আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের বিশাল এক জনগোষ্ঠী অর্থাৎ প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও উপযোগী নির্বাচনি পরিবেশ নিশ্চিত করার জোরালো দাবি জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটি বলছে, দেশের উন্নয়ন ও মূলধারার রাজনীতিতে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সংসদ থেকে শুরু করে স্থানীয় সরকারের প্রতিটি স্তরে তাদের জন্য আসন সংরক্ষণ করা এখন সময়ের দাবি।
বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর ধানমন্ডিতে টিআইবির কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি উত্থাপন করা হয়। ‘ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের প্রাক্কালে বাংলাদেশের মূলধারার রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রত্যাশা’ শীর্ষক এই সম্মেলনে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান।
সংবাদ সম্মেলনে ড. ইফতেখারুজ্জামান বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) পরিসংখ্যান তুলে ধরে জানান, বিশ্বের মোট জনসংখ্যার প্রায় ১৫ শতাংশ মানুষ কোনো না কোনোভাবে প্রতিবন্ধিতার শিকার। সেই হিসেবে বাংলাদেশে এই সংখ্যা দুই কোটিরও বেশি হওয়ার কথা। যদিও দেশের বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি জরিপে এই সংখ্যাটি অনেকটা কম দেখানো হয়। তিনি সতর্ক করে বলেন, এত বড় একটি জনগোষ্ঠীকে রাষ্ট্র পরিচালনার বাইরে রেখে বা তাদের উপেক্ষা করে প্রকৃত গণতন্ত্র ও টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়।
রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার রক্ষায় জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গীকার বাস্তবায়নে রাজনৈতিক দলগুলোকে আরও সজাগ হতে হবে। তিনি প্রস্তাব করেন, জাতীয় সংসদে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে অন্তত তিনটি সংরক্ষিত আসনের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন, যা মোট আসনের এক শতাংশের সমান। বর্তমানে রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনে প্রতিবন্ধী প্রার্থীদের মনোনয়ন দেওয়ার ক্ষেত্রে যে অনীহা দেখায়, তা দূর করতে আইনগত সংস্কারের ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
কেবল জাতীয় সংসদ নয়, বরং ইউনিয়ন পরিষদ থেকে শুরু করে সিটি করপোরেশন পর্যন্ত স্থানীয় সরকারের প্রতিটি স্তরে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য আসন সংরক্ষণের দাবি জানানো হয় সংবাদ সম্মেলনে। বক্তারা মনে করেন, সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হয়ে আসার সুযোগ তৈরি হলে এই জনগোষ্ঠী জনগণের সেবায় আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে। পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান এবং প্রযুক্তিতে তাদের প্রবেশগম্যতা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রীয় চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।
নির্বাচন কমিশনের প্রতি সুনির্দিষ্ট কিছু দাবি তুলে ধরে ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ভোটের দিন প্রতিবন্ধী ভোটারদের জন্য বিশেষ যাতায়াত ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য সহায়ক গাইড এবং শারীরিক প্রতিবন্ধীদের সুবিধার্থে প্রতিটি ভোটকেন্দ্রের নিচতলায় বিশেষ বুথ স্থাপন করা জরুরি।
সংবাদ সম্মেলনে দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও প্রতিবন্ধী অধিকার কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে ছিলেন ডিসঅ্যাবিলিটি রাইটস ওয়াচের সভাপতি মনসুর আহমেদ চৌধুরী, সদস্য সচিব খন্দকার জহুরুল আলম, প্রতিবন্ধিতা অন্তর্ভুক্তি বিশেষজ্ঞ ডা. নাফিসুর রহমান, সাইটসেভার্স বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর অমৃতা রেজিনা রোজারিও এবং অ্যাকসেস বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের চেয়ারপারসন মহুয়া পালসহ আরও অনেকে। বক্তারা ঐক্যবদ্ধভাবে একটি বৈষম্যহীন ও প্রতিবন্ধীবান্ধব রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে রাজনৈতিক দলগুলোকে তাদের নির্বাচনি ইশতেহারে এসব দাবি অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানান।
রিপোর্টারের নাম 





















