ঢাকা ০৮:৪০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬

কেরানীগঞ্জে অভিনব ইয়াবা কারখানা উদ্ঘাটন, আটক ৪

রাজধানীর পার্শ্ববর্তী কেরানীগঞ্জে অভিনব উপায়ে তৈরি একটি মাদক কারখানা উদ্ঘাটন করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব-১০)। মিয়ানমার বা সীমান্তবর্তী অঞ্চল থেকে আনা নয়, বরং সাধারণ ডেক্সচি ও পাউডার ব্যবহার করে ঘরে বসেই তৈরি হচ্ছিল প্রাণঘাতী ইয়াবা। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা, তৈরির কাঁচামাল এবং ম্যানুয়াল প্রেস মেশিনসহ চারজন মাদক কারবারিকে আটক করা হয়।

শুক্রবার (৩১ জুলাই) কারওয়ানবাজারে অবস্থিত র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন র‌্যাব-১০-এর অধিনায়ক (পরিচালক) অতিরিক্ত ডিআইজি মোহা. আসাদুজ্জামান।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার রাত ১০টা ১০ মিনিটের দিকে ঢাকা জেলার কেরানীগঞ্জ মডেল থানাধীন মধ্যচর দক্ষিণ বালুরচর এলাকায় একটি গোপন আস্তানায় এই অভিযান চালায় র‌্যাব-১০-এর সদর কোম্পানির একটি দল।

অভিযানে প্রায় ৫ লাখ ৯০ হাজার ৪০০ টাকা মূল্যের ১ হাজার ৯৬৮ পিস তৈরি ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। এছাড়া, ট্যাবলেট তৈরির বিভিন্ন রাসায়নিক পাউডার সদৃশ কাঁচামাল, ইয়াবার আকৃতি দেওয়ার ডায়াস ও ম্যানুয়াল যন্ত্র, পাঁচটি মোবাইল ফোন এবং একটি সূক্ষ্ম ডিজিটাল ওজন পরিমাপক যন্ত্র জব্দ করা হয়েছে।

আটককৃতরা হলেন— মো. আলমগীর ওরফে আন্ডে (৪০), মো. আলী আরমান (৩৬), মো. শাহজাহান (৪০) এবং সোনিয়া (৩০)। এদের মধ্যে আলমগীর ওরফে আন্ডে এই মাদক চক্রের অন্যতম হোতা বলে জানা গেছে।

র‌্যাব কর্মকর্তা জানান, আটককৃতদের মূল পরিকল্পনা ছিল সীমান্ত পেরিয়ে আসা মূল চালানের ওপর নির্ভর না করে নিজেরাই রাসায়নিক সংমিশ্রণে নকল ইয়াবা তৈরি করা। তারা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন স্থান থেকে প্রয়োজনীয় কেমিক্যাল ও কেমিক্যাল পাউডার সংগ্রহ করে দুর্গম এই আস্তানায় রাতারাতি ইয়াবা বানিয়ে ঢাকা ও এর আশেপাশের জেলাগুলোতে সরবরাহ করে আসছিল। চক্রটিতে একজন নারী সদস্যও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতেন।

গ্রেপ্তারকৃত আলমগীর ওরফে ‘আন্ডে’ একজন চিহ্নিত অপরাধী। তার বিরুদ্ধে রাজধানীর রামপুরা, কামরাঙ্গীরচর ও মোহাম্মদপুর থানায় অন্তত তিনটি মাদক মামলার এজাহার রয়েছে। সীমান্তপথে মাদকের কড়াকড়ির কারণে এই চক্রটি কম খরচে ঘরে বসেই ক্ষতিকর রাসায়নিক মিশিয়ে বিপজ্জনক এসব ট্যাবলেট তৈরি করত।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

টেকনাফে রোহিঙ্গা বোঝাই নৌকাডুবি: সাতজন নিখোঁজ, ১৮ জনকে জীবিত উদ্ধার

কেরানীগঞ্জে অভিনব ইয়াবা কারখানা উদ্ঘাটন, আটক ৪

আপডেট সময় : ০৬:৪২:০৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬

রাজধানীর পার্শ্ববর্তী কেরানীগঞ্জে অভিনব উপায়ে তৈরি একটি মাদক কারখানা উদ্ঘাটন করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব-১০)। মিয়ানমার বা সীমান্তবর্তী অঞ্চল থেকে আনা নয়, বরং সাধারণ ডেক্সচি ও পাউডার ব্যবহার করে ঘরে বসেই তৈরি হচ্ছিল প্রাণঘাতী ইয়াবা। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা, তৈরির কাঁচামাল এবং ম্যানুয়াল প্রেস মেশিনসহ চারজন মাদক কারবারিকে আটক করা হয়।

শুক্রবার (৩১ জুলাই) কারওয়ানবাজারে অবস্থিত র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন র‌্যাব-১০-এর অধিনায়ক (পরিচালক) অতিরিক্ত ডিআইজি মোহা. আসাদুজ্জামান।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার রাত ১০টা ১০ মিনিটের দিকে ঢাকা জেলার কেরানীগঞ্জ মডেল থানাধীন মধ্যচর দক্ষিণ বালুরচর এলাকায় একটি গোপন আস্তানায় এই অভিযান চালায় র‌্যাব-১০-এর সদর কোম্পানির একটি দল।

অভিযানে প্রায় ৫ লাখ ৯০ হাজার ৪০০ টাকা মূল্যের ১ হাজার ৯৬৮ পিস তৈরি ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। এছাড়া, ট্যাবলেট তৈরির বিভিন্ন রাসায়নিক পাউডার সদৃশ কাঁচামাল, ইয়াবার আকৃতি দেওয়ার ডায়াস ও ম্যানুয়াল যন্ত্র, পাঁচটি মোবাইল ফোন এবং একটি সূক্ষ্ম ডিজিটাল ওজন পরিমাপক যন্ত্র জব্দ করা হয়েছে।

আটককৃতরা হলেন— মো. আলমগীর ওরফে আন্ডে (৪০), মো. আলী আরমান (৩৬), মো. শাহজাহান (৪০) এবং সোনিয়া (৩০)। এদের মধ্যে আলমগীর ওরফে আন্ডে এই মাদক চক্রের অন্যতম হোতা বলে জানা গেছে।

র‌্যাব কর্মকর্তা জানান, আটককৃতদের মূল পরিকল্পনা ছিল সীমান্ত পেরিয়ে আসা মূল চালানের ওপর নির্ভর না করে নিজেরাই রাসায়নিক সংমিশ্রণে নকল ইয়াবা তৈরি করা। তারা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন স্থান থেকে প্রয়োজনীয় কেমিক্যাল ও কেমিক্যাল পাউডার সংগ্রহ করে দুর্গম এই আস্তানায় রাতারাতি ইয়াবা বানিয়ে ঢাকা ও এর আশেপাশের জেলাগুলোতে সরবরাহ করে আসছিল। চক্রটিতে একজন নারী সদস্যও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতেন।

গ্রেপ্তারকৃত আলমগীর ওরফে ‘আন্ডে’ একজন চিহ্নিত অপরাধী। তার বিরুদ্ধে রাজধানীর রামপুরা, কামরাঙ্গীরচর ও মোহাম্মদপুর থানায় অন্তত তিনটি মাদক মামলার এজাহার রয়েছে। সীমান্তপথে মাদকের কড়াকড়ির কারণে এই চক্রটি কম খরচে ঘরে বসেই ক্ষতিকর রাসায়নিক মিশিয়ে বিপজ্জনক এসব ট্যাবলেট তৈরি করত।