ঢাকা ০১:৪৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

প্রতিরক্ষা সহযোগিতায় নতুন অধ্যায়: অস্ট্রেলিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার মধ্যে ঐতিহাসিক নিরাপত্তা চুক্তি স্বাক্ষর

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:১৯:১৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৭ বার পড়া হয়েছে

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক শক্তি ইন্দোনেশিয়া এবং অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে দ্বিপাক্ষিক প্রতিরক্ষা সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে একটি ঐতিহাসিক নিরাপত্তা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। শুক্রবার জাকার্তায় দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের উপস্থিতিতে এই সমঝোতা সম্পন্ন হয়। এই চুক্তির ফলে দেশ দুটির মধ্যে সামরিক প্রশিক্ষণ, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং কৌশলগত সক্ষমতা বৃদ্ধির নতুন সুযোগ তৈরি হবে।

চুক্তি অনুযায়ী, দুই দেশের প্রতিরক্ষা বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় বাড়াতে অস্ট্রেলিয়ার প্রতিরক্ষা বাহিনীতে একজন উচ্চপদস্থ ইন্দোনেশীয় কর্মকর্তাকে সংযুক্ত করা হবে। অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ এই চুক্তিকে দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি ‘মাইলফলক’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি জানান, যৌথ সামরিক মহড়া আরও কার্যকর করতে ইন্দোনেশিয়ায় সামরিক প্রশিক্ষণ অবকাঠামো উন্নয়নে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেবে ক্যানবেরা।

অ্যান্থনি আলবানিজ বলেন, অস্ট্রেলিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার মধ্যে বিশ্বের অন্যতম দীর্ঘ সামুদ্রিক সীমান্ত বিদ্যমান, যা দেশ দুটিকে প্রাকৃতিকভাবেই ঘনিষ্ঠ অংশীদারে পরিণত করেছে। তিনি আরও যোগ করেন, “আজ আমরা কেবল অংশীদার নই, বরং একে অপরের ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছি।”

এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাবের প্রেক্ষাপটে অস্ট্রেলিয়া দীর্ঘ দিন ধরেই তার প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদারে কাজ করছে। অন্যদিকে, ইন্দোনেশিয়া তার ঐতিহ্যগত ‘স্বাধীন ও সক্রিয়’ পররাষ্ট্রনীতি বজায় রেখে প্রধান বাণিজ্যিক অংশীদার চীন এবং নিরাপত্তা অংশীদার অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে একটি ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান বজায় রাখার চেষ্টা করছে।

ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো এই চুক্তি প্রসঙ্গে বলেন, এটি দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং সুপ্রতিবেশী সুলভ আচরণেরই বহিঃপ্রকাশ। তাঁর মতে, এই সমঝোতা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এবং পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধিতে একটি শক্তিশালী ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।

অস্ট্রেলীয় প্রধানমন্ত্রী আলবানিজ বর্তমানে ইন্দোনেশিয়ায় পাঁচ দিনের এক গুরুত্বপূর্ণ সরকারি সফরে রয়েছেন। সফরের শুরুতেই তিনি এই চুক্তিকে নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতার ক্ষেত্রে একটি বড় ধরনের সম্প্রসারণ হিসেবে বর্ণনা করেন। একই সঙ্গে তিনি অস্ট্রেলিয়ায় ইন্দোনেশিয়ার ক্রমবর্ধমান বিনিয়োগের ভূয়সী প্রশংসা করেন।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের শুরুতে স্বাক্ষরিত একটি প্রতিরক্ষা চুক্তির ধারাবাহিকতায় এই নতুন নিরাপত্তা চুক্তিটি সম্পন্ন হলো। পূর্ববর্তী চুক্তির প্রেক্ষাপটে সম্প্রতি পূর্ব জাভায় দুই দেশের হাজার হাজার সেনা সদস্য এক বিশাল যৌথ সামরিক মহড়ায় অংশ নিয়েছিল, যা দুই দেশের সামরিক আস্থার প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সিন্ডিকেটের কবলে পোলাও চাল: কেজিতে দাম বেড়েছে ৩০ টাকা পর্যন্ত

প্রতিরক্ষা সহযোগিতায় নতুন অধ্যায়: অস্ট্রেলিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার মধ্যে ঐতিহাসিক নিরাপত্তা চুক্তি স্বাক্ষর

আপডেট সময় : ০৩:১৯:১৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক শক্তি ইন্দোনেশিয়া এবং অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে দ্বিপাক্ষিক প্রতিরক্ষা সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে একটি ঐতিহাসিক নিরাপত্তা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। শুক্রবার জাকার্তায় দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের উপস্থিতিতে এই সমঝোতা সম্পন্ন হয়। এই চুক্তির ফলে দেশ দুটির মধ্যে সামরিক প্রশিক্ষণ, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং কৌশলগত সক্ষমতা বৃদ্ধির নতুন সুযোগ তৈরি হবে।

চুক্তি অনুযায়ী, দুই দেশের প্রতিরক্ষা বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় বাড়াতে অস্ট্রেলিয়ার প্রতিরক্ষা বাহিনীতে একজন উচ্চপদস্থ ইন্দোনেশীয় কর্মকর্তাকে সংযুক্ত করা হবে। অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ এই চুক্তিকে দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি ‘মাইলফলক’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি জানান, যৌথ সামরিক মহড়া আরও কার্যকর করতে ইন্দোনেশিয়ায় সামরিক প্রশিক্ষণ অবকাঠামো উন্নয়নে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেবে ক্যানবেরা।

অ্যান্থনি আলবানিজ বলেন, অস্ট্রেলিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার মধ্যে বিশ্বের অন্যতম দীর্ঘ সামুদ্রিক সীমান্ত বিদ্যমান, যা দেশ দুটিকে প্রাকৃতিকভাবেই ঘনিষ্ঠ অংশীদারে পরিণত করেছে। তিনি আরও যোগ করেন, “আজ আমরা কেবল অংশীদার নই, বরং একে অপরের ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছি।”

এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাবের প্রেক্ষাপটে অস্ট্রেলিয়া দীর্ঘ দিন ধরেই তার প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদারে কাজ করছে। অন্যদিকে, ইন্দোনেশিয়া তার ঐতিহ্যগত ‘স্বাধীন ও সক্রিয়’ পররাষ্ট্রনীতি বজায় রেখে প্রধান বাণিজ্যিক অংশীদার চীন এবং নিরাপত্তা অংশীদার অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে একটি ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান বজায় রাখার চেষ্টা করছে।

ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো এই চুক্তি প্রসঙ্গে বলেন, এটি দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং সুপ্রতিবেশী সুলভ আচরণেরই বহিঃপ্রকাশ। তাঁর মতে, এই সমঝোতা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এবং পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধিতে একটি শক্তিশালী ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।

অস্ট্রেলীয় প্রধানমন্ত্রী আলবানিজ বর্তমানে ইন্দোনেশিয়ায় পাঁচ দিনের এক গুরুত্বপূর্ণ সরকারি সফরে রয়েছেন। সফরের শুরুতেই তিনি এই চুক্তিকে নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতার ক্ষেত্রে একটি বড় ধরনের সম্প্রসারণ হিসেবে বর্ণনা করেন। একই সঙ্গে তিনি অস্ট্রেলিয়ায় ইন্দোনেশিয়ার ক্রমবর্ধমান বিনিয়োগের ভূয়সী প্রশংসা করেন।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের শুরুতে স্বাক্ষরিত একটি প্রতিরক্ষা চুক্তির ধারাবাহিকতায় এই নতুন নিরাপত্তা চুক্তিটি সম্পন্ন হলো। পূর্ববর্তী চুক্তির প্রেক্ষাপটে সম্প্রতি পূর্ব জাভায় দুই দেশের হাজার হাজার সেনা সদস্য এক বিশাল যৌথ সামরিক মহড়ায় অংশ নিয়েছিল, যা দুই দেশের সামরিক আস্থার প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।