মাঘ মাসের মাঝামাঝি এসেও শীতের দাপট তেমন অনুভূত হচ্ছে না। বরং দিনের বেলা উষ্ণতা এবং রাতে হালকা ঠান্ডা আবহাওয়া বিরাজ করছে, যা মৌসুমের এই সময়ের জন্য স্বাভাবিকের চেয়ে ভিন্ন। আবহাওয়াবিদরা বলছেন, দিন ও রাতের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে ৩ থেকে ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি। এই অস্বাভাবিক আবহাওয়ার জন্য বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনকে প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে।
আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে আকাশ পরিষ্কার থাকায় দিনের বেলায় সূর্যের আলো সরাসরি পড়ছে, যার ফলে উষ্ণতা অনুভূত হচ্ছে। তবে সন্ধ্যার পর থেকে ঠান্ডা বাতাস বইতে শুরু করে। উত্তর দিক থেকে প্রবাহিত বাতাসের গতিও এই ঠান্ডা ভাব ধরে রেখেছে। কিন্তু সামগ্রিকভাবে তাপমাত্রার যে তারতম্য দেখা যাচ্ছে, তা উদ্বেগজনক।
আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, এই পরিস্থিতি আরও কিছুদিন অব্যাহত থাকতে পারে। তবে আগামী ৬ থেকে ৯ ফেব্রুয়ারির মধ্যে তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। এরপর আবার ধীরে ধীরে তাপমাত্রা বাড়তে থাকবে। সাধারণত ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত শীতের প্রভাব থাকে, কিন্তু বর্তমানে দেখা যাচ্ছে যে ১৫ ফেব্রুয়ারির পরেও শীতের তীব্রতা তেমন থাকছে না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মাঘ মাসের এই অস্বাভাবিক আবহাওয়া জলবায়ু পরিবর্তনেরই একটি প্রতিফলন। দিনের বেলায় তাপ বিকিরণ কম হওয়ায় গরম অনুভূত হচ্ছে, আর সন্ধ্যার পর তাপ বিকিরণ বেড়ে যাওয়ায় ঠান্ডা লাগছে।
এদিকে, এই ঠান্ডা-গরমের মিশ্র আবহাওয়ার কারণে বয়স্ক ও শিশুরা বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। ভাইরাস জ্বর, সর্দি, নিউমোনিয়ার মতো রোগের প্রকোপ বেড়েছে। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে এসব রোগে আক্রান্ত রোগীর ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে এই রোগের প্রকোপ বেশি দেখা যাচ্ছে। চিকিৎসকরা শিশুদের এই সময়ে গরম কাপড় পরানো এবং সন্ধ্যার পর প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের না করার পরামর্শ দিয়েছেন।
রিপোর্টারের নাম 





















