ঢাকা ০৩:১৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬

কৃত্রিম উপায়ে ইলিশ চাষের অনুমোদন নেই, বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:৪১:৪১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

কৃত্রিম পরিবেশে বা ইনডোর পদ্ধতিতে ইলিশ মাছ চাষের ব্যাপারে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো অনুমোদন দেওয়া হয়নি। এই বিষয়ে জনমনে বিভ্রান্তি ছড়ানো তথ্যে কান না দেওয়ার জন্য মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সকলকে অনুরোধ জানিয়েছে।

সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ইলিশের কৃত্রিম চাষাবাদ নিয়ে যে সংবাদ পরিবেশিত হচ্ছে, সে বিষয়ে মন্ত্রণালয় গুরুত্ব সহকারে বিষয়টি পর্যালোচনা করেছে। জানা গেছে, একটি বিশেষ প্রযুক্তির (রিসার্কুলেটিং অ্যাকুয়াকালচার সিস্টেম) মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে ইলিশ ও অন্যান্য সামুদ্রিক মাছ চাষের সম্ভাব্যতা নিয়ে গত ১ ফেব্রুয়ারি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আখতারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় মন্ত্রণালয়, মৎস্য অধিদপ্তর এবং বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় উপস্থিত কর্মকর্তারা একমত পোষণ করেন যে, ইলিশ বাংলাদেশের একটি অমূল্য ভৌগোলিক নির্দেশক পণ্য। দেশের নদ-নদী ও উপকূলীয় পরিবেশ, খাদ্য নিরাপত্তা, ঐতিহ্য এবং লক্ষ লক্ষ জেলে ও মৎস্যজীবীর জীবন-জীবিকার সঙ্গে ইলিশ মাছের সম্পর্ক অবিচ্ছেদ্য। ইলিশের উৎপাদন ও ব্যবস্থাপনা মূলত এর প্রাকৃতিক প্রজনন চক্র এবং নদীভিত্তিক পরিবেশের উপর নির্ভরশীল। তাই এই বিষয়ক যেকোনো পদক্ষেপ অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং সুচিন্তিত নীতিমালার উপর ভিত্তি করে নেওয়া উচিত।

আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে এটি স্পষ্ট হয়েছে যে, বর্তমানে বা ভবিষ্যতে কোনো কৃত্রিম, সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রিত বা নিবিড় পদ্ধতিতে ইলিশ চাষের ব্যাপারে সরকারের কোনো নীতিগত সিদ্ধান্ত বা অনুমোদন নেই। অতএব, এই ধরনের কোনো পদ্ধতিতে ইলিশ চাষ বা এর সাথে সম্পর্কিত কোনো কার্যক্রম পরিচালনার জন্য কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে অনুমতি প্রদান করা হয়নি।

মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে যে, ইলিশ বিষয়ক যেকোনো গবেষণা, পরীক্ষামূলক উদ্যোগ বা প্রযুক্তিগত কার্যক্রম অবশ্যই দেশের প্রচলিত আইন, নীতিমালা এবং জাতীয় স্বার্থের কথা বিবেচনা করে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমোদন সাপেক্ষে পরিচালিত হতে হবে। অনুমোদন ছাড়া কোনো ধরনের কার্যক্রম আইনত গ্রহণযোগ্য হবে না।

এ বিষয়ে সকল নাগরিক ও সংশ্লিষ্ট পক্ষকে গুজবে বিভ্রান্ত না হয়ে সরকার কর্তৃক অনুমোদিত নির্ভরযোগ্য তথ্যের উপর আস্থা রাখতে বিশেষভাবে অনুরোধ করা হয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আবু সাঈদ হত্যা মামলা: তদন্তে ত্রুটি দেখছেন আসামিপক্ষের আইনজীবী, রায় ৯ এপ্রিল

কৃত্রিম উপায়ে ইলিশ চাষের অনুমোদন নেই, বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান

আপডেট সময় : ০৪:৪১:৪১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

কৃত্রিম পরিবেশে বা ইনডোর পদ্ধতিতে ইলিশ মাছ চাষের ব্যাপারে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো অনুমোদন দেওয়া হয়নি। এই বিষয়ে জনমনে বিভ্রান্তি ছড়ানো তথ্যে কান না দেওয়ার জন্য মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সকলকে অনুরোধ জানিয়েছে।

সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ইলিশের কৃত্রিম চাষাবাদ নিয়ে যে সংবাদ পরিবেশিত হচ্ছে, সে বিষয়ে মন্ত্রণালয় গুরুত্ব সহকারে বিষয়টি পর্যালোচনা করেছে। জানা গেছে, একটি বিশেষ প্রযুক্তির (রিসার্কুলেটিং অ্যাকুয়াকালচার সিস্টেম) মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে ইলিশ ও অন্যান্য সামুদ্রিক মাছ চাষের সম্ভাব্যতা নিয়ে গত ১ ফেব্রুয়ারি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আখতারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় মন্ত্রণালয়, মৎস্য অধিদপ্তর এবং বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় উপস্থিত কর্মকর্তারা একমত পোষণ করেন যে, ইলিশ বাংলাদেশের একটি অমূল্য ভৌগোলিক নির্দেশক পণ্য। দেশের নদ-নদী ও উপকূলীয় পরিবেশ, খাদ্য নিরাপত্তা, ঐতিহ্য এবং লক্ষ লক্ষ জেলে ও মৎস্যজীবীর জীবন-জীবিকার সঙ্গে ইলিশ মাছের সম্পর্ক অবিচ্ছেদ্য। ইলিশের উৎপাদন ও ব্যবস্থাপনা মূলত এর প্রাকৃতিক প্রজনন চক্র এবং নদীভিত্তিক পরিবেশের উপর নির্ভরশীল। তাই এই বিষয়ক যেকোনো পদক্ষেপ অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং সুচিন্তিত নীতিমালার উপর ভিত্তি করে নেওয়া উচিত।

আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে এটি স্পষ্ট হয়েছে যে, বর্তমানে বা ভবিষ্যতে কোনো কৃত্রিম, সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রিত বা নিবিড় পদ্ধতিতে ইলিশ চাষের ব্যাপারে সরকারের কোনো নীতিগত সিদ্ধান্ত বা অনুমোদন নেই। অতএব, এই ধরনের কোনো পদ্ধতিতে ইলিশ চাষ বা এর সাথে সম্পর্কিত কোনো কার্যক্রম পরিচালনার জন্য কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে অনুমতি প্রদান করা হয়নি।

মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে যে, ইলিশ বিষয়ক যেকোনো গবেষণা, পরীক্ষামূলক উদ্যোগ বা প্রযুক্তিগত কার্যক্রম অবশ্যই দেশের প্রচলিত আইন, নীতিমালা এবং জাতীয় স্বার্থের কথা বিবেচনা করে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমোদন সাপেক্ষে পরিচালিত হতে হবে। অনুমোদন ছাড়া কোনো ধরনের কার্যক্রম আইনত গ্রহণযোগ্য হবে না।

এ বিষয়ে সকল নাগরিক ও সংশ্লিষ্ট পক্ষকে গুজবে বিভ্রান্ত না হয়ে সরকার কর্তৃক অনুমোদিত নির্ভরযোগ্য তথ্যের উপর আস্থা রাখতে বিশেষভাবে অনুরোধ করা হয়েছে।