ঢাকা ০৯:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

একই দিনে জন্ম, বিশ্ব ফুটবলে দুই ভিন্ন নক্ষত্রের আলোকচ্ছটা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১১:৪০:৫০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

ফুটবল ক্যালেন্ডারের ৫ ফেব্রুয়ারি তারিখটি বিশেষভাবে উজ্জ্বল হয়ে থাকে আধুনিক ফুটবলের দুই মহাতারকা—ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ও নেইমার জুনিয়রের জন্মদিনে। একই দিনে পৃথিবীর আলো দেখলেও, তাদের পথচলা, অর্জনের পথে সংগ্রাম এবং ফুটবল ইতিহাসে তাদের স্বতন্ত্র অবস্থান ভিন্ন ভিন্ন রঙে অঙ্কিত হয়েছে। তা সত্ত্বেও, বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে দুজনেই নিজেদের নাম স্বর্ণাক্ষরে খোদাই করতে সক্ষম হয়েছেন।

ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো: অদম্য অধ্যবসায় ও সাফল্যের প্রতীক
১৯৮৫ সালের এই দিনে পর্তুগালের মাদেইরা দ্বীপে জন্ম নেওয়া রোনালদোর শৈশব থেকেই ছিল আকাশছোঁয়া স্বপ্ন। সেই স্বপ্ন পূরণের পথে তিনি কখনো আপস করেননি। মাত্র ১২ বছর বয়সে পরিবার ছেড়ে যোগ দেন স্পোর্টিং লিসবনের যুব একাডেমিতে, যা ছিল এক কিংবদন্তির যাত্রার সূচনা।

ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে যোগ দিয়ে তিনি ইউরোপীয় ফুটবলে নিজের জানান দেন। পরবর্তীতে রিয়াল মাদ্রিদে গিয়ে তিনি নিজেকে এক অন্য উচ্চতায় নিয়ে যান, যেখানে তিনি কেবল ক্লাবেরই নন, বরং সমগ্র ফুটবল ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হন। বয়স বাড়লেও তার ফিটনেস, গোল করার অদম্য ক্ষুধা এবং লড়াইয়ের মানসিকতা আজও অটুট। বর্তমানে সৌদি ক্লাব আল নাসরের হয়ে খেললেও, তার দৃষ্টি এখনো আন্তর্জাতিক মঞ্চে, পর্তুগালকে আরেকটি বিশ্বকাপ শিরোপা এনে দেওয়ার স্বপ্নে বিভোর।

seu ক্যারিয়ারে ৯৬১টিরও বেশি গোল করে তিনি এখনো সক্রিয় রয়েছেন এবং ফুটবল ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে নিজের অবস্থান ধরে রেখেছেন। পর্তুগাল জাতীয় দলের হয়ে তিনি ১৪৩টি গোল করেছেন, যা আন্তর্জাতিক ফুটবলেও এক নতুন রেকর্ড। তিনি স্পোর্টিং লিসবন, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, রিয়াল মাদ্রিদ, জুভেন্টাস এবং আল নাসরের মতো শীর্ষ ক্লাবগুলোর হয়ে খেলেছেন। পাঁচবার ব্যালন ডি’অর এবং পাঁচবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ী এই তারকা ২০১৬ সালে ইউরো শিরোপাও জিতেছেন।

নেইমার জুনিয়র: জন্মগত প্রতিভা ও শৈল্পিকতার মেলবন্ধন
১৯৯২ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি ব্রাজিলে জন্ম নেওয়া নেইমার জুনিয়র ছোটবেলা থেকেই ছিলেন আলোচনার কেন্দ্রে। বলের সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিল একজন শিল্পীর মতো, যা তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করে তুলেছিল। সান্তোসে পেলের উত্তরসূরি হিসেবে নিজেকে মেলে ধরে তিনি, কিশোর বয়সেই তার ড্রিবলিং, গতি এবং অকল্পনীয় সব চাল দিয়ে বিশ্ববাসীর নজর কাড়েন।

বার্সেলোনায় যোগ দিয়ে লিওনেল মেসি ও লুইস সুয়ারেজের সঙ্গে তিনি গড়ে তোলেন ঐতিহাসিক ‘এমএসএন’ ত্রয়ী। এরপর পিএসজিতে রেকর্ড ট্রান্সফার ফিতে যোগ দিয়ে তিনি ফুটবল বাজারে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেন। তবে, ক্যারিয়ারের পথে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বারবার হওয়া ইনজুরি। তা সত্ত্বেও, তিনি প্রতিবারই ফিরে আসার দৃঢ় প্রত্যয় দেখিয়েছেন এবং এখনো সেই চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। বর্তমানে ইনজুরি কাটিয়ে জাতীয় দলের হয়ে মাঠে ফেরার লক্ষ্যে তিনি কঠোর পরিশ্রম করছেন।

নেইমার জুনিয়র ব্রাজিল জাতীয় দল এবং ক্লাব ফুটবলে অন্যতম সেরা গোলদাতা হিসেবে পরিচিত। তিনি ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে ৭০০-র বেশি গোলে সরাসরি অবদান রেখেছেন (গোল ও অ্যাসিস্ট মিলিয়ে)। ১২৬ ম্যাচে ৭৯ গোল করে তিনি ব্রাজিল জাতীয় দলের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা। বার্সেলোনা ও পিএসজির হয়েও তিনি অসাধারণ সাফল্য অর্জন করেছেন এবং ৩৪টি ট্রফি জিতেছেন। তিনি সান্তোস, বার্সেলোনা, পিএসজি এবং আল হিলালের মতো ক্লাবে খেলেছেন।

শেষ অধ্যায়ের অপেক্ষা?
ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, আসন্ন বিশ্বকাপ হতে পারে এই দুই কিংবদন্তি তারকার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ বড় মঞ্চ। ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো এখনো শারীরিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় প্রস্তুত থাকলেও, নেইমারের ক্ষেত্রে ইনজুরি একটি বড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি করেছে। তবে, তাদের অগণিত ভক্তরা এখনো আশা ছাড়তে রাজি নন, এই দুই মহাতারকা তাদের জাদুকরী নৈপুণ্য দিয়ে আবারও বিশ্বকে মুগ্ধ করবেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সেমিফাইনালের স্বপ্ন জিইয়ে রাখার লড়াই: শ্রীলঙ্কার মুখোমুখি পাকিস্তান, সামনে পাহাড়সম সমীকরণ

একই দিনে জন্ম, বিশ্ব ফুটবলে দুই ভিন্ন নক্ষত্রের আলোকচ্ছটা

আপডেট সময় : ১১:৪০:৫০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ফুটবল ক্যালেন্ডারের ৫ ফেব্রুয়ারি তারিখটি বিশেষভাবে উজ্জ্বল হয়ে থাকে আধুনিক ফুটবলের দুই মহাতারকা—ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ও নেইমার জুনিয়রের জন্মদিনে। একই দিনে পৃথিবীর আলো দেখলেও, তাদের পথচলা, অর্জনের পথে সংগ্রাম এবং ফুটবল ইতিহাসে তাদের স্বতন্ত্র অবস্থান ভিন্ন ভিন্ন রঙে অঙ্কিত হয়েছে। তা সত্ত্বেও, বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে দুজনেই নিজেদের নাম স্বর্ণাক্ষরে খোদাই করতে সক্ষম হয়েছেন।

ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো: অদম্য অধ্যবসায় ও সাফল্যের প্রতীক
১৯৮৫ সালের এই দিনে পর্তুগালের মাদেইরা দ্বীপে জন্ম নেওয়া রোনালদোর শৈশব থেকেই ছিল আকাশছোঁয়া স্বপ্ন। সেই স্বপ্ন পূরণের পথে তিনি কখনো আপস করেননি। মাত্র ১২ বছর বয়সে পরিবার ছেড়ে যোগ দেন স্পোর্টিং লিসবনের যুব একাডেমিতে, যা ছিল এক কিংবদন্তির যাত্রার সূচনা।

ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে যোগ দিয়ে তিনি ইউরোপীয় ফুটবলে নিজের জানান দেন। পরবর্তীতে রিয়াল মাদ্রিদে গিয়ে তিনি নিজেকে এক অন্য উচ্চতায় নিয়ে যান, যেখানে তিনি কেবল ক্লাবেরই নন, বরং সমগ্র ফুটবল ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হন। বয়স বাড়লেও তার ফিটনেস, গোল করার অদম্য ক্ষুধা এবং লড়াইয়ের মানসিকতা আজও অটুট। বর্তমানে সৌদি ক্লাব আল নাসরের হয়ে খেললেও, তার দৃষ্টি এখনো আন্তর্জাতিক মঞ্চে, পর্তুগালকে আরেকটি বিশ্বকাপ শিরোপা এনে দেওয়ার স্বপ্নে বিভোর।

seu ক্যারিয়ারে ৯৬১টিরও বেশি গোল করে তিনি এখনো সক্রিয় রয়েছেন এবং ফুটবল ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে নিজের অবস্থান ধরে রেখেছেন। পর্তুগাল জাতীয় দলের হয়ে তিনি ১৪৩টি গোল করেছেন, যা আন্তর্জাতিক ফুটবলেও এক নতুন রেকর্ড। তিনি স্পোর্টিং লিসবন, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, রিয়াল মাদ্রিদ, জুভেন্টাস এবং আল নাসরের মতো শীর্ষ ক্লাবগুলোর হয়ে খেলেছেন। পাঁচবার ব্যালন ডি’অর এবং পাঁচবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ী এই তারকা ২০১৬ সালে ইউরো শিরোপাও জিতেছেন।

নেইমার জুনিয়র: জন্মগত প্রতিভা ও শৈল্পিকতার মেলবন্ধন
১৯৯২ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি ব্রাজিলে জন্ম নেওয়া নেইমার জুনিয়র ছোটবেলা থেকেই ছিলেন আলোচনার কেন্দ্রে। বলের সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিল একজন শিল্পীর মতো, যা তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করে তুলেছিল। সান্তোসে পেলের উত্তরসূরি হিসেবে নিজেকে মেলে ধরে তিনি, কিশোর বয়সেই তার ড্রিবলিং, গতি এবং অকল্পনীয় সব চাল দিয়ে বিশ্ববাসীর নজর কাড়েন।

বার্সেলোনায় যোগ দিয়ে লিওনেল মেসি ও লুইস সুয়ারেজের সঙ্গে তিনি গড়ে তোলেন ঐতিহাসিক ‘এমএসএন’ ত্রয়ী। এরপর পিএসজিতে রেকর্ড ট্রান্সফার ফিতে যোগ দিয়ে তিনি ফুটবল বাজারে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেন। তবে, ক্যারিয়ারের পথে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বারবার হওয়া ইনজুরি। তা সত্ত্বেও, তিনি প্রতিবারই ফিরে আসার দৃঢ় প্রত্যয় দেখিয়েছেন এবং এখনো সেই চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। বর্তমানে ইনজুরি কাটিয়ে জাতীয় দলের হয়ে মাঠে ফেরার লক্ষ্যে তিনি কঠোর পরিশ্রম করছেন।

নেইমার জুনিয়র ব্রাজিল জাতীয় দল এবং ক্লাব ফুটবলে অন্যতম সেরা গোলদাতা হিসেবে পরিচিত। তিনি ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে ৭০০-র বেশি গোলে সরাসরি অবদান রেখেছেন (গোল ও অ্যাসিস্ট মিলিয়ে)। ১২৬ ম্যাচে ৭৯ গোল করে তিনি ব্রাজিল জাতীয় দলের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা। বার্সেলোনা ও পিএসজির হয়েও তিনি অসাধারণ সাফল্য অর্জন করেছেন এবং ৩৪টি ট্রফি জিতেছেন। তিনি সান্তোস, বার্সেলোনা, পিএসজি এবং আল হিলালের মতো ক্লাবে খেলেছেন।

শেষ অধ্যায়ের অপেক্ষা?
ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, আসন্ন বিশ্বকাপ হতে পারে এই দুই কিংবদন্তি তারকার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ বড় মঞ্চ। ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো এখনো শারীরিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় প্রস্তুত থাকলেও, নেইমারের ক্ষেত্রে ইনজুরি একটি বড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি করেছে। তবে, তাদের অগণিত ভক্তরা এখনো আশা ছাড়তে রাজি নন, এই দুই মহাতারকা তাদের জাদুকরী নৈপুণ্য দিয়ে আবারও বিশ্বকে মুগ্ধ করবেন।