ঢাকা ০৮:৫৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬

সুষ্ঠু নির্বাচনে আনসার-ভিডিপি: পেশাদারিত্ব ও আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ের নির্দেশ

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:৩৯:০৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট–২০২৬ সামনে রেখে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী তাদের ধারাবাহিক প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম জোরদার করেছে। এরই অংশ হিসেবে গত মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) খুলনার জেলা স্টেডিয়ামে এক গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতিমূলক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ নির্বাচনি দায়িত্ব পালনে আনসার-ভিডিপি সদস্যদের সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, কঠোর নিরপেক্ষতা ও সতর্কতার সঙ্গে কাজ করার নির্দেশ দেন।

সমাবেশে উপস্থিত সদস্যদের উদ্দেশে মহাপরিচালক বলেন, রাষ্ট্রের কল্যাণে এই নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে নিয়োজিত ১৩ জন আনসার-ভিডিপি সদস্য যদি অটল পাহাড়ের ন্যায় যেকোনো বিশৃঙ্খলা ও হুমকি সফলভাবে প্রতিহত করতে সক্ষম হন, তবেই জাতির কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হবে। একই সময়ে খুলনা স্টেডিয়ামের এই সমাবেশ থেকে ডিজিটাল জায়ান্ট স্ক্রিনের মাধ্যমে যশোর, কুষ্টিয়া ও ঝিনাইদহ জেলার নির্বাচন প্রস্তুতিমূলক সমাবেশে উপস্থিত সদস্যদের সরাসরি দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়, যা বাহিনীর সমন্বিত ও প্রযুক্তিনির্ভর প্রস্তুতিকে আরও সুদৃঢ় করেছে।

মেজর জেনারেল সাজ্জাদ মাহমুদ বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীকে দেশের নির্বাচনি নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রথম সারির প্রতিরক্ষা স্তর হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি নির্বাচনি নিরাপত্তায় আধুনিক প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহারের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। মহাপরিচালক জানান, ভোটকেন্দ্রে কোনো অবাঞ্ছিত আচরণ পরিলক্ষিত হলে দায়িত্বরত দুজন সদস্য ‘নির্বাচনি সুরক্ষা অ্যাপস’-এর মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে তথ্য প্রদান করবেন, যাতে সংশ্লিষ্ট টহল টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, যোগ্য সদস্য নির্বাচন এবং সরাসরি ভাতা প্রদানের ক্ষেত্রে ‘এসটিডিএমএস (STDMS)’ সফটওয়্যার ব্যবহারের ফলে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হয়েছে। এর পাশাপাশি কিউআর কোড স্ক্যানের মাধ্যমে বৈধ গণমাধ্যমকর্মী, পর্যবেক্ষক ও সরকারি কর্মকর্তাদের শনাক্তকরণ এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সাথে ক্যামেরা সংযুক্ত করে মাঠ পর্যায়ের শৃঙ্খলা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে। এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে বাংলাদেশের নির্বাচনি ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একটি প্রযুক্তিনির্ভর, আধুনিক ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন উপহার দেওয়া সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

মহাপরিচালক বলেন, “নির্বাচনি দায়িত্ব আমাদের কাছে একটি পবিত্র আমানত। ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ কিংবা পরিচয়-অপরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে দেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে। রাষ্ট্রীয় সংস্কারের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ কল্যাণের যে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে, তার পূর্ণ বিকাশের জন্য একটি নিরাপদ ও গ্রহণযোগ্য উৎসবমুখর নির্বাচনের কোনো বিকল্প নেই।”

তিনি আরও আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রায় ৫ লাখ ৬০ হাজার সদস্য ও সদস্যা সরাসরি নির্বাচনি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দায়িত্ব পালন করবেন। পারস্পরিক সমন্বয়, আধুনিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে নিবিড় সহযোগিতার মাধ্যমে এই বিশাল বাহিনী নির্বাচনি ইতিহাসে একটি শক্তিশালী ও মৌলিক ভূমিকা পালন করবে বলেও তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

সমাপনী বক্তব্যে মহাপরিচালক একটি সুশৃঙ্খল, শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ নির্বাচনি পরিবেশ নিশ্চিত করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি দৃঢ়ভাবে জানান, আধুনিক প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার, অটল মনোবল ও সমন্বিত পেশাদারিত্বের মাধ্যমে আনসার-ভিডিপি সারাদেশে একটি সুদৃঢ় ও অভেদ্য নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলবে—যার ফলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট–২০২৬ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিসরে একটি বিশ্বাসযোগ্য, স্বচ্ছ ও গণতান্ত্রিক দৃষ্টান্ত হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে শিবিরের ইফতার আয়োজন: বিশৃঙ্খলা ও খাবার সংকটে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা

সুষ্ঠু নির্বাচনে আনসার-ভিডিপি: পেশাদারিত্ব ও আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ের নির্দেশ

আপডেট সময় : ০৬:৩৯:০৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট–২০২৬ সামনে রেখে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী তাদের ধারাবাহিক প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম জোরদার করেছে। এরই অংশ হিসেবে গত মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) খুলনার জেলা স্টেডিয়ামে এক গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতিমূলক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ নির্বাচনি দায়িত্ব পালনে আনসার-ভিডিপি সদস্যদের সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, কঠোর নিরপেক্ষতা ও সতর্কতার সঙ্গে কাজ করার নির্দেশ দেন।

সমাবেশে উপস্থিত সদস্যদের উদ্দেশে মহাপরিচালক বলেন, রাষ্ট্রের কল্যাণে এই নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে নিয়োজিত ১৩ জন আনসার-ভিডিপি সদস্য যদি অটল পাহাড়ের ন্যায় যেকোনো বিশৃঙ্খলা ও হুমকি সফলভাবে প্রতিহত করতে সক্ষম হন, তবেই জাতির কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হবে। একই সময়ে খুলনা স্টেডিয়ামের এই সমাবেশ থেকে ডিজিটাল জায়ান্ট স্ক্রিনের মাধ্যমে যশোর, কুষ্টিয়া ও ঝিনাইদহ জেলার নির্বাচন প্রস্তুতিমূলক সমাবেশে উপস্থিত সদস্যদের সরাসরি দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়, যা বাহিনীর সমন্বিত ও প্রযুক্তিনির্ভর প্রস্তুতিকে আরও সুদৃঢ় করেছে।

মেজর জেনারেল সাজ্জাদ মাহমুদ বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীকে দেশের নির্বাচনি নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রথম সারির প্রতিরক্ষা স্তর হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি নির্বাচনি নিরাপত্তায় আধুনিক প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহারের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। মহাপরিচালক জানান, ভোটকেন্দ্রে কোনো অবাঞ্ছিত আচরণ পরিলক্ষিত হলে দায়িত্বরত দুজন সদস্য ‘নির্বাচনি সুরক্ষা অ্যাপস’-এর মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে তথ্য প্রদান করবেন, যাতে সংশ্লিষ্ট টহল টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, যোগ্য সদস্য নির্বাচন এবং সরাসরি ভাতা প্রদানের ক্ষেত্রে ‘এসটিডিএমএস (STDMS)’ সফটওয়্যার ব্যবহারের ফলে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হয়েছে। এর পাশাপাশি কিউআর কোড স্ক্যানের মাধ্যমে বৈধ গণমাধ্যমকর্মী, পর্যবেক্ষক ও সরকারি কর্মকর্তাদের শনাক্তকরণ এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সাথে ক্যামেরা সংযুক্ত করে মাঠ পর্যায়ের শৃঙ্খলা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে। এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে বাংলাদেশের নির্বাচনি ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একটি প্রযুক্তিনির্ভর, আধুনিক ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন উপহার দেওয়া সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

মহাপরিচালক বলেন, “নির্বাচনি দায়িত্ব আমাদের কাছে একটি পবিত্র আমানত। ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ কিংবা পরিচয়-অপরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে দেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে। রাষ্ট্রীয় সংস্কারের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ কল্যাণের যে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে, তার পূর্ণ বিকাশের জন্য একটি নিরাপদ ও গ্রহণযোগ্য উৎসবমুখর নির্বাচনের কোনো বিকল্প নেই।”

তিনি আরও আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রায় ৫ লাখ ৬০ হাজার সদস্য ও সদস্যা সরাসরি নির্বাচনি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দায়িত্ব পালন করবেন। পারস্পরিক সমন্বয়, আধুনিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে নিবিড় সহযোগিতার মাধ্যমে এই বিশাল বাহিনী নির্বাচনি ইতিহাসে একটি শক্তিশালী ও মৌলিক ভূমিকা পালন করবে বলেও তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

সমাপনী বক্তব্যে মহাপরিচালক একটি সুশৃঙ্খল, শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ নির্বাচনি পরিবেশ নিশ্চিত করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি দৃঢ়ভাবে জানান, আধুনিক প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার, অটল মনোবল ও সমন্বিত পেশাদারিত্বের মাধ্যমে আনসার-ভিডিপি সারাদেশে একটি সুদৃঢ় ও অভেদ্য নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলবে—যার ফলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট–২০২৬ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিসরে একটি বিশ্বাসযোগ্য, স্বচ্ছ ও গণতান্ত্রিক দৃষ্টান্ত হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে।