ঢাকা ০৩:১৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬

পেশাদারিত্বই সাংবাদিকদের সুরক্ষা: সরকার দমনে দ্বিধাগ্রস্ত হবে, মত সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:০৮:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

অন্তর্বর্তী সরকারের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, সাংবাদিকতায় পেশাদারিত্বের মান উন্নত হলে কোনো সরকারই সাংবাদিকদের দমন করার সাহস পাবে না। তিনি জোর দিয়ে বলেন, একটি শক্তিশালী ও নির্ভীক সাংবাদিক সমাজ গড়ে উঠলে, কোনো মহলই সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধের আগে দুবার চিন্তা করতে বাধ্য হবে।

সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে জুলাই রেভল্যুশনারি জার্নালিস্ট’স অ্যালায়েন্স (জেআরজেএ) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব মন্তব্য করেন।

রিজওয়ানা হাসান বলেন, সাংবাদিকদের ব্যক্তিগত রাজনৈতিক বিশ্বাস বা দলীয় সম্পৃক্ততা থাকতে পারে। তবে, সংবাদ পরিবেশনের সময় দেশের মানুষ তাদের কাছ থেকে বস্তুনিষ্ঠতা আশা করে। তিনি সংবিধানের আলোকে বাকস্বাধীনতা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, সাংবাদিকতা ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা এবং সংগঠন করার অধিকারের কথা স্মরণ করিয়ে দেন। এই মৌলিক অধিকারগুলো সমুন্নত রেখে, আইনের কাঠামোর মধ্যে থেকেই সাংবাদিকদের পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

সাংবাদিকদের মধ্যে মতপার্থক্য থাকা স্বাভাবিক উল্লেখ করে সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, তবে সংবাদ পরিবেশনের ক্ষেত্রে মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত বস্তুনিষ্ঠতা। কোনো সংবাদ বস্তুনিষ্ঠভাবে উপস্থাপন করা হলো কিনা, এটিই সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আরও বলেন, সংবাদের বিশ্লেষণ নিয়ে ভিন্নমত থাকতে পারে, যা কিছু মানুষকে খুশি করতে পারে আবার কাউকে নাও করতে পারে। কিন্তু নিজের বিশ্লেষণ অনুযায়ী সংবাদ উপস্থাপন করার অধিকার সাংবাদিকদের রয়েছে।

আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, সম্প্রচারসহ সংশ্লিষ্ট আইনগুলোর খসড়া জনমতের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। খসড়া পর্যায়টি চূড়ান্ত নয়, এবং যুক্তিসঙ্গত মতামত পেলে তা বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় সংশোধন করা হবে। তিনি উল্লেখ করেন, যদিও সব দাবি পূরণ নাও হতে পারে, তবে আলোচনার মাধ্যমে একটি গ্রহণযোগ্য আইন প্রণয়ন করাই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অংশ।

গণতন্ত্র কেবল নির্বাচনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয় না, বরং এর সুরক্ষায় সাংবাদিকতা একটি অপরিহার্য স্তম্ভ হিসেবে কাজ করে। পটপরিবর্তনের পর সাংবাদিকদের আনুগত্য পরিবর্তনের অভিযোগ থেকে বেরিয়ে আসার জন্য পেশাগত উৎকর্ষ সাধনের মাধ্যমে নিজেদের প্রমাণ করতে হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আবু সাঈদ হত্যা মামলা: তদন্তে ত্রুটি দেখছেন আসামিপক্ষের আইনজীবী, রায় ৯ এপ্রিল

পেশাদারিত্বই সাংবাদিকদের সুরক্ষা: সরকার দমনে দ্বিধাগ্রস্ত হবে, মত সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের

আপডেট সময় : ০৫:০৮:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

অন্তর্বর্তী সরকারের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, সাংবাদিকতায় পেশাদারিত্বের মান উন্নত হলে কোনো সরকারই সাংবাদিকদের দমন করার সাহস পাবে না। তিনি জোর দিয়ে বলেন, একটি শক্তিশালী ও নির্ভীক সাংবাদিক সমাজ গড়ে উঠলে, কোনো মহলই সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধের আগে দুবার চিন্তা করতে বাধ্য হবে।

সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে জুলাই রেভল্যুশনারি জার্নালিস্ট’স অ্যালায়েন্স (জেআরজেএ) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব মন্তব্য করেন।

রিজওয়ানা হাসান বলেন, সাংবাদিকদের ব্যক্তিগত রাজনৈতিক বিশ্বাস বা দলীয় সম্পৃক্ততা থাকতে পারে। তবে, সংবাদ পরিবেশনের সময় দেশের মানুষ তাদের কাছ থেকে বস্তুনিষ্ঠতা আশা করে। তিনি সংবিধানের আলোকে বাকস্বাধীনতা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, সাংবাদিকতা ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা এবং সংগঠন করার অধিকারের কথা স্মরণ করিয়ে দেন। এই মৌলিক অধিকারগুলো সমুন্নত রেখে, আইনের কাঠামোর মধ্যে থেকেই সাংবাদিকদের পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

সাংবাদিকদের মধ্যে মতপার্থক্য থাকা স্বাভাবিক উল্লেখ করে সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, তবে সংবাদ পরিবেশনের ক্ষেত্রে মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত বস্তুনিষ্ঠতা। কোনো সংবাদ বস্তুনিষ্ঠভাবে উপস্থাপন করা হলো কিনা, এটিই সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আরও বলেন, সংবাদের বিশ্লেষণ নিয়ে ভিন্নমত থাকতে পারে, যা কিছু মানুষকে খুশি করতে পারে আবার কাউকে নাও করতে পারে। কিন্তু নিজের বিশ্লেষণ অনুযায়ী সংবাদ উপস্থাপন করার অধিকার সাংবাদিকদের রয়েছে।

আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, সম্প্রচারসহ সংশ্লিষ্ট আইনগুলোর খসড়া জনমতের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। খসড়া পর্যায়টি চূড়ান্ত নয়, এবং যুক্তিসঙ্গত মতামত পেলে তা বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় সংশোধন করা হবে। তিনি উল্লেখ করেন, যদিও সব দাবি পূরণ নাও হতে পারে, তবে আলোচনার মাধ্যমে একটি গ্রহণযোগ্য আইন প্রণয়ন করাই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অংশ।

গণতন্ত্র কেবল নির্বাচনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয় না, বরং এর সুরক্ষায় সাংবাদিকতা একটি অপরিহার্য স্তম্ভ হিসেবে কাজ করে। পটপরিবর্তনের পর সাংবাদিকদের আনুগত্য পরিবর্তনের অভিযোগ থেকে বেরিয়ে আসার জন্য পেশাগত উৎকর্ষ সাধনের মাধ্যমে নিজেদের প্রমাণ করতে হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।