চলতি ফেব্রুয়ারি মাস বাংলাদেশের আবহাওয়ায় এক ভিন্ন মাত্রা যোগ করতে চলেছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, স্বাভাবিকের চেয়ে ভিন্ন এক আবহাওয়া বিরাজ করবে এ মাসে, যেখানে অপ্রত্যাশিত বৃষ্টিপাত এবং তাপমাত্রার উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা যেতে পারে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শীতের বিদায়লগ্নে এমন ব্যতিক্রমী পূর্বাভাস জনমনে কৌতূহল সৃষ্টি করেছে।
আবহাওয়াবিদদের মতে, ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে দেশের উত্তরাঞ্চলে হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। পশ্চিমা লঘুচাপের প্রভাবে এই বৃষ্টিপাত হতে পারে, যা সাধারণত এই সময়ে খুব একটা দেখা যায় না। বৃষ্টির পাশাপাশি বজ্রপাতের আশঙ্কাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না বিশেষজ্ঞরা। একই সময়ে, দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও মেঘলা আকাশ এবং হালকা গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
তাপমাত্রার ক্ষেত্রেও দেখা যাবে বৈচিত্র্য। মাসের শুরুর দিকে রাতের তাপমাত্রা তুলনামূলকভাবে কম থাকতে পারে, যা হালকা শীতের আমেজ ধরে রাখবে। তবে দিনের বেলায় তাপমাত্রা কিছুটা বৃদ্ধি পেয়ে সহনীয় পর্যায়ে থাকবে। ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে তাপমাত্রা কিছুটা কমে গিয়ে আবার শীতের অনুভূতি ফিরে আসতে পারে, বিশেষ করে দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে। এরপর মাসের শেষ ভাগে ধীরে ধীরে তাপমাত্রা বাড়তে শুরু করবে, যা গ্রীষ্মের আগমনী বার্তা বহন করবে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের দীর্ঘমেয়াদী পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে এক বা একাধিক মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। সামগ্রিকভাবে, এই মাসের আবহাওয়া স্বাভাবিকের চেয়ে ভিন্ন আচরণ করবে, যা বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের একটি প্রভাব হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
কৃষকদের জন্য এই পূর্বাভাস গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে যারা বোরো ধানের চারা রোপণ করছেন বা শীতকালীন সবজি চাষে জড়িত। আকস্মিক বৃষ্টিপাত ও তাপমাত্রার ওঠানামা ফসল উৎপাদনে প্রভাব ফেলতে পারে। তাই সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সাধারণ মানুষকেও দিনের বিভিন্ন সময়ে আবহাওয়ার আকস্মিক পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 





















