ঢাকা ০৩:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬

রাজধানীতে তিন দিনব্যাপী লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং এক্সপো শুরু: রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা ১২ বিলিয়ন ডলার

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:০৪:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৫ বার পড়া হয়েছে

দেশের হালকা প্রকৌশল শিল্পের আধুনিক প্রযুক্তি প্রদর্শন এবং এ খাতের উৎপাদিত পণ্যের বাজার প্রসারের লক্ষ্যে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী ‘বাংলাদেশ লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং এক্সপো-২০২৬’। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর মিন্টো রোডের শহীদ আবু সাঈদ আন্তর্জাতিক কনভেনশন সেন্টারে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে এই মেলার পর্দা ওঠে। এক্সপোর্ট কম্পিটিটিভনেস ফর জবস (ইসিফোরজে) প্রকল্পের পরিচালক ও অতিরিক্ত সচিব মো. আবদুর রহিম খান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা দেশের শিল্পায়নের পরবর্তী ধাপে লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং খাতকে রপ্তানিমুখী ও আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বিশেষ করে স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের পর শুল্কমুক্ত বাণিজ্য সুবিধা কমে যাওয়ার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এ খাতের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের কোনো বিকল্প নেই বলে তারা মন্তব্য করেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো. আবদুর রহিম খান বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে বিভিন্ন খাতের উন্নয়ন নিয়ে ব্যাপক গবেষণা হলেও প্রত্যাশিত লক্ষ্যমাত্রা এখনো অর্জিত হয়নি। বিশ্ববাজারে লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্যের বিশাল চাহিদা থাকলেও বাংলাদেশ গত পাঁচ দশকে সেই সুযোগ পুরোপুরি কাজে লাগাতে পারেনি। তিনি আরও বলেন, “আমরা কৃষি থেকে ম্যানুফ্যাকচারিং এবং পরবর্তীতে টেক্সটাইল ও তৈরি পোশাক শিল্পে সফল হয়েছি। তবে শিল্পের পরবর্তী সোপান হিসেবে লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং খাতে আমাদের যে অগ্রগতি হওয়ার কথা ছিল, তা কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় পৌঁছায়নি।”

এলডিসি উত্তরণ প্রসঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, ২০২৬ সাল থেকে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের পণ্যের শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার সীমিত হয়ে আসবে। এই সময়ের মধ্যেই আমাদের সক্ষমতা বাড়াতে হবে। সরকারের নীতিমালার যথাযথ বাস্তবায়ন এবং উদ্যোক্তাদের গবেষণা ও উদ্ভাবনে আরও বিনিয়োগ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কেবল রপ্তানি নয়, দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারের বিশাল চাহিদাও দেশীয় শিল্প দিয়ে পূরণ করার সুযোগ রয়েছে। এ সময় তিনি গাজীপুরে স্থাপিতব্য নতুন টেকনোলজি সেন্টারের সুবিধা গ্রহণের জন্য উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিশ্বব্যাংকের সিনিয়র প্রাইভেট সেক্টর স্পেশালিস্ট মিস হোসনা ফেরদৌস সুমি বলেন, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং খাতের উন্নয়নে বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় বিভিন্ন কারিগরি ও নীতিগত সহযোগিতা প্রদান করা হচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, প্রায় ৮ বিলিয়ন ডলারের অভ্যন্তরীণ বাজার এই খাতের জন্য একটি বিশাল সম্ভাবনা। তবে পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণ এবং আন্তর্জাতিক কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত করা এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। উৎপাদন খরচ কমিয়ে আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে দক্ষতা বাড়াতে পারলে বিশ্ববাজারে বাংলাদেশ শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করতে পারবে।

সভাপতির বক্তব্যে বাইশিমাস সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক খাতের বর্তমান চিত্র তুলে ধরে বলেন, দেশের জিডিপিতে লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং খাত প্রায় ৩ শতাংশ অবদান রাখছে। বর্তমানে দেশে প্রায় ৫০ হাজার ক্ষুদ্র ও মাঝারি প্রতিষ্ঠানে ৩ লাখ দক্ষ কর্মী নিয়োজিত রয়েছেন। তিনি জানান, দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদার প্রায় অর্ধেকই এখন স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত হচ্ছে। তবে প্রায় ৭ ট্রিলিয়ন ডলারের বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের অংশ এখনো ১ শতাংশের নিচে। বর্তমানে এই খাত থেকে প্রায় ৭৯৫ মিলিয়ন ডলার রপ্তানি আয় হচ্ছে, যা সঠিক নীতি সহায়তা ও বিনিয়োগ পেলে ২০৩০ সালের মধ্যে ১২.৫৬ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা সম্ভব।

তিনি লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্পের জন্য বিশেষ জোন স্থাপন, কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক হ্রাস, সহজ শর্তে ব্যাংক ঋণ এবং প্রযুক্তিগত সহায়তার দাবি জানান। ৩ দিনব্যাপী এই মেলা প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে এবং আগামী ৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে। প্রদর্শনীতে দেশের লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং খাতের সর্বশেষ উদ্ভাবন, যন্ত্রাংশ ও আধুনিক প্রযুক্তি প্রদর্শিত হচ্ছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে বাইশিমাস-এর ঊর্ধ্বতন সহ-সভাপতি আব্দুর রশিদ, সহ-সভাপতি রাজু আহমেদসহ কেন্দ্রীয় পরিচালকবৃন্দ এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আবু সাঈদ হত্যা মামলা: তদন্তে ত্রুটি দেখছেন আসামিপক্ষের আইনজীবী, রায় ৯ এপ্রিল

রাজধানীতে তিন দিনব্যাপী লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং এক্সপো শুরু: রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা ১২ বিলিয়ন ডলার

আপডেট সময় : ০৬:০৪:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

দেশের হালকা প্রকৌশল শিল্পের আধুনিক প্রযুক্তি প্রদর্শন এবং এ খাতের উৎপাদিত পণ্যের বাজার প্রসারের লক্ষ্যে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী ‘বাংলাদেশ লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং এক্সপো-২০২৬’। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর মিন্টো রোডের শহীদ আবু সাঈদ আন্তর্জাতিক কনভেনশন সেন্টারে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে এই মেলার পর্দা ওঠে। এক্সপোর্ট কম্পিটিটিভনেস ফর জবস (ইসিফোরজে) প্রকল্পের পরিচালক ও অতিরিক্ত সচিব মো. আবদুর রহিম খান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা দেশের শিল্পায়নের পরবর্তী ধাপে লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং খাতকে রপ্তানিমুখী ও আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বিশেষ করে স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের পর শুল্কমুক্ত বাণিজ্য সুবিধা কমে যাওয়ার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এ খাতের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের কোনো বিকল্প নেই বলে তারা মন্তব্য করেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো. আবদুর রহিম খান বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে বিভিন্ন খাতের উন্নয়ন নিয়ে ব্যাপক গবেষণা হলেও প্রত্যাশিত লক্ষ্যমাত্রা এখনো অর্জিত হয়নি। বিশ্ববাজারে লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্যের বিশাল চাহিদা থাকলেও বাংলাদেশ গত পাঁচ দশকে সেই সুযোগ পুরোপুরি কাজে লাগাতে পারেনি। তিনি আরও বলেন, “আমরা কৃষি থেকে ম্যানুফ্যাকচারিং এবং পরবর্তীতে টেক্সটাইল ও তৈরি পোশাক শিল্পে সফল হয়েছি। তবে শিল্পের পরবর্তী সোপান হিসেবে লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং খাতে আমাদের যে অগ্রগতি হওয়ার কথা ছিল, তা কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় পৌঁছায়নি।”

এলডিসি উত্তরণ প্রসঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, ২০২৬ সাল থেকে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের পণ্যের শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার সীমিত হয়ে আসবে। এই সময়ের মধ্যেই আমাদের সক্ষমতা বাড়াতে হবে। সরকারের নীতিমালার যথাযথ বাস্তবায়ন এবং উদ্যোক্তাদের গবেষণা ও উদ্ভাবনে আরও বিনিয়োগ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কেবল রপ্তানি নয়, দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারের বিশাল চাহিদাও দেশীয় শিল্প দিয়ে পূরণ করার সুযোগ রয়েছে। এ সময় তিনি গাজীপুরে স্থাপিতব্য নতুন টেকনোলজি সেন্টারের সুবিধা গ্রহণের জন্য উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিশ্বব্যাংকের সিনিয়র প্রাইভেট সেক্টর স্পেশালিস্ট মিস হোসনা ফেরদৌস সুমি বলেন, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং খাতের উন্নয়নে বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় বিভিন্ন কারিগরি ও নীতিগত সহযোগিতা প্রদান করা হচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, প্রায় ৮ বিলিয়ন ডলারের অভ্যন্তরীণ বাজার এই খাতের জন্য একটি বিশাল সম্ভাবনা। তবে পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণ এবং আন্তর্জাতিক কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত করা এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। উৎপাদন খরচ কমিয়ে আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে দক্ষতা বাড়াতে পারলে বিশ্ববাজারে বাংলাদেশ শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করতে পারবে।

সভাপতির বক্তব্যে বাইশিমাস সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক খাতের বর্তমান চিত্র তুলে ধরে বলেন, দেশের জিডিপিতে লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং খাত প্রায় ৩ শতাংশ অবদান রাখছে। বর্তমানে দেশে প্রায় ৫০ হাজার ক্ষুদ্র ও মাঝারি প্রতিষ্ঠানে ৩ লাখ দক্ষ কর্মী নিয়োজিত রয়েছেন। তিনি জানান, দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদার প্রায় অর্ধেকই এখন স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত হচ্ছে। তবে প্রায় ৭ ট্রিলিয়ন ডলারের বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের অংশ এখনো ১ শতাংশের নিচে। বর্তমানে এই খাত থেকে প্রায় ৭৯৫ মিলিয়ন ডলার রপ্তানি আয় হচ্ছে, যা সঠিক নীতি সহায়তা ও বিনিয়োগ পেলে ২০৩০ সালের মধ্যে ১২.৫৬ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা সম্ভব।

তিনি লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্পের জন্য বিশেষ জোন স্থাপন, কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক হ্রাস, সহজ শর্তে ব্যাংক ঋণ এবং প্রযুক্তিগত সহায়তার দাবি জানান। ৩ দিনব্যাপী এই মেলা প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে এবং আগামী ৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে। প্রদর্শনীতে দেশের লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং খাতের সর্বশেষ উদ্ভাবন, যন্ত্রাংশ ও আধুনিক প্রযুক্তি প্রদর্শিত হচ্ছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে বাইশিমাস-এর ঊর্ধ্বতন সহ-সভাপতি আব্দুর রশিদ, সহ-সভাপতি রাজু আহমেদসহ কেন্দ্রীয় পরিচালকবৃন্দ এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।