আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর প্রচারণায় ভারত-সংক্রান্ত কোনো আলোচনা বা ইস্যু অনুপস্থিত। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দিল্লির সম্ভাব্য অসন্তোষ বা চাপ এড়াতেই এই দুই দল কৌশলগত নীরবতা অবলম্বন করছে।
সাধারণত, বাংলাদেশের রাজনীতিতে ভারত ইস্যু একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ হিসেবে বিবেচিত হয়ে থাকে, বিশেষ করে বিরোধী দলগুলোর প্রচারে। সীমান্ত, বাণিজ্য, তিস্তাসহ বিভিন্ন নদীর পানি বণ্টন, বা আঞ্চলিক ভূ-রাজনৈতিক বিষয়গুলো প্রায়শই নির্বাচনী বিতর্কের অংশ হয়ে ওঠে। তবে, এবারের নির্বাচনী প্রচারণায় বিএনপি ও জামায়াত, উভয় দলের তরফেই ভারত-কেন্দ্রিক কোনো সমালোচনা, অভিযোগ বা এমনকি ইতিবাচক আলোচনাও লক্ষ্য করা যাচ্ছে না।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহল মনে করছেন, এই নীরবতা কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়, বরং এটি একটি সুচিন্তিত কৌশল। তাদের মতে, বিগত বছরগুলোতে বিভিন্ন সময়ে ভারত-বিরোধী অবস্থান বা বক্তব্য বিএনপি-জামায়াতকে কূটনৈতিকভাবে কিছুটা চাপের মুখে ফেলেছিল। আসন্ন নির্বাচনের আগে তারা সম্ভবত সেই ধরনের কোনো পরিস্থিতি পুনরাবৃত্তি করতে চাইছে না, যা তাদের নির্বাচনী এজেন্ডা বা আন্তর্জাতিক সমর্থন আদায়ে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, দিল্লির পক্ষ থেকে সম্ভাব্য চাপ বা অসন্তোষ সৃষ্টি হতে পারে এমন কোনো বার্তা দিতে চাইছে না এই দুই দল। এর মাধ্যমে তারা একটি নিরপেক্ষ বা অন্তত ভারত-বিদ্বেষী নয় এমন একটি ভাবমূর্তি তুলে ধরতে আগ্রহী, যা তাদের প্রতি আন্তর্জাতিক মহলের সমর্থন আদায়ে সহায়ক হতে পারে। তারা আরও বলছেন, ভারত বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী এবং আঞ্চলিক শক্তি হিসেবে, তার সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা বা অন্তত বৈরিতা এড়িয়ে চলা একটি বাস্তবসম্মত রাজনৈতিক পদক্ষেপ। এই কৌশলগত নীরবতা তাদের দীর্ঘমেয়াদী রাজনৈতিক লক্ষ্য পূরণে একটি নতুন দিকনির্দেশনা বলেও অনেকে মনে করছেন।
রিপোর্টারের নাম 





















