ঢাকা ১০:২৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬

পোস্টাল ভোটে অনাগ্রহ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের: নিবন্ধনের বাইরে ১২ লাখ ভোটকর্মী

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:৫৮:১২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ক্ষণগণনা শুরু হলেও নির্বাচনী দায়িত্ব পালনকারী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে ব্যাপক অনীহা পরিলক্ষিত হচ্ছে। নির্বাচনের আর মাত্র আটদিন বাকি থাকলেও ভোটগ্রহণের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত বিপুল সংখ্যক কর্মী এবার ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ হারাতে পারেন। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, নির্বাচনে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রায় ১৭ লাখ কর্মীর মধ্যে মাত্র ৫ লাখ ১৮ হাজার ৬০৩ জন পোস্টাল ভোটের জন্য নিবন্ধন করেছেন। ফলে নিবন্ধনের বাইরে থাকা প্রায় ১২ লাখ সদস্য ভোট দেওয়া থেকে বিরত থাকছেন বলে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নির্বাচনের দিন পেশাগত দায়িত্ব পালন এবং পরিবারের নিরাপত্তা ইস্যুকেই তারা বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। যাদের নির্বাচনের সরাসরি দায়িত্ব নেই, সেইসব সরকারি চাকরিজীবীদের একটি বড় অংশও এবারের নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রে যাওয়া নিয়ে সংশয়ে রয়েছেন। এছাড়া অনেকের মোবাইলে পোস্টাল ব্যালট সংক্রান্ত বার্তা পৌঁছালেও তা গ্রহণ বা ভোট দেওয়ার বিষয়ে তেমন আগ্রহ দেখা যাচ্ছে না।

স্বাধীনতা পরবর্তী সময় থেকেই দেশে পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার বিধান চালু রয়েছে। তবে অতীতে এর প্রচার ও প্রয়োগ সীমিত থাকলেও এবারই প্রথম অনলাইনে নিবন্ধনের মাধ্যমে পোস্টাল ভোটের সুযোগ তৈরি করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন বিষয়টিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও মাঠপর্যায়ের অনেক সরকারি কর্মচারী অভিযোগ করেছেন যে, তারা এই প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত জানেন না।

রাজধানীতে কর্মরত সরকারি কর্মচারীদের একটি বড় অংশের ভোটার এলাকা নিজ কর্মস্থলের বাইরে। সচিবালয়সহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে কর্মরতদের সঙ্গে আলাপকালে জানা যায়, নির্বাচনের কর্মব্যস্ততা এবং যাতায়াত সমস্যার কারণে অনেকেই ভোট নিয়ে ভাবছেন না। এছাড়া দীর্ঘ ছুটিতে পরিবার নিয়ে গ্রামের বাড়িতে যাতায়াত করা এবং সেখানে নিরাপত্তার অভাব বোধ করায় অনেকে নিজ এলাকায় যেতে চাচ্ছেন না।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা হিসেবে ১৬ লাখ ৮২ হাজার ৩৮২ জন দায়িত্ব পালন করবেন। এর মধ্যে প্রিজাইডিং অফিসার ৪২ হাজার ৭৭৯ জন, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৮২ জন এবং পোলিং অফিসার ৪ লাখ ৯৪ হাজার ৯৬৪ জন। সব মিলিয়ে ভোটগ্রহণকারী কর্মকর্তার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭ লাখ ৮৫ হাজার ২২৫।

পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ৮ লাখ ৯৭ হাজার ১১৭ জন সদস্য ভোটের মাঠে নিয়োজিত থাকবেন। এর মধ্যে সেনাবাহিনী ১ লাখ, আনসার ও ভিডিপি ৫ লাখ ৭৬ হাজার ৩১৪, পুলিশ ১ লাখ ৪৯ হাজার ৪৪৩, বিজিবি ৩৭ হাজার ৪৫৩, ফায়ার সার্ভিস ১৩ হাজার ৩৯০, র‍্যাব ৭ হাজার ৭০০, নৌবাহিনী ৫ হাজার, বিমানবাহিনী ৩ হাজার ৭৩০ এবং কোস্ট গার্ডের ৩ হাজার ৫৮৫ জন সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন।

মাঠপর্যায়ের চিত্র বিশ্লেষণে দেখা যায়, অনেক ব্যাংক কর্মকর্তা ও শিক্ষক নির্বাচনী দায়িত্ব পেলেও পোস্টাল ভোটের নিবন্ধন প্রক্রিয়াকে বেশ জটিল মনে করছেন। কেউ কেউ শেষ মুহূর্তে নিবন্ধনের চেষ্টা করে কারিগরি কারণে ব্যর্থ হয়েছেন। আবার অনেকে দায়িত্বরত অবস্থায় ভোট দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে সচেতন নন।

নির্বাচন কমিশনের গত ৩১ জানুয়ারির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপের মাধ্যমে দেশি ও প্রবাসী মিলিয়ে মোট ১৫ লাখ ৩৩ হাজার ৬৮৪ জন ভোটার নিবন্ধন করেছেন। এর মধ্যে ৫ লাখ ১৮ হাজার ৬০৩ জন অভ্যন্তরীণ ভোটারকে ব্যালট পাঠানো হলেও মাত্র ৭ হাজার ৩৬৭ জন ব্যালট গ্রহণ করেছেন এবং শেষ পর্যন্ত ভোট প্রদান করেছেন ৪ হাজার ৯০২ জন। অন্যদিকে, প্রবাসী ভোটারদের মধ্যে ৪ লাখ ৫৮ হাজার ৫৯ জন ভোটদান সম্পন্ন করেছেন।

সার্বিক বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, অনেকেই হয়তো শুরুতে ভেবেছিলেন তাদের নির্বাচনী দায়িত্ব পড়বে না এবং তারা সরাসরি ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেবেন। কিন্তু শেষ মুহূর্তে যখন দায়িত্বের আদেশ পেয়েছেন, তখন আর নিবন্ধনের সময় ছিল না। তবে পর্যাপ্ত প্রচারণার অভাবের অভিযোগটি নাকচ করে দিয়ে ইসি সচিবালয় জানিয়েছে, বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক প্রচারণা চালানো হয়েছে। পোস্টাল ভোটে কেন এত কম সাড়া পাওয়া গেল, তা নির্বাচন পরবর্তী সময়ে বিস্তারিত বিশ্লেষণ করা হবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জনসেবা স্থবির বরিশালে: নির্বাচিত প্রতিনিধি শূন্যতায় চরম দুর্ভোগে নগরবাসী

পোস্টাল ভোটে অনাগ্রহ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের: নিবন্ধনের বাইরে ১২ লাখ ভোটকর্মী

আপডেট সময় : ০৮:৫৮:১২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ক্ষণগণনা শুরু হলেও নির্বাচনী দায়িত্ব পালনকারী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে ব্যাপক অনীহা পরিলক্ষিত হচ্ছে। নির্বাচনের আর মাত্র আটদিন বাকি থাকলেও ভোটগ্রহণের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত বিপুল সংখ্যক কর্মী এবার ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ হারাতে পারেন। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, নির্বাচনে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রায় ১৭ লাখ কর্মীর মধ্যে মাত্র ৫ লাখ ১৮ হাজার ৬০৩ জন পোস্টাল ভোটের জন্য নিবন্ধন করেছেন। ফলে নিবন্ধনের বাইরে থাকা প্রায় ১২ লাখ সদস্য ভোট দেওয়া থেকে বিরত থাকছেন বলে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নির্বাচনের দিন পেশাগত দায়িত্ব পালন এবং পরিবারের নিরাপত্তা ইস্যুকেই তারা বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। যাদের নির্বাচনের সরাসরি দায়িত্ব নেই, সেইসব সরকারি চাকরিজীবীদের একটি বড় অংশও এবারের নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রে যাওয়া নিয়ে সংশয়ে রয়েছেন। এছাড়া অনেকের মোবাইলে পোস্টাল ব্যালট সংক্রান্ত বার্তা পৌঁছালেও তা গ্রহণ বা ভোট দেওয়ার বিষয়ে তেমন আগ্রহ দেখা যাচ্ছে না।

স্বাধীনতা পরবর্তী সময় থেকেই দেশে পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার বিধান চালু রয়েছে। তবে অতীতে এর প্রচার ও প্রয়োগ সীমিত থাকলেও এবারই প্রথম অনলাইনে নিবন্ধনের মাধ্যমে পোস্টাল ভোটের সুযোগ তৈরি করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন বিষয়টিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও মাঠপর্যায়ের অনেক সরকারি কর্মচারী অভিযোগ করেছেন যে, তারা এই প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত জানেন না।

রাজধানীতে কর্মরত সরকারি কর্মচারীদের একটি বড় অংশের ভোটার এলাকা নিজ কর্মস্থলের বাইরে। সচিবালয়সহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে কর্মরতদের সঙ্গে আলাপকালে জানা যায়, নির্বাচনের কর্মব্যস্ততা এবং যাতায়াত সমস্যার কারণে অনেকেই ভোট নিয়ে ভাবছেন না। এছাড়া দীর্ঘ ছুটিতে পরিবার নিয়ে গ্রামের বাড়িতে যাতায়াত করা এবং সেখানে নিরাপত্তার অভাব বোধ করায় অনেকে নিজ এলাকায় যেতে চাচ্ছেন না।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা হিসেবে ১৬ লাখ ৮২ হাজার ৩৮২ জন দায়িত্ব পালন করবেন। এর মধ্যে প্রিজাইডিং অফিসার ৪২ হাজার ৭৭৯ জন, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৮২ জন এবং পোলিং অফিসার ৪ লাখ ৯৪ হাজার ৯৬৪ জন। সব মিলিয়ে ভোটগ্রহণকারী কর্মকর্তার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭ লাখ ৮৫ হাজার ২২৫।

পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ৮ লাখ ৯৭ হাজার ১১৭ জন সদস্য ভোটের মাঠে নিয়োজিত থাকবেন। এর মধ্যে সেনাবাহিনী ১ লাখ, আনসার ও ভিডিপি ৫ লাখ ৭৬ হাজার ৩১৪, পুলিশ ১ লাখ ৪৯ হাজার ৪৪৩, বিজিবি ৩৭ হাজার ৪৫৩, ফায়ার সার্ভিস ১৩ হাজার ৩৯০, র‍্যাব ৭ হাজার ৭০০, নৌবাহিনী ৫ হাজার, বিমানবাহিনী ৩ হাজার ৭৩০ এবং কোস্ট গার্ডের ৩ হাজার ৫৮৫ জন সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন।

মাঠপর্যায়ের চিত্র বিশ্লেষণে দেখা যায়, অনেক ব্যাংক কর্মকর্তা ও শিক্ষক নির্বাচনী দায়িত্ব পেলেও পোস্টাল ভোটের নিবন্ধন প্রক্রিয়াকে বেশ জটিল মনে করছেন। কেউ কেউ শেষ মুহূর্তে নিবন্ধনের চেষ্টা করে কারিগরি কারণে ব্যর্থ হয়েছেন। আবার অনেকে দায়িত্বরত অবস্থায় ভোট দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে সচেতন নন।

নির্বাচন কমিশনের গত ৩১ জানুয়ারির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপের মাধ্যমে দেশি ও প্রবাসী মিলিয়ে মোট ১৫ লাখ ৩৩ হাজার ৬৮৪ জন ভোটার নিবন্ধন করেছেন। এর মধ্যে ৫ লাখ ১৮ হাজার ৬০৩ জন অভ্যন্তরীণ ভোটারকে ব্যালট পাঠানো হলেও মাত্র ৭ হাজার ৩৬৭ জন ব্যালট গ্রহণ করেছেন এবং শেষ পর্যন্ত ভোট প্রদান করেছেন ৪ হাজার ৯০২ জন। অন্যদিকে, প্রবাসী ভোটারদের মধ্যে ৪ লাখ ৫৮ হাজার ৫৯ জন ভোটদান সম্পন্ন করেছেন।

সার্বিক বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, অনেকেই হয়তো শুরুতে ভেবেছিলেন তাদের নির্বাচনী দায়িত্ব পড়বে না এবং তারা সরাসরি ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেবেন। কিন্তু শেষ মুহূর্তে যখন দায়িত্বের আদেশ পেয়েছেন, তখন আর নিবন্ধনের সময় ছিল না। তবে পর্যাপ্ত প্রচারণার অভাবের অভিযোগটি নাকচ করে দিয়ে ইসি সচিবালয় জানিয়েছে, বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক প্রচারণা চালানো হয়েছে। পোস্টাল ভোটে কেন এত কম সাড়া পাওয়া গেল, তা নির্বাচন পরবর্তী সময়ে বিস্তারিত বিশ্লেষণ করা হবে।