালনা করা হবে বলেও তিনি জানান।
নাহিদ ইসলাম তার দলের লক্ষ্য অত্যন্ত স্পষ্ট বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ঘুষ, দুর্নীতি ও রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুটপাটের সংস্কৃতির অবসান ঘটিয়ে অর্থনৈতিক বৈষম্য বিলোপের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা এবং রাষ্ট্রের সম্পদ জনগণের কাছে ফিরিয়ে দেওয়াই তাদের মূল উদ্দেশ্য।
রিপোর্টারের নাম 

























