দীর্ঘদিনের উত্তেজনা ও কূটনৈতিক অচলাবস্থা কাটিয়ে ওমানে সরাসরি আলোচনায় বসেছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। শুক্রবার ওমানের রাজধানী মাসকাটে দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের মধ্যে এই বৈঠক শুরু হয় বলে নিশ্চিত করেছে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম। মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে সৃষ্ট জটিলতা নিরসনে এই আলোচনাকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
গত জুনে ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের ১২ দিনের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর এই প্রথম ওয়াশিংটন ও তেহরান সরাসরি আলোচনার টেবিলে বসল। উল্লেখ্য, ওই সংঘাতের সময় ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় মার্কিন হামলার ঘটনায় দুই দেশের মধ্যকার পূর্ববর্তী আলোচনা স্থগিত হয়ে গিয়েছিল। দীর্ঘ বিরতির পর ওমানের মধ্যস্থতায় আবারও কূটনৈতিক পথ উন্মুক্ত হলো।
চলমান এই সংলাপে ইরানের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত হিসেবে আলোচনায় অংশ নিচ্ছেন স্টিভ উইটকফ। আলোচনার শুরুতেই ইরান নিজেদের আত্মরক্ষার প্রস্তুতির কথা পুনর্ব্যক্ত করলেও কূটনৈতিক সমাধানের ওপর গুরুত্বারোপ করেছে। অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানের পথ খোলা রাখলেও সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনা একেবারে নাকচ করে দেননি।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ভবিষ্যৎ নির্ধারণে এই বৈঠক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। এই আলোচনার ফলাফলের ওপরই নির্ভর করছে আগামী দিনে ওই অঞ্চলের ভূ-রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা কোন দিকে মোড় নেবে। ওমানের এই কূটনৈতিক উদ্যোগকে তাই বৈশ্বিক রাজনীতির প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।
রিপোর্টারের নাম 























