ঢাকা ০১:৫০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

থাইল্যান্ডে নতুন সরকার গঠনে ভোট, রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা অব্যাহত

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০২:৫২:২৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

থাইল্যান্ডের জনগণ আজ (রোববার) নতুন সরকার গঠনে ভোট দিচ্ছে। দুই বছরের মধ্যে এটি হবে তৃতীয় নির্বাচন, যা দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে গভীর অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। এই নির্বাচনে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে অবতীর্ণ হয়েছে গতবারের সর্বাধিক ভোটপ্রাপ্ত সংস্কারপন্থী দল ‘পিপলস পার্টি’ এবং বর্তমানে ক্ষমতায় থাকা রক্ষণশীল শিবির। উল্লেখ্য, কারাবন্দী সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিন শিনাওয়াত্রা এখনও থাইল্যান্ডের রাজনীতিতে প্রভাবশালী ভূমিকা পালন করছেন।

ব্যাংকক থেকে প্রাপ্ত খবরে জানা যায়, নবনির্বাচিত সরকারের সামনে প্রধান চ্যালেঞ্জগুলোর মধ্যে রয়েছে কম্বোডিয়ার সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী সীমান্ত বিরোধের সমাধান, যা গত বছর দু’দফা প্রাণঘাতী সংঘর্ষে রূপ নিয়েছিল। এছাড়াও, অঞ্চলজুড়ে সক্রিয় বহুজাতিক সাইবার প্রতারণা চক্রের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণও একটি বড় পরীক্ষা হবে।

অর্থনৈতিকভাবেও থাইল্যান্ড বেশ চাপের মুখে রয়েছে। দেশটির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি দুর্বল এবং কোভিড-১৯ মহামারী পরবর্তী সময়ে পর্যটন খাত এখনো তার আগের অবস্থায় পুরোপুরি ফিরে আসেনি। একই সময়ে, দ্রুত উন্নয়নশীল ভিয়েতনাম বিদেশি প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ আকর্ষণে থাইল্যান্ডকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবারের নির্বাচনেও কোনো একক দল নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারবে না। ফলে, তিন বছরেরও কম সময় আগে অনুষ্ঠিত বিতর্কিত নির্বাচনের মতো পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সেবার প্রগতিশীল পিপলস পার্টির পূর্বসূরি দল সর্বাধিক ভোট পেলেও তাদের প্রার্থী প্রধানমন্ত্রী হতে পারেননি এবং পরবর্তীতে দলটি বিলুপ্ত হয়ে যায়।

পরবর্তীতে থাকসিনের ‘ফেউ থাই পার্টি’ তৃতীয় স্থান পাওয়া রক্ষণশীল ‘ভুমজাইথাই পার্টি’র সঙ্গে জোট করে সরকার গঠন করেছিল। কিন্তু আদালতের রায়ে প্রথমে প্রধানমন্ত্রী এবং পরে থাকসিনের কন্যা পেতংতার্ন শিনাওয়াত্রাও পদ হারান। শেষ পর্যন্ত, গত সেপ্টেম্বরে সংসদ আনুতিন চার্নভিরাকুলকে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত করে, যিনি দুই বছরের মধ্যে দেশটির তৃতীয় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

থাইল্যান্ডের রাজনীতি বিশ্লেষক নাপোন জাতুসরিপিতাক উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, থাইল্যান্ডে নির্বাচনের ফল এখন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া থেকে কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে, যা গণতন্ত্রের জন্য শুভ লক্ষণ নয়। তার মতে, সামরিক অভ্যুত্থান, আদালতের মাধ্যমে সরকার অপসারণ এবং অনির্বাচিত প্রতিষ্ঠানের ক্ষমতা বৃদ্ধির ফলে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের প্রভাব ক্রমশ হ্রাস পাচ্ছে।

জনমত জরিপ অনুযায়ী, পিপলস পার্টি প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ভোট পেয়ে এগিয়ে আছে। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে আনুতিনের ভুমজাইথাই পার্টি। বিশ্লেষকদের ধারণা, ক্যানাবিস বৈধকরণের পক্ষে অবস্থান নেওয়া আনুতিন আবারও ফেউ থাই পার্টির সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারেন।

একসময়ের অত্যন্ত জনপ্রিয় ফেউ থাই পার্টির জনপ্রিয়তা কিছুটা কমেছে। কম্বোডিয়া ইস্যুতে সাংবিধানিক আদালতের রায়ে পেতংতার্ন অপসারিত হওয়া এবং থাকসিনের দুর্নীতির সাজা দলটির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করেছে। জরিপ অনুযায়ী, দলটি এবার মাত্র ১৬ শতাংশ ভোট পেতে পারে।

ভুমজাইথাই পার্টি জাতীয় নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষাকে অধিক গুরুত্ব দিচ্ছে, বিশেষ করে কম্বোডিয়ার সঙ্গে সাম্প্রতিক সংঘর্ষের প্রেক্ষাপটে। বিপরীতে, পিপলস পার্টি বাধ্যতামূলক সামরিক নিয়োগ বাতিল এবং জেনারেলের সংখ্যা কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

রবিবারের নির্বাচনের পাশাপাশি একটি গণভোটও অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যেখানে ভোটাররা সংবিধান সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে তাদের মতামত জানাবেন। তবে, এক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট প্রস্তাবনা উপস্থাপন করা হয়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, প্রচলিত রাজনৈতিক কাঠামো বহাল থাকায় এই নির্বাচনের মাধ্যমে বড় ধরনের পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা কম। পিপলস পার্টি যদি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে না পারে, তবে তাদের পক্ষে সরকার গঠন করা প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়াবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সিন্ডিকেটের কবলে পোলাও চাল: কেজিতে দাম বেড়েছে ৩০ টাকা পর্যন্ত

থাইল্যান্ডে নতুন সরকার গঠনে ভোট, রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা অব্যাহত

আপডেট সময় : ০২:৫২:২৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

থাইল্যান্ডের জনগণ আজ (রোববার) নতুন সরকার গঠনে ভোট দিচ্ছে। দুই বছরের মধ্যে এটি হবে তৃতীয় নির্বাচন, যা দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে গভীর অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। এই নির্বাচনে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে অবতীর্ণ হয়েছে গতবারের সর্বাধিক ভোটপ্রাপ্ত সংস্কারপন্থী দল ‘পিপলস পার্টি’ এবং বর্তমানে ক্ষমতায় থাকা রক্ষণশীল শিবির। উল্লেখ্য, কারাবন্দী সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিন শিনাওয়াত্রা এখনও থাইল্যান্ডের রাজনীতিতে প্রভাবশালী ভূমিকা পালন করছেন।

ব্যাংকক থেকে প্রাপ্ত খবরে জানা যায়, নবনির্বাচিত সরকারের সামনে প্রধান চ্যালেঞ্জগুলোর মধ্যে রয়েছে কম্বোডিয়ার সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী সীমান্ত বিরোধের সমাধান, যা গত বছর দু’দফা প্রাণঘাতী সংঘর্ষে রূপ নিয়েছিল। এছাড়াও, অঞ্চলজুড়ে সক্রিয় বহুজাতিক সাইবার প্রতারণা চক্রের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণও একটি বড় পরীক্ষা হবে।

অর্থনৈতিকভাবেও থাইল্যান্ড বেশ চাপের মুখে রয়েছে। দেশটির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি দুর্বল এবং কোভিড-১৯ মহামারী পরবর্তী সময়ে পর্যটন খাত এখনো তার আগের অবস্থায় পুরোপুরি ফিরে আসেনি। একই সময়ে, দ্রুত উন্নয়নশীল ভিয়েতনাম বিদেশি প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ আকর্ষণে থাইল্যান্ডকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবারের নির্বাচনেও কোনো একক দল নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারবে না। ফলে, তিন বছরেরও কম সময় আগে অনুষ্ঠিত বিতর্কিত নির্বাচনের মতো পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সেবার প্রগতিশীল পিপলস পার্টির পূর্বসূরি দল সর্বাধিক ভোট পেলেও তাদের প্রার্থী প্রধানমন্ত্রী হতে পারেননি এবং পরবর্তীতে দলটি বিলুপ্ত হয়ে যায়।

পরবর্তীতে থাকসিনের ‘ফেউ থাই পার্টি’ তৃতীয় স্থান পাওয়া রক্ষণশীল ‘ভুমজাইথাই পার্টি’র সঙ্গে জোট করে সরকার গঠন করেছিল। কিন্তু আদালতের রায়ে প্রথমে প্রধানমন্ত্রী এবং পরে থাকসিনের কন্যা পেতংতার্ন শিনাওয়াত্রাও পদ হারান। শেষ পর্যন্ত, গত সেপ্টেম্বরে সংসদ আনুতিন চার্নভিরাকুলকে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত করে, যিনি দুই বছরের মধ্যে দেশটির তৃতীয় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

থাইল্যান্ডের রাজনীতি বিশ্লেষক নাপোন জাতুসরিপিতাক উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, থাইল্যান্ডে নির্বাচনের ফল এখন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া থেকে কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে, যা গণতন্ত্রের জন্য শুভ লক্ষণ নয়। তার মতে, সামরিক অভ্যুত্থান, আদালতের মাধ্যমে সরকার অপসারণ এবং অনির্বাচিত প্রতিষ্ঠানের ক্ষমতা বৃদ্ধির ফলে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের প্রভাব ক্রমশ হ্রাস পাচ্ছে।

জনমত জরিপ অনুযায়ী, পিপলস পার্টি প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ভোট পেয়ে এগিয়ে আছে। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে আনুতিনের ভুমজাইথাই পার্টি। বিশ্লেষকদের ধারণা, ক্যানাবিস বৈধকরণের পক্ষে অবস্থান নেওয়া আনুতিন আবারও ফেউ থাই পার্টির সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারেন।

একসময়ের অত্যন্ত জনপ্রিয় ফেউ থাই পার্টির জনপ্রিয়তা কিছুটা কমেছে। কম্বোডিয়া ইস্যুতে সাংবিধানিক আদালতের রায়ে পেতংতার্ন অপসারিত হওয়া এবং থাকসিনের দুর্নীতির সাজা দলটির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করেছে। জরিপ অনুযায়ী, দলটি এবার মাত্র ১৬ শতাংশ ভোট পেতে পারে।

ভুমজাইথাই পার্টি জাতীয় নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষাকে অধিক গুরুত্ব দিচ্ছে, বিশেষ করে কম্বোডিয়ার সঙ্গে সাম্প্রতিক সংঘর্ষের প্রেক্ষাপটে। বিপরীতে, পিপলস পার্টি বাধ্যতামূলক সামরিক নিয়োগ বাতিল এবং জেনারেলের সংখ্যা কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

রবিবারের নির্বাচনের পাশাপাশি একটি গণভোটও অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যেখানে ভোটাররা সংবিধান সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে তাদের মতামত জানাবেন। তবে, এক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট প্রস্তাবনা উপস্থাপন করা হয়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, প্রচলিত রাজনৈতিক কাঠামো বহাল থাকায় এই নির্বাচনের মাধ্যমে বড় ধরনের পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা কম। পিপলস পার্টি যদি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে না পারে, তবে তাদের পক্ষে সরকার গঠন করা প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়াবে।