ভারতের লোকসভায় এক প্রশ্নের লিখিত জবাবে দেশটির পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কীর্তি বর্ধন সিং বলেছেন, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক সম্পূর্ণ স্বাধীন এবং কোনো তৃতীয় দেশের প্রভাবের ওপর নির্ভরশীল নয়। তিনি আরও জানান, গণতান্ত্রিক, স্থিতিশীল, শান্তিপূর্ণ, প্রগতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশের প্রতি ভারতের সমর্থন অব্যাহত থাকবে, যা বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকেও অবহিত করা হয়েছে।
শুক্রবার ভারতীয় সংসদে বাংলাদেশ পরিস্থিতি নিয়ে উত্থাপিত বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তিনি জোর দিয়ে বলেন, যেখানে ভারতের জাতীয় স্বার্থ জড়িত, সেগুলোর ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখা হচ্ছে এবং স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রীর কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বর্তমানে কোনো স্পর্শকাতর সম্পর্ক চলছে কিনা এবং পাকিস্তান এর সুযোগ নিতে পারে কিনা, যা ভারতের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। জবাবে কীর্তি বর্ধন সিং বলেন, প্রতিবেশী দেশ হিসেবে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে রয়েছে অত্যন্ত গভীর ঐতিহাসিক, ভৌগোলিক, সাংস্কৃতিক ও ভাষাগত সম্পর্ক। আমাদের সামাজিক বন্ধনও অভিন্ন। দুই দেশের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের মূল লক্ষ্য হলো জনকল্যাণমুখী উন্নয়ন। বিদ্যমান প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর আওতায় নিয়মিত বিভিন্ন বৈঠক ও পারস্পরিক মতবিনিময় অব্যাহত রয়েছে।
পাকিস্তান কোনো সুযোগ নিচ্ছে কিনা, এই প্রশ্নের জবাবে তিনি পুনরায় উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক অন্য দেশগুলোর থেকে স্বাধীন। তিনি আরও জানান, বাংলাদেশে ভারতের জাতীয় স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোর ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখা হচ্ছে এবং সেগুলো রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের প্রসঙ্গে ভারতীয় প্রতিমন্ত্রী বলেন, ভারত ধারাবাহিকভাবে বাংলাদেশ সরকারের কাছে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা ও সুরক্ষার বিষয়টি সর্বোচ্চ পর্যায়ের বৈঠকসহ সকল প্রাসঙ্গিক পরিবেশে উত্থাপন করে আসছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নিজেও এই বিষয়টি তুলেছেন। গত বছরের ১৬ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেনের সঙ্গে বৈঠকে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীও বিষয়টি আলোচনা করেছেন।
আলাদা আরেকটি প্রশ্নে তাকে জিজ্ঞেস করা হয়, ‘বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও চীনের মধ্যে ক্রমবর্ধমান জোটের’ বিষয়টি ভারত সরকার আমলে নিয়েছে কিনা। কারণ এই দেশগুলোর সঙ্গেই ভারতের সবচেয়ে বেশি সীমানা রয়েছে। যদি এটি আমলে নেওয়া হয়েও থাকে, তাহলে এ থেকে উদ্ভূত সম্ভাব্য অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা হুমকি সম্পর্কে সরকার কী পদক্ষেপ নিচ্ছে?
জবাবে ভারতীয় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার ভারতের নিরাপত্তা ও অর্থনীতি সংক্রান্ত স্বার্থের ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখছে এবং এগুলো রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে। এর মধ্যে ভারতের প্রতিবেশী দেশগুলোর বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘সবার আগে প্রতিবেশি’ নীতি অনুযায়ী ভারত সরকার প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে নিয়মিত কূটনৈতিক আলোচনা, উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড, জনগণের সঙ্গে যোগাযোগ, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং যাতায়াত ব্যবস্থা উন্নয়নের মাধ্যমে সম্পর্ক বজায় রেখে চলছে। এছাড়া নিজস্ব নিরাপত্তা ও স্বার্থ রক্ষা করার পাশাপাশি এই অঞ্চলে শান্তি ও সমৃদ্ধি বজায় রাখতে ভারত সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ বলেও জানান তিনি।
রিপোর্টারের নাম 























