ঢাকা ০৩:১৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬

জনগণের হাতে রাষ্ট্রের মালিকানা ফিরিয়ে আনাই ‘জুলাই সনদ’-এর লক্ষ্য: আলী রীয়াজ

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:৪৫:০৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ০ বার পড়া হয়েছে

রাষ্ট্রের লাগামহীন ক্ষমতার অপব্যবহার রোধ করে জনগণের হাতে এর প্রকৃত মালিকানা ফিরিয়ে দেওয়ার লক্ষ্যেই প্রণীত হয়েছে ‘জুলাই সনদ’। এই ঐতিহাসিক সনদের পরিবর্তনের বার্তা দেশের প্রতিটি প্রান্তে ছড়িয়ে দিতে শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (উপদেষ্টা পদ মর্যাদা) অধ্যাপক আলী রীয়াজ। তিনি মনে করেন, এই সনদের মাধ্যমে ব্যক্তিতান্ত্রিক স্বৈরাচার এবং ফ্যাসিবাদী দুঃশাসনের কবল থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।

সোমবার (০২ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক আলী রীয়াজ এই কথা বলেন। গণভোটের প্রচার ও ভোটার উদ্বুদ্ধকরণের উদ্দেশ্যে আয়োজিত এই সভায় তিনি বলেন, “দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রায় দেড়লাখ শিক্ষার্থী রয়েছে। তারা যদি পাঁচজন মানুষকে পরিবর্তনের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে উদ্বুদ্ধ করতে পারে, তাহলে ছয় লাখ মানুষের রায় আসবে। এছাড়াও, এক লাখের বেশি সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছেন, যারা আরও পাঁচ লাখ মানুষকে অনুপ্রাণিত করতে পারেন।”

তিনি আরও বলেন, “ব্যক্তিতান্ত্রিক স্বৈরাচার যাতে আর জাতির ঘাড়ে চেপে বসতে না পারে, কোনো ফ্যাসিবাদী দুঃশাসনের কবলে মানুষ যাতে আর নিপীড়িত না হয়, সেজন্য জুলাই সনদের মূল বার্তাগুলো মানুষকে জানাতে হবে। ৫৪ বছরের দীর্ঘ সংগ্রামে অসংখ্য শহীদের রক্তের বিনিময়ে যে সুযোগ আমাদের সামনে এসেছে, তা হেলায় হারানো যাবে না।”

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন যৌথভাবে এই সভার আয়োজন করে।

অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, “স্বাধীনতার পর থেকে এখন পর্যন্ত কোনো নির্বাচিত সরকারই ৪২ শতাংশের অধিক ভোট পায়নি। সংস্কার প্রস্তাব অনুযায়ী, সংবিধানের উচ্চকক্ষে আনুপাতিক হারে ১০০টি আসন থাকবে। অর্থাৎ, যে দল মোট ভোটের মাত্র ৫ শতাংশ ভোট পেয়েছে কিন্তু সরকার গঠন করতে পারেনি, তারাও উচ্চকক্ষে পাঁচজন প্রতিনিধির মাধ্যমে অংশগ্রহণ করতে পারবে। সংবিধান সংশোধনের জন্য উচ্চকক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠতা (কমপক্ষে ৫১ ভোটের সমর্থন) প্রয়োজন হবে। এর ফলে ব্যক্তিস্বার্থে সংবিধান পরিবর্তনের অপপ্রবণতা বন্ধ হবে।”

রাষ্ট্রপতির নিয়োগ ও দায়িত্ব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “বিগত সময়ে প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছানুসারেই সবকিছু পরিচালিত হতো। সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি কেবলমাত্র প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতি নিয়োগ ব্যতীত অন্য কোনো সিদ্ধান্ত এককভাবে গ্রহণ করতে পারেন না। অথচ, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে নির্বাচন কমিশন, সরকারি কর্মকমিশন, সচিবালয়, বিচার ব্যবস্থায় বিচারপতি নিয়োগের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো রাষ্ট্রপতি কর্তৃক পদায়ন করা হয় বলে বলা হলেও, বাস্তবে এগুলো তৎকালীন সরকারপ্রধানের ইচ্ছানুসারেই সম্পন্ন হতো। এর অর্থ হলো, বিদ্যমান সংবিধানেই স্বৈরাচার সৃষ্টির পথ খোলা রয়েছে।”

তিনি জোর দিয়ে বলেন, “সংবিধানের ৭(ক) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ। কিন্তু এতদিন সেই জনগণকে তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত রাখা হয়েছে। বিবেকের তাড়নায় গণভোটে অংশগ্রহণ অত্যন্ত জরুরি, যাতে ভবিষ্যতের বাংলাদেশ কোনো একক ব্যক্তির ইচ্ছার কাছে বন্দী না হয়ে পড়ে।”

‘হ্যাঁ’-এর প্রতীক সম্পর্কে অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, “গোলাপি ব্যালটে ‘টিক চিহ্ন’ই হলো ‘হ্যাঁ’-এর প্রতীক। রাষ্ট্রকে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হলে ‘হ্যাঁ’-কে জয়যুক্ত করতে হবে।”

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর সালেহ হাসান নকীবের সভাপতিত্বে সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের সদস্য ড. আনোয়ার হোসেন, বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর খাদেমুল ইসলাম মোল্লা, নর্থ-বেঙ্গল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ছায়েদুর রহমান প্রমুখ।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আবু সাঈদ হত্যা মামলা: তদন্তে ত্রুটি দেখছেন আসামিপক্ষের আইনজীবী, রায় ৯ এপ্রিল

জনগণের হাতে রাষ্ট্রের মালিকানা ফিরিয়ে আনাই ‘জুলাই সনদ’-এর লক্ষ্য: আলী রীয়াজ

আপডেট সময় : ০৪:৪৫:০৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

রাষ্ট্রের লাগামহীন ক্ষমতার অপব্যবহার রোধ করে জনগণের হাতে এর প্রকৃত মালিকানা ফিরিয়ে দেওয়ার লক্ষ্যেই প্রণীত হয়েছে ‘জুলাই সনদ’। এই ঐতিহাসিক সনদের পরিবর্তনের বার্তা দেশের প্রতিটি প্রান্তে ছড়িয়ে দিতে শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (উপদেষ্টা পদ মর্যাদা) অধ্যাপক আলী রীয়াজ। তিনি মনে করেন, এই সনদের মাধ্যমে ব্যক্তিতান্ত্রিক স্বৈরাচার এবং ফ্যাসিবাদী দুঃশাসনের কবল থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।

সোমবার (০২ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক আলী রীয়াজ এই কথা বলেন। গণভোটের প্রচার ও ভোটার উদ্বুদ্ধকরণের উদ্দেশ্যে আয়োজিত এই সভায় তিনি বলেন, “দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রায় দেড়লাখ শিক্ষার্থী রয়েছে। তারা যদি পাঁচজন মানুষকে পরিবর্তনের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে উদ্বুদ্ধ করতে পারে, তাহলে ছয় লাখ মানুষের রায় আসবে। এছাড়াও, এক লাখের বেশি সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছেন, যারা আরও পাঁচ লাখ মানুষকে অনুপ্রাণিত করতে পারেন।”

তিনি আরও বলেন, “ব্যক্তিতান্ত্রিক স্বৈরাচার যাতে আর জাতির ঘাড়ে চেপে বসতে না পারে, কোনো ফ্যাসিবাদী দুঃশাসনের কবলে মানুষ যাতে আর নিপীড়িত না হয়, সেজন্য জুলাই সনদের মূল বার্তাগুলো মানুষকে জানাতে হবে। ৫৪ বছরের দীর্ঘ সংগ্রামে অসংখ্য শহীদের রক্তের বিনিময়ে যে সুযোগ আমাদের সামনে এসেছে, তা হেলায় হারানো যাবে না।”

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন যৌথভাবে এই সভার আয়োজন করে।

অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, “স্বাধীনতার পর থেকে এখন পর্যন্ত কোনো নির্বাচিত সরকারই ৪২ শতাংশের অধিক ভোট পায়নি। সংস্কার প্রস্তাব অনুযায়ী, সংবিধানের উচ্চকক্ষে আনুপাতিক হারে ১০০টি আসন থাকবে। অর্থাৎ, যে দল মোট ভোটের মাত্র ৫ শতাংশ ভোট পেয়েছে কিন্তু সরকার গঠন করতে পারেনি, তারাও উচ্চকক্ষে পাঁচজন প্রতিনিধির মাধ্যমে অংশগ্রহণ করতে পারবে। সংবিধান সংশোধনের জন্য উচ্চকক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠতা (কমপক্ষে ৫১ ভোটের সমর্থন) প্রয়োজন হবে। এর ফলে ব্যক্তিস্বার্থে সংবিধান পরিবর্তনের অপপ্রবণতা বন্ধ হবে।”

রাষ্ট্রপতির নিয়োগ ও দায়িত্ব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “বিগত সময়ে প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছানুসারেই সবকিছু পরিচালিত হতো। সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি কেবলমাত্র প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতি নিয়োগ ব্যতীত অন্য কোনো সিদ্ধান্ত এককভাবে গ্রহণ করতে পারেন না। অথচ, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে নির্বাচন কমিশন, সরকারি কর্মকমিশন, সচিবালয়, বিচার ব্যবস্থায় বিচারপতি নিয়োগের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো রাষ্ট্রপতি কর্তৃক পদায়ন করা হয় বলে বলা হলেও, বাস্তবে এগুলো তৎকালীন সরকারপ্রধানের ইচ্ছানুসারেই সম্পন্ন হতো। এর অর্থ হলো, বিদ্যমান সংবিধানেই স্বৈরাচার সৃষ্টির পথ খোলা রয়েছে।”

তিনি জোর দিয়ে বলেন, “সংবিধানের ৭(ক) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ। কিন্তু এতদিন সেই জনগণকে তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত রাখা হয়েছে। বিবেকের তাড়নায় গণভোটে অংশগ্রহণ অত্যন্ত জরুরি, যাতে ভবিষ্যতের বাংলাদেশ কোনো একক ব্যক্তির ইচ্ছার কাছে বন্দী না হয়ে পড়ে।”

‘হ্যাঁ’-এর প্রতীক সম্পর্কে অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, “গোলাপি ব্যালটে ‘টিক চিহ্ন’ই হলো ‘হ্যাঁ’-এর প্রতীক। রাষ্ট্রকে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হলে ‘হ্যাঁ’-কে জয়যুক্ত করতে হবে।”

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর সালেহ হাসান নকীবের সভাপতিত্বে সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের সদস্য ড. আনোয়ার হোসেন, বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর খাদেমুল ইসলাম মোল্লা, নর্থ-বেঙ্গল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ছায়েদুর রহমান প্রমুখ।