ঢাকা ০৭:১৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬

ইমেরিটাস অধ্যাপক হলেন ঢাবির চার প্রথিতযশা শিক্ষাবিদ

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:৪৪:২৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) চারজন প্রথিতযশা শিক্ষাবিদকে ইমেরিটাস অধ্যাপক পদে উন্নীত করা হয়েছে। এই চার গুণীজন হলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আনোয়ারউল্লাহ চৌধুরী ও অধ্যাপক ড. এ. এফ. এম. ইউসুফ হায়দার, বিজ্ঞান অনুষদের সাবেক ডিন অধ্যাপক ড. তাজমেরী এস ইসলাম এবং ফার্মেসি অনুষদের সাবেক ডিন অধ্যাপক ড. চৌধুরী মাহমুদ হাসান। মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক রফিকুল ইসলাম মঙ্গলবার এই তথ্য নিশ্চিত করেন। এর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মোট নয়জন শিক্ষাবিদ ইমেরিটাস অধ্যাপক হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন অধ্যাপক ড. এ.এফ. এম. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, অধ্যাপক ড. সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম, অধ্যাপক ড. আতিউর রহমান, অধ্যাপক ড. খন্দকার বজলুল হক ও অধ্যাপক ড. এ. কে. আজাদ চৌধুরী।

নতুন ইমেরিটাস অধ্যাপক হিসেবে মনোনীত চার শিক্ষাবিদের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি নিচে দেওয়া হলো:

অধ্যাপক ড. আনোয়ারউল্লাহ চৌধুরী: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য এবং নৃবিজ্ঞান বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আনোয়ারউল্লাহ চৌধুরী একজন খ্যাতিমান শিক্ষাবিদ, মানববিজ্ঞানী ও লেখক। তিনি প্রায় ৪২ বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেছেন এবং ইউজিসির পূর্ণকালীন সদস্যসহ রাষ্ট্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা স্টেট ইউনিভার্সিটিতে ভিজিটিং প্রফেসর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং ভারত ও যুক্তরাজ্য থেকে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করেন। কর্মজীবনে তিনি বাহরাইনে রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পালন করেছেন এবং জাতিসংঘে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। অধ্যাপক আনোয়ারউল্লাহ একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং প্রায় ২৪টি গ্রন্থের রচয়িতা।

অধ্যাপক ড. এ. এফ. এম. ইউসুফ হায়দার: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও উপ-উপাচার্য ছাড়াও অধ্যাপক ড. এ. এফ. এম. ইউসুফ হায়দার পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান, বিজ্ঞান অনুষদের ডিন, সূর্য সেন হলের প্রভোস্ট এবং সেমিকন্ডাক্টর টেকনোলজি রিসার্চ সেন্টারের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। উপ-উপাচার্য থাকাকালে তিনি সেন্টার ফর অ্যাডভান্সড রিসার্চ ইন সায়েন্সেস (কারস) প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। এছাড়াও, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে আধুনিক অপটিক্স ও লেজার গবেষণাগার স্থাপনে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য।

অধ্যাপক ড. চৌধুরী মাহমুদ হাসান: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের সাবেক শিক্ষক অধ্যাপক ড. চৌধুরী মাহমুদ হাসান ১৯৭৮ সালে শিক্ষকতা জীবন শুরু করেন এবং ১৯৯২ সালে অধ্যাপক পদে উন্নীত হন। তিনি দুই মেয়াদে ফার্মেসি অনুষদের ডিন এবং বিভাগীয় চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। একাডেমিক দায়িত্বের পাশাপাশি তিনি ১৯৯৩-১৯৯৭ মেয়াদে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ওষুধ প্রশাসনের পরিচালক, ২০০৫-২০০৮ মেয়াদে বিসিএসআইআর চেয়ারম্যান এবং ২০১২-২০১৬ মেয়াদে মানারাত আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ছিলেন। জাতীয় ওষুধ নীতি প্রণয়নে তার ভূমিকা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

অধ্যাপক ড. তাজমেরী এস ইসলাম: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের সাবেক শিক্ষক অধ্যাপক ড. তাজমেরী এস ইসলাম বিজ্ঞান অনুষদের ডিন, রোকেয়া হলের প্রভোস্ট এবং রসায়ন বিভাগের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়াও তিনি বিএনপিপন্থী শিক্ষক সংগঠন সাদা দলের আহ্বায়ক হিসেবেও পরিচিত।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

৫ মার্চ: টিভি পর্দায় ক্রিকেট-ফুটবলের ডাবল ধামাকা!

ইমেরিটাস অধ্যাপক হলেন ঢাবির চার প্রথিতযশা শিক্ষাবিদ

আপডেট সময় : ০৮:৪৪:২৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) চারজন প্রথিতযশা শিক্ষাবিদকে ইমেরিটাস অধ্যাপক পদে উন্নীত করা হয়েছে। এই চার গুণীজন হলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আনোয়ারউল্লাহ চৌধুরী ও অধ্যাপক ড. এ. এফ. এম. ইউসুফ হায়দার, বিজ্ঞান অনুষদের সাবেক ডিন অধ্যাপক ড. তাজমেরী এস ইসলাম এবং ফার্মেসি অনুষদের সাবেক ডিন অধ্যাপক ড. চৌধুরী মাহমুদ হাসান। মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক রফিকুল ইসলাম মঙ্গলবার এই তথ্য নিশ্চিত করেন। এর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মোট নয়জন শিক্ষাবিদ ইমেরিটাস অধ্যাপক হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন অধ্যাপক ড. এ.এফ. এম. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, অধ্যাপক ড. সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম, অধ্যাপক ড. আতিউর রহমান, অধ্যাপক ড. খন্দকার বজলুল হক ও অধ্যাপক ড. এ. কে. আজাদ চৌধুরী।

নতুন ইমেরিটাস অধ্যাপক হিসেবে মনোনীত চার শিক্ষাবিদের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি নিচে দেওয়া হলো:

অধ্যাপক ড. আনোয়ারউল্লাহ চৌধুরী: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য এবং নৃবিজ্ঞান বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আনোয়ারউল্লাহ চৌধুরী একজন খ্যাতিমান শিক্ষাবিদ, মানববিজ্ঞানী ও লেখক। তিনি প্রায় ৪২ বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেছেন এবং ইউজিসির পূর্ণকালীন সদস্যসহ রাষ্ট্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা স্টেট ইউনিভার্সিটিতে ভিজিটিং প্রফেসর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং ভারত ও যুক্তরাজ্য থেকে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করেন। কর্মজীবনে তিনি বাহরাইনে রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পালন করেছেন এবং জাতিসংঘে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। অধ্যাপক আনোয়ারউল্লাহ একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং প্রায় ২৪টি গ্রন্থের রচয়িতা।

অধ্যাপক ড. এ. এফ. এম. ইউসুফ হায়দার: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও উপ-উপাচার্য ছাড়াও অধ্যাপক ড. এ. এফ. এম. ইউসুফ হায়দার পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান, বিজ্ঞান অনুষদের ডিন, সূর্য সেন হলের প্রভোস্ট এবং সেমিকন্ডাক্টর টেকনোলজি রিসার্চ সেন্টারের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। উপ-উপাচার্য থাকাকালে তিনি সেন্টার ফর অ্যাডভান্সড রিসার্চ ইন সায়েন্সেস (কারস) প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। এছাড়াও, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে আধুনিক অপটিক্স ও লেজার গবেষণাগার স্থাপনে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য।

অধ্যাপক ড. চৌধুরী মাহমুদ হাসান: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের সাবেক শিক্ষক অধ্যাপক ড. চৌধুরী মাহমুদ হাসান ১৯৭৮ সালে শিক্ষকতা জীবন শুরু করেন এবং ১৯৯২ সালে অধ্যাপক পদে উন্নীত হন। তিনি দুই মেয়াদে ফার্মেসি অনুষদের ডিন এবং বিভাগীয় চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। একাডেমিক দায়িত্বের পাশাপাশি তিনি ১৯৯৩-১৯৯৭ মেয়াদে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ওষুধ প্রশাসনের পরিচালক, ২০০৫-২০০৮ মেয়াদে বিসিএসআইআর চেয়ারম্যান এবং ২০১২-২০১৬ মেয়াদে মানারাত আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ছিলেন। জাতীয় ওষুধ নীতি প্রণয়নে তার ভূমিকা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

অধ্যাপক ড. তাজমেরী এস ইসলাম: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের সাবেক শিক্ষক অধ্যাপক ড. তাজমেরী এস ইসলাম বিজ্ঞান অনুষদের ডিন, রোকেয়া হলের প্রভোস্ট এবং রসায়ন বিভাগের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়াও তিনি বিএনপিপন্থী শিক্ষক সংগঠন সাদা দলের আহ্বায়ক হিসেবেও পরিচিত।