ঢাকা ০২:৩৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড: মুক্তিযোদ্ধা মার্কেটসহ ১০ দোকান ছাই, ২ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি অনুমান

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:৪৩:১০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ পৌর বাজারে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স মার্কেটসহ অন্তত দশটি দোকান সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়ে গেছে। শুক্রবার বিকেলে সংঘটিত এই বিধ্বংসী ঘটনায় ব্যবসায়ীদের আনুমানিক প্রায় ২ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রতিদিনের মতো শুক্রবার বিকেলে বেচাকেনা চলছিল ঈশ্বরগঞ্জ পৌর বাজারে। আনুমানিক বিকেল পৌনে ৪টার দিকে মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স মার্কেটের পূর্ব দিক থেকে হঠাৎ ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা যায়। স্থানীয়দের প্রাথমিক ধারণা, বাজারের একটি লেপ-তোশকের দোকান থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যেই সেই ধোঁয়া পুরো বাজার এলাকাকে আচ্ছন্ন করে ফেলে এবং আগুন দ্রুতগতিতে আশপাশের দোকানগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে, যা নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন হয়ে দাঁড়ায়।

অগ্নিকাণ্ডের তীব্রতায় মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন সংলগ্ন অন্তত দশটি দোকান ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর মধ্যে পাঁচটি দোকানের যাবতীয় মালামালসহ পুরোপুরি পুড়ে ছাই হয়ে গেছে এবং বাকি পাঁচটিতেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সাধিত হয়েছে।

খবর পেয়ে ঈশ্বরগঞ্জ, গৌরীপুর ও নান্দাইল ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে ছুটে আসে। প্রায় দেড় ঘণ্টার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় তারা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। ফায়ার সার্ভিসের পাশাপাশি সেনাবাহিনী ও পুলিশ সদস্যরাও আগুন নেভানোর কাজে সহায়তা করেন। স্থানীয় জনসাধারণ পানি সরবরাহ এবং ক্ষতিগ্রস্ত দোকানের মালামাল সরিয়ে নিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। অগ্নিকাণ্ডের ফলে ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কের উভয় পাশে প্রায় দেড় ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে, যার কারণে সাময়িক ভোগান্তির শিকার হন যাত্রীরা।

ক্ষতিগ্রস্ত দোকানগুলোর মধ্যে মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনের ‘চলন’ নামক একটি কসমেটিকস দোকানের সমস্ত মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এছাড়াও তিনটি লেপ-তোশকের দোকান এবং একটি খাবার হোটেলের সমস্ত আসবাবপত্র ও মালামাল আগুনে পুড়ে যায়। সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিস, একটি ওষুধের ফার্মেসি, ফ্লেক্সিলোডের দোকানসহ আরও পাঁচটি দোকানে ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত ‘চলন’ কসমেটিকসের মালিক মোশাররফ হোসেন ফারুক জানান, অগ্নিকাণ্ডে তাঁর প্রায় ৫০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। পুড়ে যাওয়া অপর একটি মার্কেটের মালিক লুৎফুল কবীর লিন্টু মিয়া বলেন, তাঁর ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকার মতো ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। লেপ-তোশকের দোকানের মালিক মো. শামসু মিয়া তাঁর প্রায় ২৫ লাখ টাকা ক্ষতির কথা উল্লেখ করেন।

ঈশ্বরগঞ্জ পৌর বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি এ কে এম হারুন অর রশিদ এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে বলেন, “অগ্নিকাণ্ডে বাজারের বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ী মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। আমরা ক্ষতিগ্রস্তদের একটি তালিকা তৈরি করে তাঁদের পাশে দাঁড়াবো। একইসাথে উপজেলা প্রশাসন ও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গের প্রতিও ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।”

ময়মনসিংহ ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) পূর্ণ চন্দ্র মুৎসুদ্দির প্রাথমিক ধারণা, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। তবে ক্ষতির পরিমাণ এখনই নির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব নয় বলে তিনি জানান।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সানজিদা রহমান অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের আবেদন সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদানের আশ্বাস দেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বায়ুদূষণ রোধে বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী চীন, পরিবেশমন্ত্রীর সঙ্গে রাষ্ট্রদূতের বৈঠক

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড: মুক্তিযোদ্ধা মার্কেটসহ ১০ দোকান ছাই, ২ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি অনুমান

আপডেট সময় : ০৮:৪৩:১০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ পৌর বাজারে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স মার্কেটসহ অন্তত দশটি দোকান সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়ে গেছে। শুক্রবার বিকেলে সংঘটিত এই বিধ্বংসী ঘটনায় ব্যবসায়ীদের আনুমানিক প্রায় ২ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রতিদিনের মতো শুক্রবার বিকেলে বেচাকেনা চলছিল ঈশ্বরগঞ্জ পৌর বাজারে। আনুমানিক বিকেল পৌনে ৪টার দিকে মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স মার্কেটের পূর্ব দিক থেকে হঠাৎ ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা যায়। স্থানীয়দের প্রাথমিক ধারণা, বাজারের একটি লেপ-তোশকের দোকান থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যেই সেই ধোঁয়া পুরো বাজার এলাকাকে আচ্ছন্ন করে ফেলে এবং আগুন দ্রুতগতিতে আশপাশের দোকানগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে, যা নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন হয়ে দাঁড়ায়।

অগ্নিকাণ্ডের তীব্রতায় মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন সংলগ্ন অন্তত দশটি দোকান ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর মধ্যে পাঁচটি দোকানের যাবতীয় মালামালসহ পুরোপুরি পুড়ে ছাই হয়ে গেছে এবং বাকি পাঁচটিতেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সাধিত হয়েছে।

খবর পেয়ে ঈশ্বরগঞ্জ, গৌরীপুর ও নান্দাইল ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে ছুটে আসে। প্রায় দেড় ঘণ্টার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় তারা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। ফায়ার সার্ভিসের পাশাপাশি সেনাবাহিনী ও পুলিশ সদস্যরাও আগুন নেভানোর কাজে সহায়তা করেন। স্থানীয় জনসাধারণ পানি সরবরাহ এবং ক্ষতিগ্রস্ত দোকানের মালামাল সরিয়ে নিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। অগ্নিকাণ্ডের ফলে ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কের উভয় পাশে প্রায় দেড় ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে, যার কারণে সাময়িক ভোগান্তির শিকার হন যাত্রীরা।

ক্ষতিগ্রস্ত দোকানগুলোর মধ্যে মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনের ‘চলন’ নামক একটি কসমেটিকস দোকানের সমস্ত মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এছাড়াও তিনটি লেপ-তোশকের দোকান এবং একটি খাবার হোটেলের সমস্ত আসবাবপত্র ও মালামাল আগুনে পুড়ে যায়। সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিস, একটি ওষুধের ফার্মেসি, ফ্লেক্সিলোডের দোকানসহ আরও পাঁচটি দোকানে ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত ‘চলন’ কসমেটিকসের মালিক মোশাররফ হোসেন ফারুক জানান, অগ্নিকাণ্ডে তাঁর প্রায় ৫০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। পুড়ে যাওয়া অপর একটি মার্কেটের মালিক লুৎফুল কবীর লিন্টু মিয়া বলেন, তাঁর ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকার মতো ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। লেপ-তোশকের দোকানের মালিক মো. শামসু মিয়া তাঁর প্রায় ২৫ লাখ টাকা ক্ষতির কথা উল্লেখ করেন।

ঈশ্বরগঞ্জ পৌর বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি এ কে এম হারুন অর রশিদ এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে বলেন, “অগ্নিকাণ্ডে বাজারের বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ী মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। আমরা ক্ষতিগ্রস্তদের একটি তালিকা তৈরি করে তাঁদের পাশে দাঁড়াবো। একইসাথে উপজেলা প্রশাসন ও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গের প্রতিও ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।”

ময়মনসিংহ ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) পূর্ণ চন্দ্র মুৎসুদ্দির প্রাথমিক ধারণা, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। তবে ক্ষতির পরিমাণ এখনই নির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব নয় বলে তিনি জানান।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সানজিদা রহমান অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের আবেদন সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদানের আশ্বাস দেন।