ঢাকা ১২:৩৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬

কার্ডের প্রলোভন ও হুমকির রাজনীতিতে ভোটাররা বিভ্রান্ত হবে না: এটিএম আজহারুল ইসলাম

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:১৫:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

রংপুর-২ (বদরগঞ্জ-তারাগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেছেন, আসন্ন নির্বাচনে ফ্যামিলি, রেশন বা কৃষি কার্ডের মতো বিভিন্ন প্রলোভন এবং ভোটারদের হুমকি দেখিয়ে কোনো মহলই সুবিধা করতে পারবে না। জনগণ অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়েছে এবং মিথ্যা প্রতিশ্রুতির রাজনীতিতে আর বিভ্রান্ত হবে না। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের কচুবাড়ির হাটে ১১ দলীয় জোট আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, অতীতে কিছু মহল নানা ধরনের কার্ডের লোভ দেখিয়ে এবং মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে জনগণের কাছ থেকে ভোট আদায় করেছিল। কিন্তু ক্ষমতায় আসার পর জনগণের সঙ্গে তাদের আচরণ দেশবাসী প্রত্যক্ষ করেছে। যারা প্রকৃত অর্থে দেশ ও মানুষের কল্যাণ চায় এবং ইসলামী মূল্যবোধে বিশ্বাসী, তারা কখনোই আগাম কোনো প্রতিশ্রুতি বা কার্ডের প্রলোভন দেখায় না।

ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি কাজী আব্দুল মাবুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই জনসভায় আরও বক্তব্য রাখেন সাবেক ইউপি সদস্য মহুব আলী, উপজেলা আমির কামারুজ্জামান, নায়েবে আমির শাহ মো. রুস্তম আলীসহ ১১ দলীয় জোটের নেতৃবৃন্দ।

এটিএম আজহারুল ইসলাম এক নেতার সমালোচনা করে বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে যিনি বিদেশে আত্মগোপন করে ছিলেন, তিনিই এখন জামায়াতের নেতাদের ‘গুপ্ত’ বলছেন। জামায়াতের নেতারা কখনো দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাননি, বরং দেশ ত্যাগের একাধিক সুযোগ থাকা সত্ত্বেও তারা জন্মভূমি আঁকড়ে ধরেছেন। তিনি আরও বলেন, হাসিমুখে ফাঁসির মঞ্চে দাঁড়িয়েছেন এবং দেশের জন্য জীবন উৎসর্গ করেছেন জামায়াত নেতারা। দীর্ঘ কারাবরণ ও নির্যাতনের শিকার হয়েও তারা আজ জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছেন।

তিনি অভিযোগ করেন, একটি দল তাদের আসন্ন ভরাডুবি আঁচ করতে পেরে ভোটারদের নানাভাবে হুমকি দিচ্ছে। তারা বলছে, এই আসনে হারলেও ক্ষমতায় তারাই আসবে এবং যারা তাদের ভোট দেবে না, তাদের দেখে নেওয়া হবে। ভোটারদের উদ্দেশে আজহারুল ইসলাম বলেন, আপনারা কোনো ভয় পাবেন না। যারা ভয় দেখায়, তারাই আসলে ভীত। আমরা সর্বদা ভোটারদের পাশে আছি এবং কেউ ভোটারদের ভয় দেখালে আমরাও ছাড় দেব না।

প্রার্থীরা ভোটের সময় পোশাক পরিবর্তন করে ইসলামিক পণ্ডিত সাজার চেষ্টা করেন বলেও তিনি মন্তব্য করেন। মাথায় টুপি, হাতে তসবি নিয়ে তারা সাধারণ ভোটারদের মন জয় করতে চান। কিন্তু জনগণ জানে, কারা প্রকৃতপক্ষে ইসলামী মূল্যবোধকে ধারণ করে দেশ ও মানুষের কল্যাণে কাজ করতে চায়। তিনি আরও বলেন, প্রতিপক্ষরা ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীদের কোনো ব্যক্তিগত দুর্নীতি বা অনিয়মের তথ্য খুঁজে না পেয়ে পুরনো অপপ্রচার ও মিথ্যা অপবাদ ছড়িয়ে ভোট নষ্ট করার পাঁয়তারা করছে। কিন্তু দেশের সাধারণ মানুষ এসব মিথ্যা প্রোপাগান্ডা বা উপঢৌকনে আর ভুলবে না।

উপস্থিত সকলের উদ্দেশে এটিএম আজহার বলেন, ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীরা অন্য কোনো ধর্মাবলম্বীকে আলাদা চোখে দেখেন না। এ দেশ সবার এবং দেশের সকল নাগরিক সমান অধিকার ভোগ করে। এখানে ‘সংখ্যালঘু’ বা ‘সংখ্যাগুরু’ শব্দে তারা বিশ্বাসী নন। দেশের নাগরিক হিসেবে সবাই সমান অধিকারের অধিকারী। তাই আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীদের প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জুলাই আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অবস্থানের অভিযোগ: ঢাবির নীল দল নিষিদ্ধ ও শিক্ষকদের শাস্তির দাবি

কার্ডের প্রলোভন ও হুমকির রাজনীতিতে ভোটাররা বিভ্রান্ত হবে না: এটিএম আজহারুল ইসলাম

আপডেট সময় : ০৭:১৫:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

রংপুর-২ (বদরগঞ্জ-তারাগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেছেন, আসন্ন নির্বাচনে ফ্যামিলি, রেশন বা কৃষি কার্ডের মতো বিভিন্ন প্রলোভন এবং ভোটারদের হুমকি দেখিয়ে কোনো মহলই সুবিধা করতে পারবে না। জনগণ অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়েছে এবং মিথ্যা প্রতিশ্রুতির রাজনীতিতে আর বিভ্রান্ত হবে না। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের কচুবাড়ির হাটে ১১ দলীয় জোট আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, অতীতে কিছু মহল নানা ধরনের কার্ডের লোভ দেখিয়ে এবং মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে জনগণের কাছ থেকে ভোট আদায় করেছিল। কিন্তু ক্ষমতায় আসার পর জনগণের সঙ্গে তাদের আচরণ দেশবাসী প্রত্যক্ষ করেছে। যারা প্রকৃত অর্থে দেশ ও মানুষের কল্যাণ চায় এবং ইসলামী মূল্যবোধে বিশ্বাসী, তারা কখনোই আগাম কোনো প্রতিশ্রুতি বা কার্ডের প্রলোভন দেখায় না।

ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি কাজী আব্দুল মাবুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই জনসভায় আরও বক্তব্য রাখেন সাবেক ইউপি সদস্য মহুব আলী, উপজেলা আমির কামারুজ্জামান, নায়েবে আমির শাহ মো. রুস্তম আলীসহ ১১ দলীয় জোটের নেতৃবৃন্দ।

এটিএম আজহারুল ইসলাম এক নেতার সমালোচনা করে বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে যিনি বিদেশে আত্মগোপন করে ছিলেন, তিনিই এখন জামায়াতের নেতাদের ‘গুপ্ত’ বলছেন। জামায়াতের নেতারা কখনো দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাননি, বরং দেশ ত্যাগের একাধিক সুযোগ থাকা সত্ত্বেও তারা জন্মভূমি আঁকড়ে ধরেছেন। তিনি আরও বলেন, হাসিমুখে ফাঁসির মঞ্চে দাঁড়িয়েছেন এবং দেশের জন্য জীবন উৎসর্গ করেছেন জামায়াত নেতারা। দীর্ঘ কারাবরণ ও নির্যাতনের শিকার হয়েও তারা আজ জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছেন।

তিনি অভিযোগ করেন, একটি দল তাদের আসন্ন ভরাডুবি আঁচ করতে পেরে ভোটারদের নানাভাবে হুমকি দিচ্ছে। তারা বলছে, এই আসনে হারলেও ক্ষমতায় তারাই আসবে এবং যারা তাদের ভোট দেবে না, তাদের দেখে নেওয়া হবে। ভোটারদের উদ্দেশে আজহারুল ইসলাম বলেন, আপনারা কোনো ভয় পাবেন না। যারা ভয় দেখায়, তারাই আসলে ভীত। আমরা সর্বদা ভোটারদের পাশে আছি এবং কেউ ভোটারদের ভয় দেখালে আমরাও ছাড় দেব না।

প্রার্থীরা ভোটের সময় পোশাক পরিবর্তন করে ইসলামিক পণ্ডিত সাজার চেষ্টা করেন বলেও তিনি মন্তব্য করেন। মাথায় টুপি, হাতে তসবি নিয়ে তারা সাধারণ ভোটারদের মন জয় করতে চান। কিন্তু জনগণ জানে, কারা প্রকৃতপক্ষে ইসলামী মূল্যবোধকে ধারণ করে দেশ ও মানুষের কল্যাণে কাজ করতে চায়। তিনি আরও বলেন, প্রতিপক্ষরা ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীদের কোনো ব্যক্তিগত দুর্নীতি বা অনিয়মের তথ্য খুঁজে না পেয়ে পুরনো অপপ্রচার ও মিথ্যা অপবাদ ছড়িয়ে ভোট নষ্ট করার পাঁয়তারা করছে। কিন্তু দেশের সাধারণ মানুষ এসব মিথ্যা প্রোপাগান্ডা বা উপঢৌকনে আর ভুলবে না।

উপস্থিত সকলের উদ্দেশে এটিএম আজহার বলেন, ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীরা অন্য কোনো ধর্মাবলম্বীকে আলাদা চোখে দেখেন না। এ দেশ সবার এবং দেশের সকল নাগরিক সমান অধিকার ভোগ করে। এখানে ‘সংখ্যালঘু’ বা ‘সংখ্যাগুরু’ শব্দে তারা বিশ্বাসী নন। দেশের নাগরিক হিসেবে সবাই সমান অধিকারের অধিকারী। তাই আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীদের প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।