মৌলভীবাজার-৩ (সদর-রাজনগর) আসনে বিএনপির প্রার্থী এম নাসের রহমান সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে ধানের শীষে ভোট চেয়েছেন। এ সময় তিনি জামায়াতে ইসলামীকে নিয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন এবং ভবিষ্যতে তাদের জন্য জাতীয় সংসদে রিজার্ভ আসন রাখার একটি পরিকল্পনা তুলে ধরেন। বুধবার দুপুরে মৌলভীবাজার শহরের এম সাইফুর রহমান অডিটোরিয়ামে রাজনগর ও মৌলভীবাজার সদর উপজেলার সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এম নাসের রহমান বলেন, ধানের শীষ ছাড়া সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দেখভালের আর কেউ নেই। বিএনপি সব সময় তাদের পাশে ছিল, আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। জামায়াতে ইসলামীর সমালোচনা করে তিনি বলেন, এই দলটি কখনোই দেশের ক্ষমতায় আসবে না। তবে যদি কোনোভাবে তারা ক্ষমতায় আসে, তাহলে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা এদেশে শান্তিতে থাকতে পারবেন না।
এর আগে মঙ্গলবার রাতে মৌলভীবাজার পৌরসভা মিলনায়তনেও একই ধরনের সভা অনুষ্ঠিত হয়। উভয় সভাতেই হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতারা ধানের শীষের পক্ষে সমর্থন জানান এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাম্প্রতিক বক্তব্য ও নতুন বাংলাদেশ গড়ার দিকনির্দেশনার প্রশংসা করেন।
নিজের নির্বাচনী এলাকার ভোটার পরিসংখ্যান তুলে ধরে এম নাসের রহমান জানান, তার আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৮৬ হাজার, যার মধ্যে হিন্দু ভোটার ৯২ হাজার ৫৬ জন এবং চা-শ্রমিক প্রায় ৪০ হাজার। তিনি দাবি করেন, চা-শ্রমিকরা তাকে প্রায় শতভাগ সমর্থন দিয়েছেন। তিনি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উদ্দেশে বলেন, অতীতেও বিএনপি তাদের পাশে ছিল, বর্তমানেও আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে, এমনকি ভোট না দিলেও। তাদের পূজা-পার্বণ ও ধর্মীয় উৎসবে দল সব সময় পাশে থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তিনি।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের বিষয়টি তুলে ধরে এম নাসের রহমান বলেন, একসময় দেশে হিন্দু জনসংখ্যা ছিল ১১-১২ শতাংশ, যা বর্তমানে কমে ৮-৯ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। অনেকেই দেশত্যাগ করছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন। এ প্রসঙ্গে তিনি একটি নতুন পরিকল্পনার কথা জানান। তারেক রহমানের সঙ্গে আলোচনা করে ভবিষ্যতে হিন্দু ভোটারদের যথাযথ প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে জাতীয় সংসদে ‘রিজার্ভ আসন’ রাখার বিষয়টি বিবেচনা করা যায় কি না, তা নিয়ে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি। তিনি যুক্তি দেন, যদি ৮-১০ শতাংশ হিন্দু ভোটার থাকে, তবে জাতীয় সংসদে তাদের প্রতিনিধিত্ব ২-৩ জনের বদলে ৮-৯ জন হতে পারে। এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের সমালোচনা করে তিনি বলেন, দলটি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাঁধে বসে মধু খেয়েছে, কিন্তু তাদের জন্য দলগতভাবে কিছুই করেনি।
দিনের সভায় মৌলভীবাজার জেলা পূজা উদযাপন ফ্রন্টের সভাপতি অ্যাডভোকেট সুনীল কুমার দাশ সভাপতিত্ব করেন এবং রাজনগর উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রুপক দেব সঞ্চালনা করেন। এতে বক্তব্য দেন জেলা বারের সিনিয়র অ্যাডভোকেট শান্তিপদ ঘোষ, রাজনগর সরকারি ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ রজত কান্তি গোস্বামী, ধর্মীয় পণ্ডিত নিরঞ্জন গোস্বামী, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট রুনুকান্ত দত্ত, সদস্য সচিব শ্যামলী সূত্রধর, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য স্বাগত কিশোর দাশ চৌধুরী, পূজা উদযাপন ফ্রন্টের সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট গোবিন্দ মোহন পাল, অ্যাডভোকেট রজত কান্তি অর্জুনসহ সনাতন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
মঙ্গলবার রাতের সভায় বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মহিম দে সঞ্চালনা করেন। বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আব্দুর রহিম রিপন, সদস্য বকসী মিসবাউর রহমান, স্বাগত কিশোর দাশ, জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি আশু রঞ্জন দাশ, রাজনগর উপজেলা শাখার সভাপতি অসিত দেব, সদর উপজেলা শাখার সদস্য সচিব শ্যামল কান্তি দাশ, জেলা কমিটির সদস্য জ্যোতিষ রায়, রাজনগর উপজেলা শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ভাস্কর আদিত্য, জেলা কমিটির সদস্য সত্য নারায়ণ নাইডু, সদর উপজেলার ১ নম্বর খলিলপুর ইউনিয়ন কমিটির সভাপতি শেখর দত্ত পুলক, ১১ নম্বর মোস্তফাপুর ইউনিয়ন কমিটির সদস্য হিমাংশু সূত্রধর, ১ নম্বর ফতেহপুর ইউনিয়ন কমিটির সাধারণ সম্পাদক রিপন দাস এবং জেলা কমিটির সদস্য রঞ্জিত বৈদ্য।
রিপোর্টারের নাম 






















