আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৯১.৭ শতাংশ ভোটার ভোট দিতে আগ্রহী। তাদের মধ্যে প্রথম ভোট দেওয়া তরুণ ভোটারদের উল্লেখযোগ্য ৩৭.৪ শতাংশ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে ভোট দেওয়ার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। অন্যদিকে, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ভোটারদের মধ্যে প্রায় অর্ধেক, অর্থাৎ ৪৮.২ শতাংশ বিএনপিকে ভোট দেওয়ার বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছেন। ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে ৬৭.৩ শতাংশ ভোটার দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নেবেন বলে জানিয়েছেন। এছাড়া, ৩৫.৯ শতাংশ ভোটার ধর্মীয় বিষয়কে তাদের বিবেচনার তালিকায় রেখেছেন।
গত ৪ ফেব্রুয়ারি (বুধবার) জাতীয় প্রেসক্লাবে কমিউনিকেশন অ্যান্ড রিসার্চ ফাউন্ডেশন (সিআরএফ) পরিচালিত ‘আনকভারিং দ্য পাবলিক পালস’ শীর্ষক এক জরিপের ফলাফলে এসব তথ্য উঠে এসেছে। বেসরকারি অলাভজনক সংস্থা সিআরএফ এবং বাংলাদেশ ইলেকশন এন্ড পাবলিক ওপিনিয়ন স্টাডিজ (বিইপিওএস)-এর যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত এই জরিপের ফলাফল উপস্থাপন করেন লেখক, গবেষক এবং সিআরএফ-এর স্ট্র্যাটেজিক কো-অরডিনেটর জাকারিয়া পলাশ।
জরিপ অনুযায়ী, মোট ৯১.৭ শতাংশ ভোটার নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন, যেখানে ৮.৩ শতাংশ ভোটার এখনও সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছেন অথবা ভোট দেবেন না। স্ট্রাটিফাইড র্যান্ডম স্যাম্পলিং পদ্ধতিতে ২০২৫ সালের ২০ নভেম্বর থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত দুই ধাপে মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। এতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে মোট ১১ হাজার ৩৮ জন ভোটার তাদের মতামত দেন।
জরিপের ফলাফলে দেখা গেছে, ২০০৮ সালের পর প্রথম ভোট দেওয়া তরুণ ভোটারদের ৩৭.৪ শতাংশ জামায়াতকে, ২৭ শতাংশ বিএনপিকে এবং ১৭ শতাংশ ন্যাশনাল পিপলস পার্টিকে (এনসিপি) ভোট দেওয়ার কথা জানিয়েছেন। এছাড়া, ১৮.৬ শতাংশ তরুণ ভোটার অন্যান্য দলকে সমর্থন করেন অথবা এখনও কোনো সিদ্ধান্ত নেননি।
আওয়ামী লীগের ভোটারদের মধ্যে কাকে ভোট দেবেন, এমন প্রশ্নের জবাবে সর্বোচ্চ ৪৮.২ শতাংশ বিএনপিকে ভোট দেওয়ার আগ্রহ দেখিয়েছেন। ২৯.৯ শতাংশ জামায়াতকে, ১৩ শতাংশ অন্যান্য দলকে এবং ৬.৫ শতাংশ এনসিপিকে ভোট দিতে চান।
ভোটাররা কোন বিষয়গুলোকে প্রাধান্য দিয়ে ভোট দেবেন, সে বিষয়ে জরিপে জানতে চাওয়া হয়। অংশগ্রহণকারীদের ৬৭.৩ শতাংশ দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়ার পক্ষে তাদের অবস্থান তুলে ধরেছেন। একইসঙ্গে, ৬৩.৪ শতাংশ ভোটার দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে সক্ষম প্রার্থীকে বেছে নেবেন বলে জানিয়েছেন। উন্নয়নের বিষয়টি বিবেচনা করবেন ৫৫.৪ শতাংশ ভোটার। চাকরির প্রতিশ্রুতি এবং নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার বিষয়টি ভাবছেন ৫৩ শতাংশ ভোটার। এছাড়া, নিরাপত্তা ও ধর্মীয় বিষয় নিয়ে ভাববেন যথাক্রমে ৫১ ও ৩৫.৯ শতাংশ ভোটার।
নির্বাচনী জরিপে অংশগ্রহণকারীদের ৩০.৪ শতাংশ ভোটার প্রার্থীর প্রতীক দেখে এবং ৩০.২ শতাংশ প্রার্থীর যোগ্যতা দেখে ভোট দেওয়ার কথা জানিয়েছেন।
জরিপ প্রকাশ অনুষ্ঠানে বিশেষজ্ঞ আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব রিডিং -এর অর্থনীতি বিভাগের ভিজিটিং প্রফেসর ড. এম. নিয়াজ আসাদুল্লাহ এবং শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. সাহাবুল হক। অধ্যাপক নিয়াজ আসাদুল্লাহ বলেন, দুর্নীতি ও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষেত্রে কারা যোগ্য, সেটিই ভোটারদের মূল বিবেচ্য বিষয়।
সিআরএফ-এর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, জরিপের ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, ভোটারদের মধ্যে সুশাসন ও জবাবদিহিতা বিষয়ে প্রবল মনোযোগ রয়েছে। অধিকাংশ ভোটারই ভোট দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন এবং পরিচয়ভিত্তিক বা ধর্মীয় ইস্যুর চেয়ে দুর্নীতি ও অর্থনৈতিক সমস্যাকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। একইসঙ্গে, তারা এমন নেতৃত্বের প্রতি দৃঢ় পছন্দ দেখিয়েছেন, যারা জনগণের কথা ভাবেন এবং কার্যকর নেতৃত্ব প্রদর্শন করতে সক্ষম।
রিপোর্টারের নাম 





















