চলচ্চিত্রের কাল্পনিক গল্পের মতো বাস্তবেও অন্যের হয়ে জেল খাটতে এসে কারা কর্তৃপক্ষের হাতে ধরা পড়েছেন আজিজুল হক নামের এক ব্যক্তি। টাকার বিনিময়ে এক মাদক মামলার আসামির পরিবর্তে তিনি কারাগারে প্রবেশ করেছিলেন। সোমবার কারা অধিদপ্তর সূত্রে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।
কারা কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার আড়িয়া গ্রামের রজব আলীর ছেলে মো. রাজিব (২৬) টঙ্গী পূর্ব থানার একটি মাদক মামলায় গত ২৫ জানুয়ারি গাজীপুর জেলা কারাগারে বন্দি হন। পরবর্তীতে প্রশাসনিক কারণে গত ৩১ জানুয়ারি তাকে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২-এ স্থানান্তর করা হয়। সেখানে কারাগারে প্রবেশের সময় বন্দিদের অনলাইন ডাটাবেজে তথ্য সংরক্ষণের অংশ হিসেবে ডিজিটাল পদ্ধতিতে আঙুলের ছাপ (ফিঙ্গারপ্রিন্ট) গ্রহণ করা হয়। তখনই রাজিবের পরিচয়ে আসা ব্যক্তির তথ্যের সাথে ডাটাবেজে সংরক্ষিত তথ্যের বড় ধরনের গরমিল ধরা পড়ে।
ডিজিটাল ফিঙ্গারপ্রিন্ট যাচাই করে দেখা যায়, বন্দি হিসেবে আসা ওই ব্যক্তির প্রকৃত নাম মো. আজিজুল হক এবং তার বাবার নাম বাচ্চু মিয়া। পরিচয় নিয়ে অসংগতি দেখা দেওয়ায় কারা কর্মকর্তারা তাকে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এক পর্যায়ে আজিজুল স্বীকার করেন যে, তিনি মূলত আর্থিক প্রলোভনে পড়ে প্রকৃত আসামি রাজিবের পরিবর্তে জেল খাটতে এসেছেন।
এই জালিয়াতির ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। সহকারী কারা মহাপরিদর্শক (ডেভেলপমেন্ট) জান্নাতুল ফরহাদ হোসেন এই ঘটনাকে ‘আয়নাবাজি’ চলচ্চিত্রের গল্পের সাথে তুলনা করে জানান, আধুনিক প্রযুক্তি ও ডাটাবেজ ব্যবহারের কারণেই এই প্রতারণা দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। আসামির বদলে অন্য কারো কারাভোগের এই অপচেষ্টা রুখে দিয়ে প্রকৃত অপরাধীকে শনাক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 





















