ঢাকা ০৬:০০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬

জাতীয় নাগরিক পার্টির অঙ্গীকার: ফ্যাসিবাদী শাসনামলের অপকর্মের বিচার

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:১৩:৪১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৫ বার পড়া হয়েছে

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, দেশবাসী যদি তাদের সরকার গঠনের দায়িত্ব দেয়, তাহলে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন ফ্যাসিবাদী শাসনামলে সংঘটিত গুম, খুন, নির্যাতন, দুর্নীতি ও লুটপাটের সঙ্গে জড়িত সকল অপরাধীকে চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনা হবে। রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন বিটিভিতে দেওয়া এক গুরুত্বপূর্ণ ভাষণে তিনি এই দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

নাহিদ ইসলাম তার ভাষণে অভিযোগ করেন, দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে ফ্যাসিবাদী শাসনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গুম, হত্যা, বিনা বিচারে কারাবন্দি, হামলা, নির্যাতন এবং মিথ্যা মামলা দায়েরের জন্য পুরো রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করেছেন। তার মতে, এই অপকর্মে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনগুলো, পুলিশ, র‍্যাব, বিজিবি, ডিজিএফআই, এনএসআই-এর মতো সকল সরকারি বাহিনী ও সংস্থা সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিল। এমনকি জনপ্রশাসন, বিচার বিভাগ এবং সশস্ত্র বাহিনীসহ রাষ্ট্রের সকল প্রতিষ্ঠানকে এই কাজে লাগানো হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, গত ২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান বা জুলাই বিপ্লবের পর এই সকল অপব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। নেতৃত্বপ্রদানকারী অনেক হোমরা-চোমরা ব্যক্তি দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন, কেউ কেউ বিচারের মুখোমুখি হয়েছেন, এবং আরও অনেককে বিচারের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে। হাজার হাজার সামরিক-বেসামরিক আমলা ও বিচারক এখনো কর্মে নিয়োজিত থাকলেও, জুডিশিয়ারি, সিভিল সার্ভিস ও পুলিশ বিভাগের শীর্ষ নেতৃত্ব ভেঙে পড়েছে বলে তিনি জানান। তবে প্রতিরক্ষা বাহিনী এখনও অটুট রয়েছে।

নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, হাজার হাজার খুনি, লুটেরা ও অপরাধীর সেনানিবাসে আশ্রয় গ্রহণ, সেখান থেকে নিরাপদে দেশত্যাগ, কর্মস্থল থেকে কিছু জেনারেলের পালিয়ে যাওয়া, অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের বৈরি রাষ্ট্রে আশ্রয় গ্রহণ এবং সেনাগোয়েন্দাদের দ্বারা কিছু অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তার ব্যক্তিগত তথ্য জনসম্মুখে প্রকাশ করে তাদের জব্দ করার চেষ্টার কারণে সশস্ত্র বাহিনীর ব্যাপক অমর্যাদা হয়েছে।

এনসিপি’র আহ্বায়ক দৃঢ়তার সঙ্গে ঘোষণা করেন, বিভিন্ন বাহিনীর ভেতরে লুকিয়ে থাকা গুম, খুন, নির্যাতন, দুর্নীতি ও লুটপাটের সঙ্গে জড়িত সকল অপরাধীকে শনাক্ত করা হবে। একটি সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে প্রকৃত দায়ীদের বিচারের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।

তিনি অভিযোগ করেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর এসব অপরাধীকে গ্রেফতার এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য সশস্ত্র বাহিনীকে ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা দিয়ে সারাদেশে নামানো হলেও, সুপিরিয়র কমান্ডের অনাগ্রহের কারণে তারা কোনো কার্যকর ভূমিকা পালন করেনি। ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’ শুরু হলেও অপরাধী শনাক্তকরণ, অস্ত্র উদ্ধার বা গ্রেফতারের মতো কোনো উল্লেখযোগ্য সাফল্য আসেনি বলে তিনি মন্তব্য করেন।

নাহিদ ইসলাম জানান, গুমবিষয়ক কমিশন ১,৮৫০টির বেশি অভিযোগ নিয়ে কাজ করছে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে নিরাপত্তা বাহিনীর ভেতরে লুকিয়ে থাকা ফ্যাসিবাদের দোসররা তথ্য ও আলামত নষ্ট করে তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে বিভিন্ন ক্ষেত্রে তারা ক্রমাগত অসহযোগিতা করেই চলেছে।

তার ভাষায়, এনসিপি’র লড়াই হবে সেই ‘নিপীড়নের ব্যবস্থা’ এবং ‘বিচারহীনতার সংস্কৃতি’ সমূলে উৎপাটন করা, যা আওয়ামী ফ্যাসিবাদের সকল প্রবণতা সমাজ থেকে মুছে ফেলবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

দীর্ঘ এক মাস পর ইরাকের তেল রপ্তানি পুনরায় শুরু

জাতীয় নাগরিক পার্টির অঙ্গীকার: ফ্যাসিবাদী শাসনামলের অপকর্মের বিচার

আপডেট সময় : ০৮:১৩:৪১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, দেশবাসী যদি তাদের সরকার গঠনের দায়িত্ব দেয়, তাহলে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন ফ্যাসিবাদী শাসনামলে সংঘটিত গুম, খুন, নির্যাতন, দুর্নীতি ও লুটপাটের সঙ্গে জড়িত সকল অপরাধীকে চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনা হবে। রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন বিটিভিতে দেওয়া এক গুরুত্বপূর্ণ ভাষণে তিনি এই দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

নাহিদ ইসলাম তার ভাষণে অভিযোগ করেন, দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে ফ্যাসিবাদী শাসনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গুম, হত্যা, বিনা বিচারে কারাবন্দি, হামলা, নির্যাতন এবং মিথ্যা মামলা দায়েরের জন্য পুরো রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করেছেন। তার মতে, এই অপকর্মে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনগুলো, পুলিশ, র‍্যাব, বিজিবি, ডিজিএফআই, এনএসআই-এর মতো সকল সরকারি বাহিনী ও সংস্থা সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিল। এমনকি জনপ্রশাসন, বিচার বিভাগ এবং সশস্ত্র বাহিনীসহ রাষ্ট্রের সকল প্রতিষ্ঠানকে এই কাজে লাগানো হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, গত ২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান বা জুলাই বিপ্লবের পর এই সকল অপব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। নেতৃত্বপ্রদানকারী অনেক হোমরা-চোমরা ব্যক্তি দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন, কেউ কেউ বিচারের মুখোমুখি হয়েছেন, এবং আরও অনেককে বিচারের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে। হাজার হাজার সামরিক-বেসামরিক আমলা ও বিচারক এখনো কর্মে নিয়োজিত থাকলেও, জুডিশিয়ারি, সিভিল সার্ভিস ও পুলিশ বিভাগের শীর্ষ নেতৃত্ব ভেঙে পড়েছে বলে তিনি জানান। তবে প্রতিরক্ষা বাহিনী এখনও অটুট রয়েছে।

নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, হাজার হাজার খুনি, লুটেরা ও অপরাধীর সেনানিবাসে আশ্রয় গ্রহণ, সেখান থেকে নিরাপদে দেশত্যাগ, কর্মস্থল থেকে কিছু জেনারেলের পালিয়ে যাওয়া, অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের বৈরি রাষ্ট্রে আশ্রয় গ্রহণ এবং সেনাগোয়েন্দাদের দ্বারা কিছু অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তার ব্যক্তিগত তথ্য জনসম্মুখে প্রকাশ করে তাদের জব্দ করার চেষ্টার কারণে সশস্ত্র বাহিনীর ব্যাপক অমর্যাদা হয়েছে।

এনসিপি’র আহ্বায়ক দৃঢ়তার সঙ্গে ঘোষণা করেন, বিভিন্ন বাহিনীর ভেতরে লুকিয়ে থাকা গুম, খুন, নির্যাতন, দুর্নীতি ও লুটপাটের সঙ্গে জড়িত সকল অপরাধীকে শনাক্ত করা হবে। একটি সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে প্রকৃত দায়ীদের বিচারের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।

তিনি অভিযোগ করেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর এসব অপরাধীকে গ্রেফতার এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য সশস্ত্র বাহিনীকে ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা দিয়ে সারাদেশে নামানো হলেও, সুপিরিয়র কমান্ডের অনাগ্রহের কারণে তারা কোনো কার্যকর ভূমিকা পালন করেনি। ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’ শুরু হলেও অপরাধী শনাক্তকরণ, অস্ত্র উদ্ধার বা গ্রেফতারের মতো কোনো উল্লেখযোগ্য সাফল্য আসেনি বলে তিনি মন্তব্য করেন।

নাহিদ ইসলাম জানান, গুমবিষয়ক কমিশন ১,৮৫০টির বেশি অভিযোগ নিয়ে কাজ করছে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে নিরাপত্তা বাহিনীর ভেতরে লুকিয়ে থাকা ফ্যাসিবাদের দোসররা তথ্য ও আলামত নষ্ট করে তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে বিভিন্ন ক্ষেত্রে তারা ক্রমাগত অসহযোগিতা করেই চলেছে।

তার ভাষায়, এনসিপি’র লড়াই হবে সেই ‘নিপীড়নের ব্যবস্থা’ এবং ‘বিচারহীনতার সংস্কৃতি’ সমূলে উৎপাটন করা, যা আওয়ামী ফ্যাসিবাদের সকল প্রবণতা সমাজ থেকে মুছে ফেলবে।