ঢাকা ০২:২০ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬

ইনকিলাব মঞ্চের বিক্ষোভazo পুলিশি লাঠিপেটা ও কাঁদানে গ্যাসে রণক্ষেত্র ঢাকা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:১০:২৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড় থেকে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনা অভিমুখে ইনকিলাব মঞ্চের একটি মিছিলকে কেন্দ্র করে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সংগঠনটির নেতাকর্মীদের ওপর সাউন্ড গ্রেনেড, টিয়ারশেল নিক্ষেপ ও জলকামান ব্যবহার করে পুলিশ। এই সময় লাঠিচার্জের ঘটনাও ঘটে, যা পরস্থিতিকে রণক্ষেত্রে পরিণত করে। শাহবাগ, হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়, কাকরাইল ও পরিবাগ এলাকা জুড়ে এই সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, এই ঘটনায় ইনকিলাব মঞ্চের নেতা আবদুল্লাহ আল জাবেরসহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, শুক্রবার বেলা সাড়ে ৩টার দিকে শাহবাগ-ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়ে অবস্থানরত আন্দোলনকারীরা পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে যমুনার দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করলে প্রথমে পুলিশ জলকামান ব্যবহার করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার নামে পুলিশ দফায় দফায় টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। এরপর পুলিশ লাঠিচার্জ শুরু করলে আন্দোলনকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। তবে কিছুক্ষণের মধ্যেই তারা পুনরায় সংগঠিত হয়ে পুলিশের দিকে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। পুলিশও পাল্টা ব্যবস্থা নেয়।

এই সংঘর্ষ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে শাহবাগ থেকে বাংলামোটর পর্যন্ত পুরো সড়কপথে। এর ফলে শাহবাগ-কাকরাইল সড়ক এবং হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল সংলগ্ন সড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। আশপাশের দোকানপাট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো দ্রুত তাদের শাটার নামিয়ে দেয়। সাধারণ মানুষজন আতঙ্কে নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে ছুটতে থাকে।

আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং নিকটবর্তী ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, টিয়ারশেল ও লাঠিচার্জে বহু শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। কারও মাথায় আঘাত লেগেছে, আবার কেউ শ্বাসকষ্টে ভুগছেন। আহতদের প্রকৃত সংখ্যা এখনো নিশ্চিত না হলেও, এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

রমনা বিভাগের উপকমিশনার মাসুদ আলম জানিয়েছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতেই পুলিশ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। তিনি নিশ্চিত করেছেন যে কোনো ধরনের গুলির ঘটনা ঘটেনি। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, যমুনা এবং এর আশপাশের এলাকা সংবেদনশীল হওয়ায় সেখানে সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ।

বর্তমানে যমুনা, কাকরাইল মসজিদ, হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল, শাহবাগ এবং বাংলামোটর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ, র‍্যাব ও বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে জলকামান প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং সন্দেহভাজন ব্যক্তি ও যানবাহনে তল্লাশি জোরদার করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে ইনকিলাব মঞ্চের ব্যানারে যমুনার সামনে অবস্থান কর্মসূচি চলছে। জাতিসংঘের অধীনে শহীদ শরীফ ওসমান বিন হাদি হত্যার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে তারা এই কর্মসূচি পালন করছেন। আন্দোলনকারীরা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, তাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা রাজপথ ছাড়বেন না।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বিশ্বসাহিত্যের অনুবাদে অসংগতি: একই বইয়ের ভিড়ে উপেক্ষিত বিশ্বসেরারা

ইনকিলাব মঞ্চের বিক্ষোভazo পুলিশি লাঠিপেটা ও কাঁদানে গ্যাসে রণক্ষেত্র ঢাকা

আপডেট সময় : ০৬:১০:২৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড় থেকে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনা অভিমুখে ইনকিলাব মঞ্চের একটি মিছিলকে কেন্দ্র করে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সংগঠনটির নেতাকর্মীদের ওপর সাউন্ড গ্রেনেড, টিয়ারশেল নিক্ষেপ ও জলকামান ব্যবহার করে পুলিশ। এই সময় লাঠিচার্জের ঘটনাও ঘটে, যা পরস্থিতিকে রণক্ষেত্রে পরিণত করে। শাহবাগ, হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়, কাকরাইল ও পরিবাগ এলাকা জুড়ে এই সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, এই ঘটনায় ইনকিলাব মঞ্চের নেতা আবদুল্লাহ আল জাবেরসহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, শুক্রবার বেলা সাড়ে ৩টার দিকে শাহবাগ-ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়ে অবস্থানরত আন্দোলনকারীরা পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে যমুনার দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করলে প্রথমে পুলিশ জলকামান ব্যবহার করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার নামে পুলিশ দফায় দফায় টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। এরপর পুলিশ লাঠিচার্জ শুরু করলে আন্দোলনকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। তবে কিছুক্ষণের মধ্যেই তারা পুনরায় সংগঠিত হয়ে পুলিশের দিকে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। পুলিশও পাল্টা ব্যবস্থা নেয়।

এই সংঘর্ষ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে শাহবাগ থেকে বাংলামোটর পর্যন্ত পুরো সড়কপথে। এর ফলে শাহবাগ-কাকরাইল সড়ক এবং হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল সংলগ্ন সড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। আশপাশের দোকানপাট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো দ্রুত তাদের শাটার নামিয়ে দেয়। সাধারণ মানুষজন আতঙ্কে নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে ছুটতে থাকে।

আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং নিকটবর্তী ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, টিয়ারশেল ও লাঠিচার্জে বহু শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। কারও মাথায় আঘাত লেগেছে, আবার কেউ শ্বাসকষ্টে ভুগছেন। আহতদের প্রকৃত সংখ্যা এখনো নিশ্চিত না হলেও, এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

রমনা বিভাগের উপকমিশনার মাসুদ আলম জানিয়েছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতেই পুলিশ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। তিনি নিশ্চিত করেছেন যে কোনো ধরনের গুলির ঘটনা ঘটেনি। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, যমুনা এবং এর আশপাশের এলাকা সংবেদনশীল হওয়ায় সেখানে সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ।

বর্তমানে যমুনা, কাকরাইল মসজিদ, হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল, শাহবাগ এবং বাংলামোটর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ, র‍্যাব ও বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে জলকামান প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং সন্দেহভাজন ব্যক্তি ও যানবাহনে তল্লাশি জোরদার করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে ইনকিলাব মঞ্চের ব্যানারে যমুনার সামনে অবস্থান কর্মসূচি চলছে। জাতিসংঘের অধীনে শহীদ শরীফ ওসমান বিন হাদি হত্যার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে তারা এই কর্মসূচি পালন করছেন। আন্দোলনকারীরা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, তাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা রাজপথ ছাড়বেন না।