নতুন সরকার ক্ষমতাগ্রহণের মাত্র ৫২ দিনের মধ্যে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ৪৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকার ঋণ গ্রহণ করেছে। এই দ্রুত ঋণ বৃদ্ধির ফলে চলতি অর্থবছরের বাজেটে নির্ধারিত এক লাখ চার হাজার কোটি টাকার ঋণ লক্ষ্যমাত্রা এরই মধ্যে ছাড়িয়ে গেছে। চলতি অর্থবছরের জুলাই মাস থেকে ৯ এপ্রিল পর্যন্ত সরকার ব্যাংক খাত থেকে মোট এক লাখ ১২ হাজার ৭৬১ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে, যা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ১০৮ শতাংশ। এর মধ্যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে নেওয়া ঋণ ছিল ৬৮ হাজার ২২৯ কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে।
খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় নতুন ব্যাংকে বিনিয়োগ এবং জাতীয় নির্বাচনের ব্যয় মেটাতে সরকারকে ঋণ নিতে হয়েছিল। বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর জ্বালানি খাতে ভর্তুকি বৃদ্ধি এবং নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণে ব্যয় বেড়েছে। অন্যদিকে, অর্থবছরের প্রথম আট মাসে রাজস্ব আদায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় ৭১ হাজার কোটি টাকা পিছিয়ে রয়েছে। ব্যয়ের তুলনায় আয় কম হওয়ায় সরকার ব্যাংক খাত থেকে ঋণ নিয়ে চাহিদা পূরণের চেষ্টা করছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম ৯ মাস ৯ দিনে সরকার ব্যাংক থেকে যে পরিমাণ ঋণ নিয়েছে, তা গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৬৫ হাজার ৬৮৫ কোটি টাকা বা ১৩৯.৬০ শতাংশ বেশি। গত অর্থবছরের একই সময়ে সরকার নিট ব্যাংক ঋণের পরিমাণ ছিল ৪৭ হাজার ৭৬ কোটি টাকা।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. মোস্তফা কে মুজেরী বলেন, ‘বাজেটে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরেই সরকারের ব্যয় নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু বাস্তবে রাজস্ব আদায় লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় অনেক কম হয়েছে এবং ভবিষ্যতে তা পূরণের সম্ভাবনাও কম।’ তিনি আরও জানান, পর্যাপ্ত রাজস্ব আয় না হওয়ায় সরকারের ব্যয় মেটাতে ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে হচ্ছে, যা ইতোমধ্যে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে, যদিও অর্থবছর শেষ হতে এখনো তিন মাস বাকি আছে।
রিপোর্টারের নাম 





















