ভারতের রাজধানী দিল্লিতে বছরের শুরুতেই নিখোঁজ সংবাদে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। ২০২৬ সালের প্রথম ১৫ দিনেই শহরটিতে সব মিলিয়ে ৮০৭ জন নিখোঁজ হওয়ার তথ্য নথিভুক্ত করেছে স্থানীয় পুলিশ। নিখোঁজদের মধ্যে নারী ও শিশুর সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি, যা মোট সংখ্যার প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ। প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৫৪ জন মানুষ নিখোঁজ হওয়ার এই পরিসংখ্যান জননিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে বড় ধরনের প্রশ্ন তুলছে।
দিল্লি পুলিশের সরবরাহকৃত তথ্যে দেখা গেছে, ১ জানুয়ারি থেকে ১৫ জানুয়ারির মধ্যে নিখোঁজ হওয়া ৮০৭ জনের মধ্যে ৫০৯ জনই নারী ও শিশু। বাকি ২৯৮ জন পুরুষ। নিখোঁজদের সন্ধানে পুলিশি তৎপরতা অব্যাহত থাকলেও এখন পর্যন্ত মাত্র ২৩৫ জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। এখনো ৫৭২ জন মানুষের কোনো হদিস মেলেনি, যা নিখোঁজদের পরিবারের মধ্যে চরম উৎকণ্ঠা সৃষ্টি করেছে।
সবচেয়ে আশঙ্কাজনক বিষয় হলো নিখোঁজদের মধ্যে অপ্রাপ্তবয়স্কদের সংখ্যা। প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, নিখোঁজদের মধ্যে ১৯১ জনই শিশু, যাদের মধ্যে ১৪৬ জন মেয়ে এবং ৪৫ জন ছেলে। এছাড়া নিখোঁজদের তালিকায় একটি বড় অংশ জুড়ে রয়েছে কিশোর-কিশোরীরা। এই ১৫ দিনে ১৬৯ জন কিশোর-কিশোরী নিখোঁজ হয়েছে, যার মধ্যে ১৩৮ জন মেয়ে এবং ৩১ জন ছেলে।
পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, কিশোর-কিশোরী নিখোঁজের ঘটনায় প্রায় ৭১ শতাংশ মামলাই এখনো অমীমাংসিত রয়ে গেছে। বিপুল সংখ্যক নারী ও শিশুর নিখোঁজ হওয়ার এই ঘটনা দিল্লির সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। নিখোঁজদের উদ্ধারে এবং এই পরিস্থিতির নেপথ্য কারণ উদঘাটনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের তৎপরতা আরও জোরদার করেছে বলে জানা গেছে।
রিপোর্টারের নাম 























