ঢাকা ১১:২৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬

‘সবার আগে বাংলাদেশ’: রাষ্ট্র সংস্কার ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের অঙ্গীকারে বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহার

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১০:৩২:৩৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৭ বার পড়া হয়েছে

রাষ্ট্র পরিচালনার মূল দর্শন হিসেবে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য পূর্ণাঙ্গ ইশতেহার ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। শুক্রবার রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দলটির ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা ও এই নির্বাচনি রূপরেখা তুলে ধরেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

পাঁচটি প্রধান অধ্যায়ে বিন্যস্ত এই ইশতেহারে রাষ্ট্র সংস্কার, অর্থনীতি পুনর্গঠন, সামাজিক সুরক্ষা এবং আঞ্চলিক উন্নয়নের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। একটি আধুনিক, বৈষম্যহীন ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ বিনির্মাণের লক্ষ্যেই এই সমন্বিত রূপরেখা প্রণয়ন করা হয়েছে বলে দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়।

ইশতেহারের প্রথম অধ্যায়ে রাষ্ট্রব্যবস্থার আমূল সংস্কারের অঙ্গীকার করা হয়েছে। এতে হারানো গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, মহান মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে সমুন্নত রাখা, সংবিধানের প্রয়োজনীয় পরিমার্জন এবং জাতীয় ঐক্যের ডাক দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সুশাসন নিশ্চিত করতে বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা, পুলিশ বাহিনীর সংস্কার এবং স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী ও জনবান্ধব করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

দ্বিতীয় অধ্যায়ে গুরুত্ব পেয়েছে বৈষম্যহীন সমাজ ও টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নের পরিকল্পনা। দারিদ্র্য বিমোচন, সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী সম্প্রসারণ এবং নারী ক্ষমতায়নের পাশাপাশি কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে ইশতেহারে। একইসাথে দেশব্যাপী ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি, মানসম্মত শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা এবং প্রবাসী শ্রমিকদের কল্যাণে বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়ার অঙ্গীকার করা হয়েছে। পরিবেশ সংরক্ষণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় আধুনিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কৌশলও এই অধ্যায়ের অন্তর্ভুক্ত।

দেশের বর্তমান ভঙ্গুর অর্থনীতিকে পুনর্গঠন ও পুনরুদ্ধারের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা স্থান পেয়েছে তৃতীয় অধ্যায়ে। বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি, ব্যাংক ও আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং শিল্প ও সেবা খাতের টেকসই বিকাশের ওপর জোর দিয়েছে বিএনপি। এছাড়া তথ্য-প্রযুক্তি (আইসিটি), বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের সংস্কার, আধুনিক পরিবহন ব্যবস্থা এবং রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনার পরিকল্পনা ইশতেহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

আঞ্চলিক বৈষম্য দূর করতে চতুর্থ অধ্যায়ে সুষম উন্নয়নের রূপরেখা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে চট্টগ্রামের গুরুত্ব বৃদ্ধি, হাওর ও উপকূলীয় অঞ্চলের জন্য বিশেষ উন্নয়ন প্রকল্প এবং নিরাপদ ও টেকসই মেগাসিটি হিসেবে ঢাকাকে পুনর্গঠন করা। পর্যটন শিল্পের বিকাশেও নতুন পরিকল্পনার কথা বলা হয়েছে এই অংশে।

ইশতেহারের সর্বশেষ বা পঞ্চম অধ্যায়ে ধর্ম, সংস্কৃতি ও নৈতিক মূল্যবোধের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সকল ধর্মের মানুষের সহাবস্থান ও ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষা, পাহাড়ি ও সমতলের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর অধিকার নিশ্চিত করা এবং গণমাধ্যমের অবারিত স্বাধীনতা প্রদানের অঙ্গীকার করা হয়েছে। পাশাপাশি ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের উন্নয়ন এবং সমাজে নৈতিকতার শক্ত পুনর্জাগরণ ঘটানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিএনপি তাদের এই নির্বাচনি ইশতেহার সমাপ্ত করেছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

চট্টগ্রামে আওয়ামী লীগের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবিতে ছাত্রলীগ-যুবলীগের বিক্ষোভ মিছিল

‘সবার আগে বাংলাদেশ’: রাষ্ট্র সংস্কার ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের অঙ্গীকারে বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহার

আপডেট সময় : ১০:৩২:৩৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

রাষ্ট্র পরিচালনার মূল দর্শন হিসেবে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য পূর্ণাঙ্গ ইশতেহার ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। শুক্রবার রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দলটির ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা ও এই নির্বাচনি রূপরেখা তুলে ধরেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

পাঁচটি প্রধান অধ্যায়ে বিন্যস্ত এই ইশতেহারে রাষ্ট্র সংস্কার, অর্থনীতি পুনর্গঠন, সামাজিক সুরক্ষা এবং আঞ্চলিক উন্নয়নের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। একটি আধুনিক, বৈষম্যহীন ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ বিনির্মাণের লক্ষ্যেই এই সমন্বিত রূপরেখা প্রণয়ন করা হয়েছে বলে দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়।

ইশতেহারের প্রথম অধ্যায়ে রাষ্ট্রব্যবস্থার আমূল সংস্কারের অঙ্গীকার করা হয়েছে। এতে হারানো গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, মহান মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে সমুন্নত রাখা, সংবিধানের প্রয়োজনীয় পরিমার্জন এবং জাতীয় ঐক্যের ডাক দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সুশাসন নিশ্চিত করতে বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা, পুলিশ বাহিনীর সংস্কার এবং স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী ও জনবান্ধব করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

দ্বিতীয় অধ্যায়ে গুরুত্ব পেয়েছে বৈষম্যহীন সমাজ ও টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নের পরিকল্পনা। দারিদ্র্য বিমোচন, সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী সম্প্রসারণ এবং নারী ক্ষমতায়নের পাশাপাশি কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে ইশতেহারে। একইসাথে দেশব্যাপী ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি, মানসম্মত শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা এবং প্রবাসী শ্রমিকদের কল্যাণে বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়ার অঙ্গীকার করা হয়েছে। পরিবেশ সংরক্ষণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় আধুনিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কৌশলও এই অধ্যায়ের অন্তর্ভুক্ত।

দেশের বর্তমান ভঙ্গুর অর্থনীতিকে পুনর্গঠন ও পুনরুদ্ধারের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা স্থান পেয়েছে তৃতীয় অধ্যায়ে। বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি, ব্যাংক ও আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং শিল্প ও সেবা খাতের টেকসই বিকাশের ওপর জোর দিয়েছে বিএনপি। এছাড়া তথ্য-প্রযুক্তি (আইসিটি), বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের সংস্কার, আধুনিক পরিবহন ব্যবস্থা এবং রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনার পরিকল্পনা ইশতেহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

আঞ্চলিক বৈষম্য দূর করতে চতুর্থ অধ্যায়ে সুষম উন্নয়নের রূপরেখা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে চট্টগ্রামের গুরুত্ব বৃদ্ধি, হাওর ও উপকূলীয় অঞ্চলের জন্য বিশেষ উন্নয়ন প্রকল্প এবং নিরাপদ ও টেকসই মেগাসিটি হিসেবে ঢাকাকে পুনর্গঠন করা। পর্যটন শিল্পের বিকাশেও নতুন পরিকল্পনার কথা বলা হয়েছে এই অংশে।

ইশতেহারের সর্বশেষ বা পঞ্চম অধ্যায়ে ধর্ম, সংস্কৃতি ও নৈতিক মূল্যবোধের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সকল ধর্মের মানুষের সহাবস্থান ও ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষা, পাহাড়ি ও সমতলের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর অধিকার নিশ্চিত করা এবং গণমাধ্যমের অবারিত স্বাধীনতা প্রদানের অঙ্গীকার করা হয়েছে। পাশাপাশি ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের উন্নয়ন এবং সমাজে নৈতিকতার শক্ত পুনর্জাগরণ ঘটানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিএনপি তাদের এই নির্বাচনি ইশতেহার সমাপ্ত করেছে।