জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে ঢাকার আশুলিয়ায় ছয়জনকে হত্যার পর মরদেহ পুড়িয়ে দেওয়ার বর্বরোচিত ঘটনায় ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য সাইফুল ইসলামসহ মোট ছয়জন আসামিকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত।
আজ ঘোষিত এই রায়ে আদালত একই মামলার অন্য সাতজন আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেছেন। যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে ঢাকা রেঞ্জের সাবেক ডিআইজি সৈয়দ নুরুল ইসলাম অন্যতম। এছাড়া অপরাধে সংশ্লিষ্টতার দায়ে আরও দুই আসামিকে সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তবে রাজসাক্ষী হিসেবে ঘটনার সত্যতা প্রকাশ এবং বিচার প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়ে সহায়তা করায় পুলিশের একজন কর্মকর্তাকে আদালত ক্ষমা করেছেন।
মামলার বিবরণে জানা যায়, জুলাই বিপ্লবের চূড়ান্ত পর্যায়ে আশুলিয়া থানা এলাকায় আন্দোলনকারীদের ওপর নির্বিচারে গুলি চালিয়ে ছয়জনকে হত্যা করা হয়। পরবর্তীতে অপরাধের প্রমাণ মুছে ফেলতে একটি ভ্যানে মরদেহগুলো স্তূপ করে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। এই নৃশংস ঘটনার ভিডিও চিত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় ওঠে।
দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া ও সাক্ষ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণ শেষে ট্রাইব্যুনাল এই রায় প্রদান করেন। প্রসিকিউশন পক্ষ থেকে এই রায়কে জুলাই বিপ্লবের সময় সংঘটিত নৃশংসতার বিরুদ্ধে একটি ঐতিহাসিক বিচার হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। তারা জানান, এই রায়ের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং এটি আগামীতে যেকোনো ধরনের মানবতাবিরোধী অপরাধ রোধে একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
আদালত তার পর্যবেক্ষণে এই ঘটনাকে মানবতার চরম অবমাননা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। রায় ঘোষণার সময় ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই বিচারের মাধ্যমে জুলাই বিপ্লবের শহীদদের পরিবার দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ন্যায়বিচার লাভ করল।
রিপোর্টারের নাম 





















