ঢাকা ০২:২৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬

সিলেটে ভোটের মাঠে নতুন ধারা: সংঘাতহীন প্রচারে ‘মডেল নির্বাচন’ প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:১৬:১৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

পোস্টার, মিছিল আর আপ্যায়নের চিরাচরিত নির্বাচনি চিত্রের অনুপস্থিতি সত্ত্বেও সিলেটের ভোটের উত্তাপ এবার ভিন্ন মাত্রা পেয়েছে। সংঘাতমুক্ত পরিবেশ, প্রার্থীদের পারস্পরিক সহনশীলতা এবং নিজ গ্রামে ফিরে ভোট দেওয়ার প্রবণতা—এই তিন বৈশিষ্ট্যে সিলেটের নির্বাচনি প্রচার ইতোমধ্যে ‘মডেল প্রচার’ হিসেবে সর্বমহলে আলোচিত হচ্ছে।

সিলেটের ছয়টি সংসদীয় আসনে প্রার্থীরা ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে দিন-রাত প্রচার চালাচ্ছেন। পাড়া-মহল্লা থেকে গ্রাম পর্যন্ত পথসভা, গণসংযোগ এবং স্লোগানে মুখর থাকলেও, নতুন আচরণবিধির কারণে এবার পোস্টারিং ও আপ্যায়নের চেনা দৃশ্য চোখে পড়ছে না। এই পরিবর্তন সত্ত্বেও ভোটারদের আগ্রহে কোনো ভাটা পড়েনি।

আনুষ্ঠানিক প্রচারের দুই-তৃতীয়াংশ সময় পেরিয়ে গেলেও সিলেট জেলায় এখন পর্যন্ত কোনো সংঘাত বা সহিংসতার খবর পাওয়া যায়নি। জেলার ছয় আসনে বিভিন্ন দলের মোট ৩৩ প্রার্থী নির্বিঘ্নে ও আনন্দমুখর পরিবেশে প্রচার চালাচ্ছেন। রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলম জানান, গত ১৫ দিনে কোনো অঘটন ঘটেনি এবং কোনো প্রার্থীর পক্ষ থেকে প্রচার কর্মকাণ্ডে বাধার মুখে পড়ার লিখিত অভিযোগও পাওয়া যায়নি। তিনি প্রার্থীদের মধ্যে পারস্পরিক সহনশীলতা ও সৌহার্দ্য বজায় থাকার কথা উল্লেখ করে বলেন, সিলেটে এক প্রকার ‘মডেল প্রচার’ চলছে। প্রশাসন সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ থেকে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্কতায় রয়েছে। সীমান্তবর্তী আসনগুলোতে পুলিশের পাশাপাশি বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) দায়িত্ব পালন করবে।

সিলেট মহানগর পুলিশ কমিশনার আবদুল কুদ্দুছ পিপিএম জানান, সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অত্যন্ত ভালো। ছোটখাটো দু-একটি স্থানীয় ঘটনা ছাড়া বড় ধরনের কোনো সমস্যা হয়নি। তিনি বলেন, সকল টিম প্রস্তুত রয়েছে এবং কেন্দ্রগুলো যাচাই-বাছাই করা হয়েছে। ভোটাররা নির্বিঘ্নে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. সরওয়ার উদ্দিন চৌধুরীও সিলেটের ভোটের পরিবেশ নিয়ে আশাবাদী। তার বিশ্বাস, এবার বিপুলসংখ্যক ভোটার ভোট দিতে যাবেন।

সিলেট জেলার ছয়টি আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ২৯ লাখ ১৬ হাজার ৬৫২ জন। এর মধ্যে সিলেট-১ আসনে ৬ লাখ ৮০ হাজার ৯৪৬, সিলেট-২-এ ৩ লাখ ৬৮ হাজার ৯৩২, সিলেট-৩-এ ৪ লাখ ১৬ হাজার, সিলেট-৪-এ ৫ লাখ ১২ হাজার ৯৩৩, সিলেট-৫-এ ৪ লাখ ২৮ হাজার ৭৪৮ এবং সিলেট-৬-এ ৫ লাখ ৯ হাজার ৯৩ জন ভোটার রয়েছেন।

তবে ভোট নিয়ে সাধারণ মানুষের আগ্রহ স্পষ্ট হলেও, অনেকেই বলছেন, পোস্টারবিহীন ও আপ্যায়নবিহীন প্রচারে আগের উৎসবের আমেজ নেই। শহরতলির ইসলামপুরের বাসিন্দা হারিছ আলীর মন্তব্য, ‘এ কেমন ভোট! পোস্টার নেই, খাওয়া-দাওয়া নেই!’ বিভিন্ন দলের কর্মী-সমর্থকরাও একই সুরে কথা বলছেন। তাদের মতে, ভোট মানেই খাওয়া-দাওয়া, পোস্টারে ছেয়ে যাওয়া শহর, নেতার বাসায় খানাপিনা আর জমজমাট আড্ডা। এমন উৎসবমুখর পরিবেশ ছাড়া নির্বাচন যেন প্রাণহীন।

সিলেটের ছয়টি আসনে বিভিন্ন দলের মোট ৩৩ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, জেলার ছয়টি আসনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। বিএনপি নিজেদের জন্য ৫টি আসন রেখে শরিকদের জন্য একটি ছেড়েছে। অন্যদিকে, জামায়াত নিজেদের হাতে অর্ধেক আসন রেখে বাকি তিনটি শরিকদের দিয়েছে।

শহর ও গ্রামের অধিকাংশ ভোটারই এবার ভোট দিতে আগ্রহী। অনেক শিক্ষার্থী, পেশাজীবী ও শ্রমজীবী মানুষ ভোটের দিন নিজ নিজ গ্রামে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র এবং নবীগঞ্জের বাসিন্দা মঈনউদ্দিন জানান, এবারই প্রথম ভোট দেবেন, তাই কোনোভাবেই মিস করতে চান না। তার মধ্যে একটি ভালো অনুভূতি কাজ করছে। দিরাই উপজেলার জাবেদ চৌধুরী তার স্ত্রী, মা, ভাই, ভাবিসহ পুরো পরিবার নিয়ে কুলঞ্জ গ্রামে ভোট দিতে যাবেন। তাদের পরিবারের একজন সদস্য সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ায় তারা ভোট দেওয়ার পাশাপাশি বেড়াতেও যাবেন। নেত্রকোনার মদনের আটগ্রামের বাসিন্দা ৭০ বছর বয়সী সুন্দরী বিবিও ভোট দিতে যাবেন। তিনি বলেন, ‘না গেলে তো ভোটটা নষ্ট হবে’।

স্থানীয় রাজনীতিক ও ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সিলেট বিভাগের বেশিরভাগ আসনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের ‘ধানের শীষ’ প্রতীকের প্রার্থী এবং জামায়াতে ইসলামীর ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকের প্রার্থীর মধ্যে। কিছু আসনে জোটের অন্যান্য প্রার্থী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর উপস্থিতিতে লড়াই আরও জমে উঠতে পারে।

জেলার ছয়টি আসনে প্রধান দুই জোটের প্রার্থীদের মধ্যে সিলেট-১ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের খন্দকার আব্দুল মুক্তাদীর এবং জামায়াতে ইসলামীর মাওলানা হাবিবুর রহমান। সিলেট-২ আসনে বিএনপির হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন নিখোঁজ নেতা ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তাহসিনা রুশদীর লুনা; অন্যদিকে ১১ দলীয় জোটের পক্ষে রয়েছেন খেলাফত মজলিসের মুনতাছির আলী। সিলেট-৩ আসনে বিএনপির এমএ মালিক এবং ১১ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মুসলেহ উদ্দীন রাজু। সিলেট-৪ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিএনপির আরিফুল হক চৌধুরী এবং জামায়াতে ইসলামীর জয়নাল আবেদীন। সিলেট-৫ আসনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের পক্ষ থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক আর ১১ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে খেলাফত মজলিসের আবুল হাসান। এ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী মামুনুর রশীদও (চাকসু মামুন) শক্ত প্রার্থী হিসেবে গণ্য হচ্ছেন। আর সিলেট-৬ আসনে বিএনপির প্রার্থী এমরান আহমদ চৌধুরী। এখানে জামায়াতের প্রার্থী হচ্ছেন মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন।

সব মিলিয়ে সংঘাতহীন প্রচার, প্রশাসনের কঠোর নজরদারি এবং ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ সিলেটের এই নির্বাচনকে একটি ‘মডেল নির্বাচন’ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে পারে বলে স্থানীয় ভোটার ও পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বায়ুদূষণ রোধে বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী চীন, পরিবেশমন্ত্রীর সঙ্গে রাষ্ট্রদূতের বৈঠক

সিলেটে ভোটের মাঠে নতুন ধারা: সংঘাতহীন প্রচারে ‘মডেল নির্বাচন’ প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশা

আপডেট সময় : ০৪:১৬:১৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

পোস্টার, মিছিল আর আপ্যায়নের চিরাচরিত নির্বাচনি চিত্রের অনুপস্থিতি সত্ত্বেও সিলেটের ভোটের উত্তাপ এবার ভিন্ন মাত্রা পেয়েছে। সংঘাতমুক্ত পরিবেশ, প্রার্থীদের পারস্পরিক সহনশীলতা এবং নিজ গ্রামে ফিরে ভোট দেওয়ার প্রবণতা—এই তিন বৈশিষ্ট্যে সিলেটের নির্বাচনি প্রচার ইতোমধ্যে ‘মডেল প্রচার’ হিসেবে সর্বমহলে আলোচিত হচ্ছে।

সিলেটের ছয়টি সংসদীয় আসনে প্রার্থীরা ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে দিন-রাত প্রচার চালাচ্ছেন। পাড়া-মহল্লা থেকে গ্রাম পর্যন্ত পথসভা, গণসংযোগ এবং স্লোগানে মুখর থাকলেও, নতুন আচরণবিধির কারণে এবার পোস্টারিং ও আপ্যায়নের চেনা দৃশ্য চোখে পড়ছে না। এই পরিবর্তন সত্ত্বেও ভোটারদের আগ্রহে কোনো ভাটা পড়েনি।

আনুষ্ঠানিক প্রচারের দুই-তৃতীয়াংশ সময় পেরিয়ে গেলেও সিলেট জেলায় এখন পর্যন্ত কোনো সংঘাত বা সহিংসতার খবর পাওয়া যায়নি। জেলার ছয় আসনে বিভিন্ন দলের মোট ৩৩ প্রার্থী নির্বিঘ্নে ও আনন্দমুখর পরিবেশে প্রচার চালাচ্ছেন। রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলম জানান, গত ১৫ দিনে কোনো অঘটন ঘটেনি এবং কোনো প্রার্থীর পক্ষ থেকে প্রচার কর্মকাণ্ডে বাধার মুখে পড়ার লিখিত অভিযোগও পাওয়া যায়নি। তিনি প্রার্থীদের মধ্যে পারস্পরিক সহনশীলতা ও সৌহার্দ্য বজায় থাকার কথা উল্লেখ করে বলেন, সিলেটে এক প্রকার ‘মডেল প্রচার’ চলছে। প্রশাসন সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ থেকে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্কতায় রয়েছে। সীমান্তবর্তী আসনগুলোতে পুলিশের পাশাপাশি বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) দায়িত্ব পালন করবে।

সিলেট মহানগর পুলিশ কমিশনার আবদুল কুদ্দুছ পিপিএম জানান, সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অত্যন্ত ভালো। ছোটখাটো দু-একটি স্থানীয় ঘটনা ছাড়া বড় ধরনের কোনো সমস্যা হয়নি। তিনি বলেন, সকল টিম প্রস্তুত রয়েছে এবং কেন্দ্রগুলো যাচাই-বাছাই করা হয়েছে। ভোটাররা নির্বিঘ্নে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. সরওয়ার উদ্দিন চৌধুরীও সিলেটের ভোটের পরিবেশ নিয়ে আশাবাদী। তার বিশ্বাস, এবার বিপুলসংখ্যক ভোটার ভোট দিতে যাবেন।

সিলেট জেলার ছয়টি আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ২৯ লাখ ১৬ হাজার ৬৫২ জন। এর মধ্যে সিলেট-১ আসনে ৬ লাখ ৮০ হাজার ৯৪৬, সিলেট-২-এ ৩ লাখ ৬৮ হাজার ৯৩২, সিলেট-৩-এ ৪ লাখ ১৬ হাজার, সিলেট-৪-এ ৫ লাখ ১২ হাজার ৯৩৩, সিলেট-৫-এ ৪ লাখ ২৮ হাজার ৭৪৮ এবং সিলেট-৬-এ ৫ লাখ ৯ হাজার ৯৩ জন ভোটার রয়েছেন।

তবে ভোট নিয়ে সাধারণ মানুষের আগ্রহ স্পষ্ট হলেও, অনেকেই বলছেন, পোস্টারবিহীন ও আপ্যায়নবিহীন প্রচারে আগের উৎসবের আমেজ নেই। শহরতলির ইসলামপুরের বাসিন্দা হারিছ আলীর মন্তব্য, ‘এ কেমন ভোট! পোস্টার নেই, খাওয়া-দাওয়া নেই!’ বিভিন্ন দলের কর্মী-সমর্থকরাও একই সুরে কথা বলছেন। তাদের মতে, ভোট মানেই খাওয়া-দাওয়া, পোস্টারে ছেয়ে যাওয়া শহর, নেতার বাসায় খানাপিনা আর জমজমাট আড্ডা। এমন উৎসবমুখর পরিবেশ ছাড়া নির্বাচন যেন প্রাণহীন।

সিলেটের ছয়টি আসনে বিভিন্ন দলের মোট ৩৩ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, জেলার ছয়টি আসনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। বিএনপি নিজেদের জন্য ৫টি আসন রেখে শরিকদের জন্য একটি ছেড়েছে। অন্যদিকে, জামায়াত নিজেদের হাতে অর্ধেক আসন রেখে বাকি তিনটি শরিকদের দিয়েছে।

শহর ও গ্রামের অধিকাংশ ভোটারই এবার ভোট দিতে আগ্রহী। অনেক শিক্ষার্থী, পেশাজীবী ও শ্রমজীবী মানুষ ভোটের দিন নিজ নিজ গ্রামে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র এবং নবীগঞ্জের বাসিন্দা মঈনউদ্দিন জানান, এবারই প্রথম ভোট দেবেন, তাই কোনোভাবেই মিস করতে চান না। তার মধ্যে একটি ভালো অনুভূতি কাজ করছে। দিরাই উপজেলার জাবেদ চৌধুরী তার স্ত্রী, মা, ভাই, ভাবিসহ পুরো পরিবার নিয়ে কুলঞ্জ গ্রামে ভোট দিতে যাবেন। তাদের পরিবারের একজন সদস্য সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ায় তারা ভোট দেওয়ার পাশাপাশি বেড়াতেও যাবেন। নেত্রকোনার মদনের আটগ্রামের বাসিন্দা ৭০ বছর বয়সী সুন্দরী বিবিও ভোট দিতে যাবেন। তিনি বলেন, ‘না গেলে তো ভোটটা নষ্ট হবে’।

স্থানীয় রাজনীতিক ও ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সিলেট বিভাগের বেশিরভাগ আসনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের ‘ধানের শীষ’ প্রতীকের প্রার্থী এবং জামায়াতে ইসলামীর ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকের প্রার্থীর মধ্যে। কিছু আসনে জোটের অন্যান্য প্রার্থী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর উপস্থিতিতে লড়াই আরও জমে উঠতে পারে।

জেলার ছয়টি আসনে প্রধান দুই জোটের প্রার্থীদের মধ্যে সিলেট-১ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের খন্দকার আব্দুল মুক্তাদীর এবং জামায়াতে ইসলামীর মাওলানা হাবিবুর রহমান। সিলেট-২ আসনে বিএনপির হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন নিখোঁজ নেতা ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তাহসিনা রুশদীর লুনা; অন্যদিকে ১১ দলীয় জোটের পক্ষে রয়েছেন খেলাফত মজলিসের মুনতাছির আলী। সিলেট-৩ আসনে বিএনপির এমএ মালিক এবং ১১ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মুসলেহ উদ্দীন রাজু। সিলেট-৪ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিএনপির আরিফুল হক চৌধুরী এবং জামায়াতে ইসলামীর জয়নাল আবেদীন। সিলেট-৫ আসনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের পক্ষ থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক আর ১১ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে খেলাফত মজলিসের আবুল হাসান। এ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী মামুনুর রশীদও (চাকসু মামুন) শক্ত প্রার্থী হিসেবে গণ্য হচ্ছেন। আর সিলেট-৬ আসনে বিএনপির প্রার্থী এমরান আহমদ চৌধুরী। এখানে জামায়াতের প্রার্থী হচ্ছেন মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন।

সব মিলিয়ে সংঘাতহীন প্রচার, প্রশাসনের কঠোর নজরদারি এবং ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ সিলেটের এই নির্বাচনকে একটি ‘মডেল নির্বাচন’ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে পারে বলে স্থানীয় ভোটার ও পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন।