ঢাকা ১১:৫৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬

‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়া শহিদদের রক্তের ঋণ শোধের শামিল: রাবি উপাচার্য

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১০:৫৪:০২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৭ বার পড়া হয়েছে

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. সালেহ্ হাসান নকীব আসন্ন গণভোটে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগের দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেছেন, এই ভোট দেওয়া কেবল একটি নাগরিক দায়িত্ব নয়, বরং এটি জুলাই বিপ্লবের শহিদদের রক্তের ঋণ শোধ করার একটি অনন্য সুযোগ। তিনি জানান, বিগত ১৬ বছর দেশে ভোটাধিকারের কোনো পরিবেশ ছিল না। গণভোটের এই সুযোগ তৈরি না হলে হয়তো সাধারণ মানুষের মধ্যে ভোট দেওয়ার আগ্রহই নতুন করে সঞ্চার হতো না।

সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে আয়োজিত ‘গণভোট বিষয়ে জনসচেতনতামূলক প্রচার-প্রচারণা’ শীর্ষক এক মতবিনিময় সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

উপাচার্য অধ্যাপক সালেহ্ হাসান নকীব বলেন, “গণভোটের ব্যালটে হয়তো কোনো দৃশ্যমান প্রতীক নেই, কিন্তু আমার হৃদয়ে একটি গভীর চিহ্ন অঙ্কিত আছে। সেটি হলো আমাদের সন্তানদের লাল রক্ত। এই ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার মাধ্যমেই আমরা সেই আত্মত্যাগের প্রতি সম্মান জানাতে পারি। জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার বিপ্লবের চেতনাকে ধারণ করে দেশকে এগিয়ে নিতে হলে এই গণভোট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি মাইলফলক।”

দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও ক্ষমতার বিবর্তন প্রসঙ্গে উপাচার্য উল্লেখ করেন, রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় পরিবর্তন আসা উচিত মানুষের চিন্তাধারায়। বাংলাদেশে আর কখনোই লাগামহীন ক্ষমতার চর্চা চলতে দেওয়া হবে না—এই সংকল্প প্রতিটি নাগরিকের হৃদয়ে গেঁথে নিতে হবে। তিনি সতর্ক করে বলেন, আগামী ১২ তারিখের ভোটকে কেন্দ্র করে একটি বিশেষ গোষ্ঠী দেশে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে। তারা পুরোনো ও জরাজীর্ণ শাসনব্যবস্থায় ফিরে যেতে চায়। তবে সাধারণ মানুষ এবং সাহসী তরুণ সমাজ এখন অনেক বেশি সচেতন। তাদের ভয় দেখিয়ে বা আতঙ্ক সৃষ্টি করে দমিয়ে রাখার দিন শেষ হয়ে গেছে। পুরোনো ব্যবস্থায় ফেরার যেকোনো অপচেষ্টা ব্যর্থ হতে বাধ্য।

অধ্যাপক নকীব আরও বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান দেশের মানুষের মনের ভয় ও জড়তা ভেঙে দিয়েছে। যারা এখন আর কাউকে ভয় পায় না, তাদের ওপর স্বৈরাচারী কায়দায় শাসন চালানো আর সম্ভব নয়। তরুণ প্রজন্মের এই অকুতোভয় মানসিকতাই আগামীর বাংলাদেশের মূল শক্তি। তাই জুলাই বিপ্লবের শহিদদের আত্মত্যাগকে সার্থক করতে এবং রাষ্ট্রের সংস্কার প্রক্রিয়াকে বেগবান করতে গণভোটে স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এবং ‘হ্যাঁ’ সূচক রায় প্রদান করা সময়ের দাবি।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কার্যালয় খুললেন খাগড়াছড়ি আ.লীগের নেতাকর্মীরা

‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়া শহিদদের রক্তের ঋণ শোধের শামিল: রাবি উপাচার্য

আপডেট সময় : ১০:৫৪:০২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. সালেহ্ হাসান নকীব আসন্ন গণভোটে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগের দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেছেন, এই ভোট দেওয়া কেবল একটি নাগরিক দায়িত্ব নয়, বরং এটি জুলাই বিপ্লবের শহিদদের রক্তের ঋণ শোধ করার একটি অনন্য সুযোগ। তিনি জানান, বিগত ১৬ বছর দেশে ভোটাধিকারের কোনো পরিবেশ ছিল না। গণভোটের এই সুযোগ তৈরি না হলে হয়তো সাধারণ মানুষের মধ্যে ভোট দেওয়ার আগ্রহই নতুন করে সঞ্চার হতো না।

সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে আয়োজিত ‘গণভোট বিষয়ে জনসচেতনতামূলক প্রচার-প্রচারণা’ শীর্ষক এক মতবিনিময় সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

উপাচার্য অধ্যাপক সালেহ্ হাসান নকীব বলেন, “গণভোটের ব্যালটে হয়তো কোনো দৃশ্যমান প্রতীক নেই, কিন্তু আমার হৃদয়ে একটি গভীর চিহ্ন অঙ্কিত আছে। সেটি হলো আমাদের সন্তানদের লাল রক্ত। এই ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার মাধ্যমেই আমরা সেই আত্মত্যাগের প্রতি সম্মান জানাতে পারি। জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার বিপ্লবের চেতনাকে ধারণ করে দেশকে এগিয়ে নিতে হলে এই গণভোট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি মাইলফলক।”

দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও ক্ষমতার বিবর্তন প্রসঙ্গে উপাচার্য উল্লেখ করেন, রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় পরিবর্তন আসা উচিত মানুষের চিন্তাধারায়। বাংলাদেশে আর কখনোই লাগামহীন ক্ষমতার চর্চা চলতে দেওয়া হবে না—এই সংকল্প প্রতিটি নাগরিকের হৃদয়ে গেঁথে নিতে হবে। তিনি সতর্ক করে বলেন, আগামী ১২ তারিখের ভোটকে কেন্দ্র করে একটি বিশেষ গোষ্ঠী দেশে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে। তারা পুরোনো ও জরাজীর্ণ শাসনব্যবস্থায় ফিরে যেতে চায়। তবে সাধারণ মানুষ এবং সাহসী তরুণ সমাজ এখন অনেক বেশি সচেতন। তাদের ভয় দেখিয়ে বা আতঙ্ক সৃষ্টি করে দমিয়ে রাখার দিন শেষ হয়ে গেছে। পুরোনো ব্যবস্থায় ফেরার যেকোনো অপচেষ্টা ব্যর্থ হতে বাধ্য।

অধ্যাপক নকীব আরও বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান দেশের মানুষের মনের ভয় ও জড়তা ভেঙে দিয়েছে। যারা এখন আর কাউকে ভয় পায় না, তাদের ওপর স্বৈরাচারী কায়দায় শাসন চালানো আর সম্ভব নয়। তরুণ প্রজন্মের এই অকুতোভয় মানসিকতাই আগামীর বাংলাদেশের মূল শক্তি। তাই জুলাই বিপ্লবের শহিদদের আত্মত্যাগকে সার্থক করতে এবং রাষ্ট্রের সংস্কার প্রক্রিয়াকে বেগবান করতে গণভোটে স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এবং ‘হ্যাঁ’ সূচক রায় প্রদান করা সময়ের দাবি।