বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক সরকারের উদ্দেশে বলেছেন, নিরপেক্ষতার পরীক্ষায় তাদের ফেল করার কোনো সুযোগ নেই। তিনি বিদ্যমান সংকট কাটিয়ে উঠতে প্রজ্ঞা ও দূরদর্শিতা নিয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “তীরে এসে তরি ডোবাবেন না। এমন পদক্ষেপ নেওয়া থেকে বিরত থাকুন।”
শনিবার (১ নভেম্বর) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় আয়োজিত এক দলীয় সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই কথাগুলো বলেন।
সাইফুল হক আরও বলেন, এই মুহূর্তে সরকারের একটি মাত্র ভুল সিদ্ধান্তও বিরাট বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। তিনি জুলাই সনদ, গণভোট এবং ফেব্রুয়ারির প্রথম ভাগেই জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। তবে তিনি সতর্ক করে দেন যে, এমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া উচিত হবে না, যা টেকসই হবে না।
তিনি উল্লেখ করেন, ঐকমত্য কমিশনের সুপারিশগুলো ঘিরে ঐক্যের বদলে উল্টো আরও বেশি অনৈক্য দেখা দিয়েছে। ভিন্নমতের বিষয়গুলো সম্পূর্ণ বাদ দিয়ে সুপারিশ তৈরি করায় কমিশনের বিরুদ্ধে বিশ্বাসঘাতকতা ও প্রতারণার মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে, যা অনাকাঙ্ক্ষিত, দুঃখজনক ও বিব্রতকর। তিনি আরও বলেন, কমিশনের সুপারিশে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য সংবিধান সংশোধনে সরকার যেভাবে ‘সংবিধান সংশোধন আদেশ’ দেওয়ার কথা বলেছে, সেটাও পুরোপুরি অগ্রহণযোগ্য।
এর কারণ হিসেবে তিনি বলেন, এই ধরনের কোনো ক্ষমতা, এখতিয়ার বা ম্যান্ডেট অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের হাতে নেই। এমন কোনো উদ্যোগ নেওয়া হবে সংবিধানকে অস্বীকার করারই শামিল।
তাছাড়া, সংবিধান সংশোধনের জন্য এই ধরনের একটি আদেশ এক ভয়ংকর নজির তৈরি করবে। ভবিষ্যতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে এই উদাহরণটি ব্যবহারের আশঙ্কা থেকে যাবে। তিনি মনে করেন, এই ধরনের পদক্ষেপ পরোক্ষভাবে কর্তৃত্ববাদী শাসনের পথকেই প্রশস্ত করতে পারে।
তিনি বলেন, গণভোটের বিষয়ে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে বেশিরভাগ দলই ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচনের দিনেই গণভোট আয়োজনের পক্ষে মত দিয়েছিল। বাস্তবে, গণভোটের ক্ষেত্রে এর বাইরে কিছু করার সুযোগও নেই। তাছাড়া, জাতীয় নির্বাচনের আগে আলাদা করে আরেকটি নির্বাচন আয়োজন করার মতো সময় বা সামর্থ্য সরকার কিংবা নির্বাচন কমিশনের নেই। তিনি আরও সতর্ক করেন, কোনো কারণে গণভোটে যদি ভোটের হার কম হয়, তবে তা রাজনৈতিকভাবে একটি বিরাট বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। তিনি কমিশনের সুপারিশের সমালোচনা করে বলেন, ২৭০ দিনের মধ্যে সব ইস্যু সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে শেষ না হলে, তা যেভাবে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংবিধানে যুক্ত হয়ে যাবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে, তা রীতিমতো উদ্ভট ও হাস্যকর। সংবিধান সংশোধনের মতো বিষয় নিয়ে এই ধরনের ছেলেখেলা করার কোনো সুযোগ নেই।
এই সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন পার্টির রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য বহ্নিশিখা জামালী। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য আকবর খান, মীর মোফাজ্জল হোসেন মোশতাক, কেন্দ্রীয় সদস্য সিকদার হারুন মাহমুদ, যোবরান আলী জুয়েল, বাবর চৌধুরী এবং ঢাকা মহানগর কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন ও আরিফুল ইসলাম আরিফ প্রমুখ।
রিপোর্টারের নাম 

























