আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন এনসিপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ। শুধু নিজেদের ভোট প্রদান নয়, সাধারণ মানুষ বিশেষ করে মা-বোনদের নির্বিঘ্নে ভোট দেওয়ার পরিবেশ নিশ্চিত করার উপর তিনি জোর দেন। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) পঞ্চগড় সদর উপজেলার সাতমেরো উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে পঞ্চগড়-১ আসনের প্রার্থী সারজিস আলমের সমর্থনে আয়োজিত এক নির্বাচনি পদযাত্রা ও পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া তার বক্তব্যে বলেন, এবারের নির্বাচনে ফজরের নামাজ পড়ে ভোট কেন্দ্রে গিয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। একদিন কষ্ট করলে আগামী পাঁচ বছর নিরাপদে নিশ্চিন্তে থাকা যাবে। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের এক নম্বর আসনে এক নম্বর প্রার্থী প্রয়োজন। এই আসন থেকে অতীতে যারা সংসদ সদস্য বা মন্ত্রী হয়েছেন, তারা এলাকার সাধারণ সন্তানদের জন্য কোনো কাজ করেননি। অথচ সারজিস আলম সংসদ সদস্য না হয়েও এই এলাকার পর্যটন শিল্প ও রাস্তাঘাটের উন্নয়নে কাজ করেছেন। তাকে নির্বাচিত করলে তিনি আরও বেশি দায়িত্ব নিয়ে কাজ করবেন। তিনি অভিযোগ করেন, গত ৫৪ বছর ধরে ওয়ার্ড কমিশনারের ছেলে কমিশনার, চেয়ারম্যানের ছেলে চেয়ারম্যান এবং এমপি-মন্ত্রীর ছেলে এমপি-মন্ত্রী হচ্ছেন। এই ধারা থেকে বেরিয়ে এসে সাধারণ মানুষের সন্তানদেরও জনপ্রতিনিধি হওয়ার সুযোগ তৈরি করতে হবে। তিনি আরও প্রতিশ্রুতি দেন, তাদের প্রার্থী নির্বাচিত হলে পঞ্চগড় জেলায় কাউকে অবৈধ ব্যবসা করতে হবে না এবং চিকিৎসার অভাবে কাউকে মরতে হবে না। তারা ন্যায় ও ইনসাফের বাংলাদেশ গড়তে চান। আসিফ মাহমুদ দাবি করেন, গত তিনটি নির্বাচনে ভোটাররা সঠিকভাবে ভোট দিতে পারেননি।
পঞ্চগড়-১ আসনে এগারো দলীয় ঐক্য জোটের সংসদ সদস্য প্রার্থী সারজিস আলম তার বক্তব্যে, মামলাবাজি, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, নারী নির্যাতনসহ বিভিন্ন খারাপ কাজে জড়িতদের প্রত্যাখ্যান করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, নেতৃত্ব যদি নিজের কর্মীদের নিয়ন্ত্রণ করতে না পারে, তবে সেই নেতা কখনোই ভালো হতে পারেন না। সনাতন ধর্মাবলম্বী ভাইবোনদের উদ্দেশে তিনি বলেন, এগারো দলীয় জোটের নেতাকর্মীরা মন্দির ও পূজার মণ্ডপ পাহারা দিয়েছেন, অথচ একটি বড় দলের নেতাকর্মীরা প্রতিমা বিসর্জনের পুকুর এবং সাধারণ মানুষের জায়গা-জমি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দখল করেছে। তিনি এই দখলবাজদের প্রত্যাখ্যান করার আহ্বান জানান।
স্বাস্থ্যসেবা ও উন্নয়নের বিষয়ে বিএনপির প্রতিশ্রুতি নিয়ে সারজিস আলম বলেন, সদর হাসপাতালের নতুন ভবন চালু করতে জামায়াত, এনসিপিসহ সকল রাজনৈতিক দল অর্থায়ন করেছে, কিন্তু বিএনপি এত বড় দল হওয়া সত্ত্বেও পাঁচ লক্ষ টাকাও দিতে পারেনি, অথচ নির্বাচনের সময় তারা কোটি কোটি টাকা ব্যয় করে। তারেক রহমানকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, যখন তারেক রহমান একটি পরিকল্পনার কথা বলেন, তখন মানুষ খুশি হয়, কিন্তু এরপরই নারীদের উপর হামলা এবং মানুষ হত্যা শুরু হয়। তিনি অভিযোগ করেন, তারেক রহমানের নেতাকর্মীরা শেরপুরের শ্রীবর্দী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারিকে খুন করেছে এবং নিজেদের কোন্দলে দুই শতাধিক মানুষকে হত্যা করেছে। তিনি তারেক রহমানের প্রতি তার নেতাকর্মীদের থামানোর আহ্বান জানিয়ে প্রশ্ন তোলেন, নির্বাচনের আগে ও পরে আরও কতজনকে খুন করার পরিকল্পনা আছে? তিনি জোর দিয়ে বলেন, তারা শাসক বা শোষক হতে আসেননি, বরং জনগণের সেবক হতে এসেছেন।
পঞ্চগড় জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক মাওলানা ইকবাল হোসাইন বলেন, তারা হেরে যাওয়ার জন্য এই ঐক্য গড়ে তোলেননি। তারা কোনো ধর্ষক, খুনি, চাঁদাবাজ, দখলবাজ ও নারী নির্যাতনকারীকে সংসদে পাঠাবেন না। তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন যে, সবাই মিলে পঞ্চগড়-১ আসনে সারজিস আলমকে বিজয়ী করবেন এবং এবার ভোট চুরি করার কোনো সুযোগ দেবেন না। তিনি জানান, ভোটের দুই দিন আগে গ্রামে গ্রামে পাহারার ব্যবস্থা করা হবে এবং যেই হাত ভোট চুরি করতে চাইবে, সেই হাতকে অকার্যকর করে দেওয়া হবে।
এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব মনিরা শারমিন অভিযোগ করেন, একটি বড় রাজনৈতিক দলের নেতা মিথ্যা হলফনামা দিয়ে সংসদে যেতে চান। তিনি চ্যালেঞ্জ করে বলেন, এনসিপির একজন সদস্যও মিথ্যা হলফনামা দেননি এবং এটাই এনসিপির নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত। তিনি ‘শহীদ হাদী’র খুনিদের বিচার চাইলে তাদের মনোনীত প্রার্থীকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করার আহ্বান জানান।
জাতীয় যুব শক্তির আহ্বায়ক এডভোকেট তারিকুল ইসলাম সারজিস আলমকে পঞ্চগড়ের সূর্য সন্তান হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বিদেশি নাগরিকত্বধারী কিছু ব্যক্তির সমালোচনা করেন যারা নিজেদের বসন্তের কোকিল হিসেবে এসে উপদেশ দেন। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের একটি বৃহৎ রাজনৈতিক দলের নিজেদের মধ্যেই শৃঙ্খলা নেই, অথচ তারা তারুণ্যের গল্প শোনায়। তিনি সতর্ক করেন যে, যারা ভোটের আগের রাতে ৫০০ টাকা দিয়ে ভোট চাইবে, তারা শুধু ভোটারদের নয়, সারা বাংলাদেশকেই বিক্রি করে দেবে। তারিকুল ইসলাম মনে করেন, পঞ্চগড় আধিপত্যবাদের সবচেয়ে বড় শিকার।
পঞ্চগড় জেলা শিবিরের সাবেক সভাপতি জুলফিকার আলীর সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য দেন, এনসিপির শিক্ষা ও গবেষণা সেলের সম্পাদক ফয়সাল মাহমুদ শান্ত, বাংলাদেশ লেবার পার্টির পঞ্চগড় জেলা শাখার আহ্বায়ক মোঃ ফেরদৌস আলম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস পঞ্চগড় জেলার সভাপতি মীর মোর্শেদ তুহিন এবং এনসিপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মিডিয়া সেক্রেটারী ইয়াছির আরাফাত।
রিপোর্টারের নাম 






















