ঢাকা ০৭:৫৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

জনগণের মতামত জনগণকেই নিতে দিতে হবে: আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, “জনগণের মতামত জনগণকেই নিতে দিতে হবে। বাংলাদেশের মানুষকে তাদের সিদ্ধান্ত নিতে দিতে হবে।” তিনি দৃঢ়ভাবে উল্লেখ করেন যে, দেশের মানুষই আগামী নির্বাচনে তাদের সিদ্ধান্ত জানাবে।

শনিবার (১ নভেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে রাজশাহী জেলা পরিষদ মিলনায়তনে রাজশাহী বিভাগীয় ব্যবসায়ী ফোরাম আয়োজিত ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনীতি বিষয়ক এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন।

অর্থনীতি ও গণতন্ত্রায়ন নিয়ে মন্তব্য
বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, “শুধু রাজনৈতিক গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করলেই হবে না, অর্থনীতিরও গণতন্ত্রায়ন করা প্রয়োজন।” তিনি ব্যাখ্যা করে বলেন:

“অর্থনীতিকে গণতন্ত্রায়নের অর্থ হলো— অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও মালিকানা যেন কেবল মুষ্টিমেয় কিছু মানুষের হাতে না থেকে জনগণ, শ্রমিক, ভোক্তা, সরবরাহকারী এবং বৃহত্তর সম্প্রদায়ের হাতে ছড়িয়ে পড়ে। এতে সাধারণ মানুষও উন্নয়নের অংশীদার হতে পারবে।”

তিনি আরও বলেন যে, “অতীতের অর্থনৈতিক মডেল সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করেনি, বরং একটি গোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষা করেছে। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে ‘সবার জন্য অর্থনীতি’ চালু করবে, যাতে উন্নয়নের সুফল সবাই পায়।”

বর্তমান পরিস্থিতি ও নির্বাচনের দাবি
বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কঠোর সমালোচনা করে সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, “দেশে বর্তমানে ব্যবসা-বাণিজ্যের অবস্থা খুবই খারাপ। ব্যবসায়ীরা বিনিয়োগে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন।” ব্যবসায়ীদের উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, “ফেব্রুয়ারি কেন, পারলে এখনই নির্বাচন দিন, অন্তত আমাদের মুক্তি দিন।”

আমির খসরু বলেন, “যারা ঐক্যমতে আছে, তারা তাদের মতামত জনগণের ওপর চাপিয়ে দিতে চায়। তাদের এই দায়িত্ব কেউ দেয়নি। এসব করে তারা নির্বাচন বিলম্বিত করতে চাচ্ছে।”

তিনি বলেন, “গণতন্ত্র মানে জনগণের প্রশ্নের সম্মুখীন হওয়া, রাজনৈতিক দলের এজেন্ডা বাস্তবায়ন নয়। অতীতে আওয়ামী লীগ সরকার জনগণের ওপর জুলুম করে নিজেদের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে চেয়েছিল, কিন্তু জনগণ তার জবাব দিয়েছে। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে মেগা প্রকল্পের নামে জনগণের অর্থ অপচয় করবে না।”

আলোচনা সভার অন্যান্য বক্তারা
এফবিসিসিআইর সাবেক পরিচালক ও রাজশাহী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক সভাপতি মো. লুৎফর রহমান সভায় সভাপতিত্ব করেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র মিজানুর রহমান মিনু।

এছাড়াও চাঁপাইনবাবগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি আব্দুল ওয়াহেদের সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য দেন— রাজশাহী চেম্বারের সিনিয়র সহসভাপতি সুলতান মাহমুদ সুমন, নাটোর চেম্বারের সভাপতি আব্দুল মান্নান, নওগাঁ চেম্বারের সাবেক সভাপতি আলহাজ জাহাঙ্গীর হোসেন, জয়পুরহাট চেম্বারের সাবেক সভাপতি আমিনুল বারি, হিলি বন্দর আমদানি-রফতানি গ্রুপের সভাপতি ফেরদৌস হক এবং সোনামসজিদ স্থলবন্দর গ্রুপের সভাপতি আলহাজ একরামুল হক।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আফগান রাজধানীতে পাকিস্তানের বিমান হামলার অভিযোগ, সীমান্তে চরম উত্তেজনা

জনগণের মতামত জনগণকেই নিতে দিতে হবে: আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী

আপডেট সময় : ০৫:৩০:১৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ নভেম্বর ২০২৫

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, “জনগণের মতামত জনগণকেই নিতে দিতে হবে। বাংলাদেশের মানুষকে তাদের সিদ্ধান্ত নিতে দিতে হবে।” তিনি দৃঢ়ভাবে উল্লেখ করেন যে, দেশের মানুষই আগামী নির্বাচনে তাদের সিদ্ধান্ত জানাবে।

শনিবার (১ নভেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে রাজশাহী জেলা পরিষদ মিলনায়তনে রাজশাহী বিভাগীয় ব্যবসায়ী ফোরাম আয়োজিত ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনীতি বিষয়ক এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন।

অর্থনীতি ও গণতন্ত্রায়ন নিয়ে মন্তব্য
বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, “শুধু রাজনৈতিক গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করলেই হবে না, অর্থনীতিরও গণতন্ত্রায়ন করা প্রয়োজন।” তিনি ব্যাখ্যা করে বলেন:

“অর্থনীতিকে গণতন্ত্রায়নের অর্থ হলো— অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও মালিকানা যেন কেবল মুষ্টিমেয় কিছু মানুষের হাতে না থেকে জনগণ, শ্রমিক, ভোক্তা, সরবরাহকারী এবং বৃহত্তর সম্প্রদায়ের হাতে ছড়িয়ে পড়ে। এতে সাধারণ মানুষও উন্নয়নের অংশীদার হতে পারবে।”

তিনি আরও বলেন যে, “অতীতের অর্থনৈতিক মডেল সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করেনি, বরং একটি গোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষা করেছে। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে ‘সবার জন্য অর্থনীতি’ চালু করবে, যাতে উন্নয়নের সুফল সবাই পায়।”

বর্তমান পরিস্থিতি ও নির্বাচনের দাবি
বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কঠোর সমালোচনা করে সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, “দেশে বর্তমানে ব্যবসা-বাণিজ্যের অবস্থা খুবই খারাপ। ব্যবসায়ীরা বিনিয়োগে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন।” ব্যবসায়ীদের উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, “ফেব্রুয়ারি কেন, পারলে এখনই নির্বাচন দিন, অন্তত আমাদের মুক্তি দিন।”

আমির খসরু বলেন, “যারা ঐক্যমতে আছে, তারা তাদের মতামত জনগণের ওপর চাপিয়ে দিতে চায়। তাদের এই দায়িত্ব কেউ দেয়নি। এসব করে তারা নির্বাচন বিলম্বিত করতে চাচ্ছে।”

তিনি বলেন, “গণতন্ত্র মানে জনগণের প্রশ্নের সম্মুখীন হওয়া, রাজনৈতিক দলের এজেন্ডা বাস্তবায়ন নয়। অতীতে আওয়ামী লীগ সরকার জনগণের ওপর জুলুম করে নিজেদের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে চেয়েছিল, কিন্তু জনগণ তার জবাব দিয়েছে। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে মেগা প্রকল্পের নামে জনগণের অর্থ অপচয় করবে না।”

আলোচনা সভার অন্যান্য বক্তারা
এফবিসিসিআইর সাবেক পরিচালক ও রাজশাহী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক সভাপতি মো. লুৎফর রহমান সভায় সভাপতিত্ব করেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র মিজানুর রহমান মিনু।

এছাড়াও চাঁপাইনবাবগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি আব্দুল ওয়াহেদের সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য দেন— রাজশাহী চেম্বারের সিনিয়র সহসভাপতি সুলতান মাহমুদ সুমন, নাটোর চেম্বারের সভাপতি আব্দুল মান্নান, নওগাঁ চেম্বারের সাবেক সভাপতি আলহাজ জাহাঙ্গীর হোসেন, জয়পুরহাট চেম্বারের সাবেক সভাপতি আমিনুল বারি, হিলি বন্দর আমদানি-রফতানি গ্রুপের সভাপতি ফেরদৌস হক এবং সোনামসজিদ স্থলবন্দর গ্রুপের সভাপতি আলহাজ একরামুল হক।