ঢাকা ০৯:৩৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬

শহীদদের রক্তের সঙ্গে বেইমানি হবে না, প্রয়োজনে জীবন দেব: ডা. শফিকুর রহমান

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১১:১৮:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৯ বার পড়া হয়েছে

জুলাই বিপ্লবের শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আবু সাঈদসহ অসংখ্য শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত এই স্বাধীনতা ও অধিকারের সঙ্গে কোনো বেইমানি করা হবে না। তিনি দৃঢ়তার সাথে ঘোষণা দেন, জুলাইয়ের বিপ্লব ও এর চেতনা রক্ষায় প্রয়োজনে জীবন উৎসর্গ করবেন, তবুও এই অর্জনকে বৃথা যেতে দেবেন না।

সোমবার চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার পদুয়া এসিএম উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, শহীদরা তাদের জীবনের বিনিময়ে জাতির জন্য এক অমূল্য আমানত রেখে গেছেন। তাদের সেই ত্যাগের মর্যাদা রক্ষা করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। রাজনীতির প্রচলিত নেতিবাচক ও নোংরা পথ পরিহার করে এখন স্বচ্ছ ও ন্যায়ের পথে জনকল্যাণমূলক রাজনীতি করার সময় এসেছে। তিনি জুলাইয়ের শহীদ ও যোদ্ধাদের আশ্বস্ত করে বলেন, আমরা আপনাদের স্বপ্নের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করব না।

দেশের যুবসমাজের সাহসী ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি বলেন, যে যুবকরা বুক চিতিয়ে বুলেটের সামনে দাঁড়িয়ে লড়াই করেছে এবং পঙ্গুত্ব বরণ করেছে, তারাই আগামীর সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলবে। ২৪-এর গণবিপ্লবে যুবকরা বেকার ভাতার জন্য লড়াই করেনি, বরং তারা চেয়েছিল নিজেদের মেধা ও যোগ্যতার সঠিক স্বীকৃতি। জামায়াত আমির প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, আমরা যুবসমাজকে বেকার ভাতা দিয়ে অপমানিত করতে চাই না। বরং উন্নত শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের জন্য মর্যাদাপূর্ণ কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। সেদিন প্রতিটি যুবক গর্বের সাথে বলতে পারবে—’আমিই বাংলাদেশ’।

নির্বাচন ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষ সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে কখনো ভুল করে না। ছাত্র সংসদ থেকে শুরু করে জাতীয় পর্যায়—সবখানেই যুবকরা নেতৃত্ব দিয়ে পথ দেখাচ্ছে। ২৪-এর বিপ্লবকে যারা ধারণ করে, তারাই আগামীর বাংলাদেশের প্রকৃত উত্তরসূরি। যারা এই বিপ্লবকে অস্বীকার করবে, জনগণ তাদের চূড়ান্তভাবে প্রত্যাখ্যান করবে।

বক্তব্যের শেষে তিনি তরুণ প্রজন্মের মেধা ও সাহসের ওপর আস্থা রেখে একটি বৈষম্যহীন ও ইনসাফভিত্তিক নতুন বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ছে না: ইরানের ওপর পুনরায় হামলার স্পষ্ট ইঙ্গিত ট্রাম্পের

শহীদদের রক্তের সঙ্গে বেইমানি হবে না, প্রয়োজনে জীবন দেব: ডা. শফিকুর রহমান

আপডেট সময় : ১১:১৮:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

জুলাই বিপ্লবের শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আবু সাঈদসহ অসংখ্য শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত এই স্বাধীনতা ও অধিকারের সঙ্গে কোনো বেইমানি করা হবে না। তিনি দৃঢ়তার সাথে ঘোষণা দেন, জুলাইয়ের বিপ্লব ও এর চেতনা রক্ষায় প্রয়োজনে জীবন উৎসর্গ করবেন, তবুও এই অর্জনকে বৃথা যেতে দেবেন না।

সোমবার চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার পদুয়া এসিএম উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, শহীদরা তাদের জীবনের বিনিময়ে জাতির জন্য এক অমূল্য আমানত রেখে গেছেন। তাদের সেই ত্যাগের মর্যাদা রক্ষা করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। রাজনীতির প্রচলিত নেতিবাচক ও নোংরা পথ পরিহার করে এখন স্বচ্ছ ও ন্যায়ের পথে জনকল্যাণমূলক রাজনীতি করার সময় এসেছে। তিনি জুলাইয়ের শহীদ ও যোদ্ধাদের আশ্বস্ত করে বলেন, আমরা আপনাদের স্বপ্নের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করব না।

দেশের যুবসমাজের সাহসী ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি বলেন, যে যুবকরা বুক চিতিয়ে বুলেটের সামনে দাঁড়িয়ে লড়াই করেছে এবং পঙ্গুত্ব বরণ করেছে, তারাই আগামীর সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলবে। ২৪-এর গণবিপ্লবে যুবকরা বেকার ভাতার জন্য লড়াই করেনি, বরং তারা চেয়েছিল নিজেদের মেধা ও যোগ্যতার সঠিক স্বীকৃতি। জামায়াত আমির প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, আমরা যুবসমাজকে বেকার ভাতা দিয়ে অপমানিত করতে চাই না। বরং উন্নত শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের জন্য মর্যাদাপূর্ণ কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। সেদিন প্রতিটি যুবক গর্বের সাথে বলতে পারবে—’আমিই বাংলাদেশ’।

নির্বাচন ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষ সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে কখনো ভুল করে না। ছাত্র সংসদ থেকে শুরু করে জাতীয় পর্যায়—সবখানেই যুবকরা নেতৃত্ব দিয়ে পথ দেখাচ্ছে। ২৪-এর বিপ্লবকে যারা ধারণ করে, তারাই আগামীর বাংলাদেশের প্রকৃত উত্তরসূরি। যারা এই বিপ্লবকে অস্বীকার করবে, জনগণ তাদের চূড়ান্তভাবে প্রত্যাখ্যান করবে।

বক্তব্যের শেষে তিনি তরুণ প্রজন্মের মেধা ও সাহসের ওপর আস্থা রেখে একটি বৈষম্যহীন ও ইনসাফভিত্তিক নতুন বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।