ঢাকা ১১:৫৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬

আমলারা প্রকৃতিগতভাবেই সংস্কারবিমুখ: আসিফ নজরুল

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১২:২০:৪৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ২২ বার পড়া হয়েছে

দেশের বর্তমান আমলাতন্ত্রকে স্থবির আখ্যা দিয়ে আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল বলেছেন, বাংলাদেশের আমলারা প্রকৃতিগতভাবেই সংস্কারবিরোধী। এটি আমলাদের ব্যক্তিগত সীমাবদ্ধতা নাকি কাঠামোগত সমস্যা, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, এই আমলাতন্ত্র নিয়ে দেশ কীভাবে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাবে, তা নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন।

সোমবার রাতে রাজধানীর বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খানের লেখা ‘বাংলাদেশের সমাজ ও রাজনীতি’ শীর্ষক বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রশাসনিক কাজে গতিহীনতার উদাহরণ দিতে গিয়ে আসিফ নজরুল বলেন, অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত বা তথ্যের প্রয়োজনে কর্মকর্তাদের কাছে কিছু চাওয়া হলে তারা দীর্ঘ সময়ক্ষেপণ করেন। অনেক ক্ষেত্রে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের অনীহা দেখা যায়। তিনি বলেন, “অনেক সময় জরুরি তথ্যের জন্য কর্মকর্তাদের বললে তারা জানান যে বিষয়টি তাদের হোয়্যাটসঅ্যাপে নেই। একটি সাধারণ সিদ্ধান্ত আমার কাছে পৌঁছাতে দুই থেকে তিন ঘণ্টা সময় ব্যয় করা হয়, যা অত্যন্ত হতাশাজনক।”

প্রধান উপদেষ্টার কর্মতৎপরতার উদাহরণ টেনে তিনি আরও বলেন, প্রধান উপদেষ্টা যেখানে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে পুরো অফিস পরিচালনা করছেন এবং সব আপডেট রাখছেন, সেখানে মন্ত্রণালয়ের তরুণ কর্মকর্তারাও প্রযুক্তি ব্যবহারে পিছিয়ে থাকছেন বা কাজ ঠিকঠাক করতে চাচ্ছেন না।

নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে আইন উপদেষ্টা বলেন, অনেক সময় সারা রাত জেগে গুরুত্বপূর্ণ কাজের ফাইল সংশোধন করে দিলেও কয়েক দিন পর দেখা যায় সেই কাজ আর এগোয়নি। এ নিয়ে কর্মকর্তাদের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “আমি তাদের বুঝিয়ে বলি—তোমরা তো শুধু ফাইল আনা-নেওয়া করা কেরানি নও, তোমরা অফিসার। তোমাদের মেধা ও মনন ব্যবহার করে কাজ করতে হবে।”

আইন উপদেষ্টা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, বর্তমান সরকারের দায়িত্ব শেষে চলে যাওয়ার পর আমলাতন্ত্রের এই স্থবিরতা তাকে সবসময় দুশ্চিন্তায় রাখবে। ড. মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খানের বইটির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, লেখক তার বইয়ে অত্যন্ত চমৎকারভাবে আমলাতন্ত্রের বিভিন্ন দিক ফুটিয়ে তুলেছেন।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান এবং বিশিষ্ট রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. মাহবুবউল্লাহ। অনুষ্ঠানে বক্তারা দেশের সমাজ ও রাজনীতির সমসাময়িক চ্যালেঞ্জ এবং উত্তরণের পথ নিয়ে আলোচনা করেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কার্যালয় খুললেন খাগড়াছড়ি আ.লীগের নেতাকর্মীরা

আমলারা প্রকৃতিগতভাবেই সংস্কারবিমুখ: আসিফ নজরুল

আপডেট সময় : ১২:২০:৪৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

দেশের বর্তমান আমলাতন্ত্রকে স্থবির আখ্যা দিয়ে আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল বলেছেন, বাংলাদেশের আমলারা প্রকৃতিগতভাবেই সংস্কারবিরোধী। এটি আমলাদের ব্যক্তিগত সীমাবদ্ধতা নাকি কাঠামোগত সমস্যা, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, এই আমলাতন্ত্র নিয়ে দেশ কীভাবে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাবে, তা নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন।

সোমবার রাতে রাজধানীর বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খানের লেখা ‘বাংলাদেশের সমাজ ও রাজনীতি’ শীর্ষক বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রশাসনিক কাজে গতিহীনতার উদাহরণ দিতে গিয়ে আসিফ নজরুল বলেন, অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত বা তথ্যের প্রয়োজনে কর্মকর্তাদের কাছে কিছু চাওয়া হলে তারা দীর্ঘ সময়ক্ষেপণ করেন। অনেক ক্ষেত্রে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের অনীহা দেখা যায়। তিনি বলেন, “অনেক সময় জরুরি তথ্যের জন্য কর্মকর্তাদের বললে তারা জানান যে বিষয়টি তাদের হোয়্যাটসঅ্যাপে নেই। একটি সাধারণ সিদ্ধান্ত আমার কাছে পৌঁছাতে দুই থেকে তিন ঘণ্টা সময় ব্যয় করা হয়, যা অত্যন্ত হতাশাজনক।”

প্রধান উপদেষ্টার কর্মতৎপরতার উদাহরণ টেনে তিনি আরও বলেন, প্রধান উপদেষ্টা যেখানে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে পুরো অফিস পরিচালনা করছেন এবং সব আপডেট রাখছেন, সেখানে মন্ত্রণালয়ের তরুণ কর্মকর্তারাও প্রযুক্তি ব্যবহারে পিছিয়ে থাকছেন বা কাজ ঠিকঠাক করতে চাচ্ছেন না।

নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে আইন উপদেষ্টা বলেন, অনেক সময় সারা রাত জেগে গুরুত্বপূর্ণ কাজের ফাইল সংশোধন করে দিলেও কয়েক দিন পর দেখা যায় সেই কাজ আর এগোয়নি। এ নিয়ে কর্মকর্তাদের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “আমি তাদের বুঝিয়ে বলি—তোমরা তো শুধু ফাইল আনা-নেওয়া করা কেরানি নও, তোমরা অফিসার। তোমাদের মেধা ও মনন ব্যবহার করে কাজ করতে হবে।”

আইন উপদেষ্টা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, বর্তমান সরকারের দায়িত্ব শেষে চলে যাওয়ার পর আমলাতন্ত্রের এই স্থবিরতা তাকে সবসময় দুশ্চিন্তায় রাখবে। ড. মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খানের বইটির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, লেখক তার বইয়ে অত্যন্ত চমৎকারভাবে আমলাতন্ত্রের বিভিন্ন দিক ফুটিয়ে তুলেছেন।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান এবং বিশিষ্ট রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. মাহবুবউল্লাহ। অনুষ্ঠানে বক্তারা দেশের সমাজ ও রাজনীতির সমসাময়িক চ্যালেঞ্জ এবং উত্তরণের পথ নিয়ে আলোচনা করেন।