ঢাকা ০১:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬

‘নির্বাচনী ইশতেহারে শিক্ষা’ গোলটেবিল: স্থায়ী শিক্ষা কমিশন ও শিক্ষায় জিডিপির ৬% বরাদ্দের জোর দাবি

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:০৭:১২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে শিক্ষাখাতে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার, টেকসই নৈতিক শিক্ষা কাঠামো এবং অবিলম্বে একটি স্থায়ী শিক্ষা কমিশন গঠনের ওপর জোর দিয়েছেন শিক্ষাবিদ ও গবেষকরা। বাংলাদেশ ছাত্রকল্যাণ ট্রাস্টের উদ্যোগে গতকাল রাজধানীতে আয়োজিত ‘নির্বাচনী ইশতেহারে শিক্ষা’ শীর্ষক জাতীয় গোলটেবিল বৈঠকে এই দাবি জানানো হয়।

বৈঠকে বক্তারা একটি জ্ঞানভিত্তিক সমাজ ও মানবিক রাষ্ট্র গঠনে সুশিক্ষার কোনো বিকল্প নেই উল্লেখ করে বলেন, এ লক্ষ্য অর্জনে শিক্ষা নীতি ও কারিকুলামে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা অপরিহার্য। পাশাপাশি, দেশে একটি স্থায়ী শিক্ষা কমিশন গঠন করা এখন সময়ের দাবি। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন প্রফেসর ড. আব্দুল লতিফ মাসুম, প্রফেসর ড. রফিকুল ইসলাম, মানসুরুল হক, প্রিন্সিপাল নূরে আলম তালুকদার, আরিফুল ইসলাম জিয়া, বেলাল আহমেদ, আনোয়ার হাবিব কাজল, মো. খলিলুর রহমান এবং মিজ মুস্তাকিমা ইসলাম মীমসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।

আলোচকবৃন্দ মনে করেন, ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পরপরই শিক্ষা কমিশন গঠন অগ্রাধিকার পাওয়া উচিত ছিল। তারা আক্ষেপ করে বলেন, সরকার বিভিন্ন সময়ে একাধিক কমিশন গঠন করলেও এখনো শিক্ষা কমিশন গঠিত না হওয়া দুঃখজনক। বক্তারা আরও বলেন, জাতিকে জ্ঞান ও বিজ্ঞানে এগিয়ে নিতে শিক্ষাখাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে এবং জাতীয় প্রবৃদ্ধির কমপক্ষে ৬ শতাংশ শিক্ষা বাজেটে বরাদ্দ রাখা প্রয়োজন। তারা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দেশপ্রেমিক ও সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে উপযোগী কারিকুলাম প্রণয়ন এবং একটি স্থায়ী শিক্ষা নীতির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

প্রফেসর ড. আব্দুল লতিফ মাসুম তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, অতীতে বিশেষ ব্যক্তিকেন্দ্রিক কারণে শিক্ষা কমিশন গঠন সম্ভব হয়নি। তিনি প্রধান উপদেষ্টার প্রতি দ্রুত একটি স্থায়ী শিক্ষা কমিশন গঠনের আহ্বান জানান। গত কয়েক বছরে দেশের শিক্ষাব্যবস্থা উল্লেখযোগ্য ক্ষতির মুখে পড়েছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, এই ক্ষতি থেকে উত্তরণে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

গোলটেবিল বৈঠকে উন্মুক্ত আলোচনা ও প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। আয়োজকরা জানিয়েছেন, আলোচনায় উত্থাপিত প্রস্তাবনা ও সুপারিশসমূহ সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারণী মহলে পৌঁছে দেওয়া হবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

‘নির্বাচনী ইশতেহারে শিক্ষা’ গোলটেবিল: স্থায়ী শিক্ষা কমিশন ও শিক্ষায় জিডিপির ৬% বরাদ্দের জোর দাবি

আপডেট সময় : ০৮:০৭:১২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে শিক্ষাখাতে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার, টেকসই নৈতিক শিক্ষা কাঠামো এবং অবিলম্বে একটি স্থায়ী শিক্ষা কমিশন গঠনের ওপর জোর দিয়েছেন শিক্ষাবিদ ও গবেষকরা। বাংলাদেশ ছাত্রকল্যাণ ট্রাস্টের উদ্যোগে গতকাল রাজধানীতে আয়োজিত ‘নির্বাচনী ইশতেহারে শিক্ষা’ শীর্ষক জাতীয় গোলটেবিল বৈঠকে এই দাবি জানানো হয়।

বৈঠকে বক্তারা একটি জ্ঞানভিত্তিক সমাজ ও মানবিক রাষ্ট্র গঠনে সুশিক্ষার কোনো বিকল্প নেই উল্লেখ করে বলেন, এ লক্ষ্য অর্জনে শিক্ষা নীতি ও কারিকুলামে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা অপরিহার্য। পাশাপাশি, দেশে একটি স্থায়ী শিক্ষা কমিশন গঠন করা এখন সময়ের দাবি। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন প্রফেসর ড. আব্দুল লতিফ মাসুম, প্রফেসর ড. রফিকুল ইসলাম, মানসুরুল হক, প্রিন্সিপাল নূরে আলম তালুকদার, আরিফুল ইসলাম জিয়া, বেলাল আহমেদ, আনোয়ার হাবিব কাজল, মো. খলিলুর রহমান এবং মিজ মুস্তাকিমা ইসলাম মীমসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।

আলোচকবৃন্দ মনে করেন, ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পরপরই শিক্ষা কমিশন গঠন অগ্রাধিকার পাওয়া উচিত ছিল। তারা আক্ষেপ করে বলেন, সরকার বিভিন্ন সময়ে একাধিক কমিশন গঠন করলেও এখনো শিক্ষা কমিশন গঠিত না হওয়া দুঃখজনক। বক্তারা আরও বলেন, জাতিকে জ্ঞান ও বিজ্ঞানে এগিয়ে নিতে শিক্ষাখাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে এবং জাতীয় প্রবৃদ্ধির কমপক্ষে ৬ শতাংশ শিক্ষা বাজেটে বরাদ্দ রাখা প্রয়োজন। তারা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দেশপ্রেমিক ও সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে উপযোগী কারিকুলাম প্রণয়ন এবং একটি স্থায়ী শিক্ষা নীতির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

প্রফেসর ড. আব্দুল লতিফ মাসুম তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, অতীতে বিশেষ ব্যক্তিকেন্দ্রিক কারণে শিক্ষা কমিশন গঠন সম্ভব হয়নি। তিনি প্রধান উপদেষ্টার প্রতি দ্রুত একটি স্থায়ী শিক্ষা কমিশন গঠনের আহ্বান জানান। গত কয়েক বছরে দেশের শিক্ষাব্যবস্থা উল্লেখযোগ্য ক্ষতির মুখে পড়েছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, এই ক্ষতি থেকে উত্তরণে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

গোলটেবিল বৈঠকে উন্মুক্ত আলোচনা ও প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। আয়োজকরা জানিয়েছেন, আলোচনায় উত্থাপিত প্রস্তাবনা ও সুপারিশসমূহ সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারণী মহলে পৌঁছে দেওয়া হবে।