ঢাকা ০৯:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশের প্রতি সংহতি: ভারতের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি ম্যাচ বর্জন ‘সুচিন্তিত পদক্ষেপ’ – শেহবাজ শরিফ

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০১:১৩:০৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৫ বার পড়া হয়েছে

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে নির্ধারিত ম্যাচটি না খেলার সিদ্ধান্তকে অত্যন্ত সুচিন্তিত ও সুপরিকল্পিত পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, খেলাধুলার মাঠে রাজনীতির কোনো স্থান নেই এবং এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে পাকিস্তান বাংলাদেশের প্রতি পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করেছে।

মন্ত্রিসভার এক বৈঠকে বক্তব্য রাখার সময় প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ বলেন, “টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ নিয়ে আমরা একটি স্পষ্ট অবস্থান নিয়েছি – আমরা ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ খেলব না। খেলাধুলার মাঠ রাজনীতির জন্য নয়। এই সিদ্ধান্ত খুব চিন্তাভাবনা করেই নেওয়া হয়েছে এবং আমাদের সম্পূর্ণভাবে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়ানো উচিত। এটি একটি যথাযথ সিদ্ধান্ত।”

উল্লেখ্য, নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগের কারণে ভারতে খেলতে অস্বীকৃতি জানানোর পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) বাংলাদেশের পরিবর্তে স্কটল্যান্ডকে টুর্নামেন্টে অন্তর্ভুক্ত করে। এর প্রতিবাদে পাকিস্তান প্রাথমিকভাবে বাংলাদেশের প্রতি সংহতি জানিয়ে টুর্নামেন্ট থেকে পুরোপুরি সরে দাঁড়ানোর বিষয়টি বিবেচনা করেছিল। তবে শেষ পর্যন্ত সরকার দলকে টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের অনুমতি দিলেও ১৫ ফেব্রুয়ারি কলম্বোতে অনুষ্ঠিতব্য ভারতের বিপক্ষে ম্যাচটি না খেলার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়।

পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) চেয়ারম্যান মহসিন নকভি এবং প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের মধ্যে বৈঠকের পরই এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়।

বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করার ঘটনায় আইসিসির ভূমিকা নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। ভারত ও শ্রীলঙ্কার যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিতব্য ২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সূচি, নিরাপত্তা এবং হাইব্রিড মডেল ঘিরে অসঙ্গতির অভিযোগ তুলে পাকিস্তান প্রকাশ্যে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়ায়।

পাকিস্তানের এই সিদ্ধান্তের পর আইসিসি পিসিবিকে পারস্পরিক সমঝোতার মাধ্যমে একটি সমাধান খুঁজে বের করার আহ্বান জানিয়েছে। তবে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কট করায় গ্রুপ পর্বে পাকিস্তানের সামনে কঠিন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। পাঁচ দলের গ্রুপে শীর্ষ দুইয়ে থাকতে হলে তাদের বাকি তিনটি ম্যাচেই জয় পাওয়া প্রায় বাধ্যতামূলক।

চলতি বছরের ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ৮ মার্চ পর্যন্ত ভারত ও শ্রীলঙ্কায় আয়োজিত এই বিশ্বকাপে পাকিস্তান ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ না খেললেও বাকি ম্যাচগুলোতে অংশ নিচ্ছে। পাকিস্তানের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু হয় ৭ ফেব্রুয়ারি কলম্বোতে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে। এরপর ১০ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে এবং ১৮ ফেব্রুয়ারি নামিবিয়ার বিপক্ষে খেলবে তারা।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সেমিফাইনালের স্বপ্ন জিইয়ে রাখার লড়াই: শ্রীলঙ্কার মুখোমুখি পাকিস্তান, সামনে পাহাড়সম সমীকরণ

বাংলাদেশের প্রতি সংহতি: ভারতের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি ম্যাচ বর্জন ‘সুচিন্তিত পদক্ষেপ’ – শেহবাজ শরিফ

আপডেট সময় : ০১:১৩:০৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে নির্ধারিত ম্যাচটি না খেলার সিদ্ধান্তকে অত্যন্ত সুচিন্তিত ও সুপরিকল্পিত পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, খেলাধুলার মাঠে রাজনীতির কোনো স্থান নেই এবং এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে পাকিস্তান বাংলাদেশের প্রতি পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করেছে।

মন্ত্রিসভার এক বৈঠকে বক্তব্য রাখার সময় প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ বলেন, “টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ নিয়ে আমরা একটি স্পষ্ট অবস্থান নিয়েছি – আমরা ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ খেলব না। খেলাধুলার মাঠ রাজনীতির জন্য নয়। এই সিদ্ধান্ত খুব চিন্তাভাবনা করেই নেওয়া হয়েছে এবং আমাদের সম্পূর্ণভাবে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়ানো উচিত। এটি একটি যথাযথ সিদ্ধান্ত।”

উল্লেখ্য, নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগের কারণে ভারতে খেলতে অস্বীকৃতি জানানোর পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) বাংলাদেশের পরিবর্তে স্কটল্যান্ডকে টুর্নামেন্টে অন্তর্ভুক্ত করে। এর প্রতিবাদে পাকিস্তান প্রাথমিকভাবে বাংলাদেশের প্রতি সংহতি জানিয়ে টুর্নামেন্ট থেকে পুরোপুরি সরে দাঁড়ানোর বিষয়টি বিবেচনা করেছিল। তবে শেষ পর্যন্ত সরকার দলকে টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের অনুমতি দিলেও ১৫ ফেব্রুয়ারি কলম্বোতে অনুষ্ঠিতব্য ভারতের বিপক্ষে ম্যাচটি না খেলার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়।

পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) চেয়ারম্যান মহসিন নকভি এবং প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের মধ্যে বৈঠকের পরই এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়।

বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করার ঘটনায় আইসিসির ভূমিকা নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। ভারত ও শ্রীলঙ্কার যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিতব্য ২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সূচি, নিরাপত্তা এবং হাইব্রিড মডেল ঘিরে অসঙ্গতির অভিযোগ তুলে পাকিস্তান প্রকাশ্যে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়ায়।

পাকিস্তানের এই সিদ্ধান্তের পর আইসিসি পিসিবিকে পারস্পরিক সমঝোতার মাধ্যমে একটি সমাধান খুঁজে বের করার আহ্বান জানিয়েছে। তবে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কট করায় গ্রুপ পর্বে পাকিস্তানের সামনে কঠিন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। পাঁচ দলের গ্রুপে শীর্ষ দুইয়ে থাকতে হলে তাদের বাকি তিনটি ম্যাচেই জয় পাওয়া প্রায় বাধ্যতামূলক।

চলতি বছরের ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ৮ মার্চ পর্যন্ত ভারত ও শ্রীলঙ্কায় আয়োজিত এই বিশ্বকাপে পাকিস্তান ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ না খেললেও বাকি ম্যাচগুলোতে অংশ নিচ্ছে। পাকিস্তানের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু হয় ৭ ফেব্রুয়ারি কলম্বোতে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে। এরপর ১০ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে এবং ১৮ ফেব্রুয়ারি নামিবিয়ার বিপক্ষে খেলবে তারা।