বাংলাদেশে আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এক ধরনের আধিপত্যবাদী শক্তি ‘হেলমেট বাহিনী’ ও ‘হাতুড়ি বাহিনী’ ব্যবহার করে জনমনে ভীতি সঞ্চারের অপচেষ্টা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক। তিনি স্পষ্ট ভাষায় সতর্ক করে বলেছেন, ফরিদপুরের নগরকান্দা-সালথায় রিকশা প্রতীকের ভোটারদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে যে, ১২ তারিখের পর তাদের ঘর থেকে বের হতে দেওয়া হবে না। এই ধরনের আচরণের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, আল্লামা আকরাম আলীর কোনো নেতাকর্মীর ওপর হাত তোলা হলে যে পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে, তা সামাল দেওয়া কঠিন হবে।
গতকাল সোমবার ফরিদপুর-২ (নগরকান্দা ও সালথা) আসনে ১১-দলীয় নির্বাচনি ঐক্যের মনোনীত প্রার্থী শাহ্ আকরাম আলীর সমর্থনে আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মামুনুল হক এসব কথা বলেন। নগরকান্দা উপজেলা সদরের মহেন্দ্র নারায়ণ একাডেমি মাঠে অনুষ্ঠিত এই জনসভায় তিনি আরও বলেন, তারা শান্তিপ্রিয় এবং কারো প্ররোচনায় পা দিতে চান না। যারা তাদের সঙ্গে সহাবস্থানের হাত বাড়াবে, তাদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে, কেউ যদি ভয় দেখিয়ে জনগণের ভোটাধিকার হরণ করে নির্বাচনে জয়লাভের পাঁয়তারা করে, তবে বাংলাদেশের মানচিত্রে তাদের কোনো স্থান থাকবে না।
স্থানীয় প্রশাসনের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আল্লামা আকরাম আলীকে কেবল একজন বয়স্ক ও সরল ব্যক্তি ভেবে দুর্বল মনে করা উচিত নয়। তিনি জাতীয় পর্যায়ের একজন সম্মানিত ব্যক্তি। তাঁর অধিকার আদায়ে কোনো প্রকার অবহেলা করা হলে তার জন্য প্রশাসনকে জনতার কাঠগড়ায় জবাবদিহি করতে হবে।
জনসভার মাঠ বরাদ্দ নিয়ে দীর্ঘসূত্রিতার সমালোচনা করে মামুনুল হক বলেন, এম এন একাডেমির মাঠটি বরাদ্দ পেতে অনেক গড়িমসি করা হয়েছে, যা শেষ পর্যন্ত কেন্দ্র থেকে হস্তক্ষেপের মাধ্যমে সমাধান করতে হয়েছে। তিনি প্রশাসনকে সতর্ক করে বলেন, যদি একটি সুষ্ঠু ও সমতল নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিত করা না যায়, তবে এর দায়ভার ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক এবং সালথা-নগরকান্দার স্থানীয় প্রশাসনকে বহন করতে হবে।
এই জনসভায় রিকশা প্রতীকের প্রার্থী শাহ্ আকরাম আলী ছাড়াও ১১-দলীয় জোটের স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন এবং বক্তব্য রাখেন। হাজার হাজার মানুষের উপস্থিতি জনসভাস্থলটিকে কানায় কানায় পূর্ণ করে তোলে।
রিপোর্টারের নাম 






















