রাশিয়ার সঙ্গে চলমান যুদ্ধে এখন পর্যন্ত প্রায় ৫৫ হাজার ইউক্রেনীয় সেনা নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। গত বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) ফ্রান্সের টেলিভিশন চ্যানেল ফ্রান্স ২-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই তথ্য প্রকাশ করেন।
প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি জানান, নিহতদের মধ্যে পেশাদার সামরিক সদস্য এবং বাধ্যতামূলকভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত উভয়ই অন্তর্ভুক্ত। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, যুদ্ধের কারণে এখনো বিপুলসংখ্যক মানুষকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিখোঁজ হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে, যাদের পরিণতি সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এদিকে, যুদ্ধক্ষেত্রে হতাহতের ব্যাপকতা নিয়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ও থিংক-ট্যাংক উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক কৌশলগত ও আন্তর্জাতিক গবেষণা কেন্দ্র (সিএসআইএস)-এর এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ২০২৬ সালের বসন্ত পর্যন্ত উভয় পক্ষ মিলিয়ে সামরিক হতাহত (নিহত, আহত ও নিখোঁজ) প্রায় ২০ লাখে পৌঁছাতে পারে।
সিএসআইএস-এর হিসাব অনুযায়ী, এই যুদ্ধে রাশিয়ার প্রায় ১২ লাখ সেনা হতাহত হয়েছে। ইউক্রেনের ক্ষেত্রে এই সংখ্যা আনুমানিক ৫ থেকে ৬ লাখের মধ্যে। প্রতিবেদনে আরও ধারণা করা হয়েছে, গত প্রায় চার বছরে রাশিয়ার প্রায় ৩ লাখ ২৫ হাজার সেনা নিহত হয়েছে।
যুদ্ধের প্রভাব বেসামরিক জনগণের ওপরও মারাত্মকভাবে পড়েছে। জাতিসংঘের পর্যবেক্ষকদের মতে, ২০২৫ সালে ইউক্রেনে বেসামরিক মৃত্যুর সংখ্যা ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। জাতিসংঘ মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয়ের তথ্যমতে, শুধু ২০২৫ সালেই অন্তত ২ হাজার ৫০০ বেসামরিক মানুষ নিহত এবং ১২ হাজারের বেশি আহত হয়েছে। তবে সংস্থাটি সতর্ক করেছে যে, প্রকৃত হতাহতের সংখ্যা এর চেয়েও অনেক বেশি হতে পারে।
রিপোর্টারের নাম 






















