ঢাকা ০৪:৪৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬

গুমের ঘটনায় সেনাবাহিনীর সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির ক্ষেত্রে সরকারের দুর্বলতা: টিআইবি

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০২:৪০:৫৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

গুমের ঘটনায় সেনাবাহিনীর সদস্যদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সরকারের অবস্থান দুর্বল বলে মন্তব্য করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটি আরও বলেছে, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের রাষ্ট্র ও আইন সংস্কারের উদ্যোগও নাজুক অবস্থায় রয়েছে।

সোমবার (তারিখ) রাজধানীর ধানমন্ডির মাইডাস সেন্টারে টিআইবির প্রধান কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির গবেষণা প্রতিবেদনে এই তথ্য তুলে ধরা হয়।

টিআইবি অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় আসার পর বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন এবং এর পূর্বে সংঘটিত অপরাধ ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের তদন্ত ও বিচার, রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক পুনর্গঠন ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন সংক্রান্ত কার্যক্রম, এবং বিভিন্ন খাতে নিয়মিত কার্যক্রম (আর্থিক, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, স্থানীয় সরকারব্যবস্থা, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, পরিবেশ, বৈদেশিক কর্মসংস্থান, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক) সহ রাষ্ট্র পরিচালনাসহ বিভিন্ন বিষয়ে গবেষণা করেছে।

গবেষণায় দেখা গেছে, নিরাপত্তা বাহিনী ও সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে আলামত নষ্টের অভিযোগ থাকলেও সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির আওতায় আনতে সরকার ব্যর্থ হয়েছে। গুমের বিচার প্রক্রিয়া ধীরগতির বলেও অভিযোগ করেছে টিআইবি।

গ্রেফতারি পরোয়ানা ও দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও ১০ জন সেনা কর্মকর্তার বিদেশে পালানো রোধ করতে সরকার ব্যর্থ হয়েছে। গুমের সঙ্গে জড়িত আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও সেনা কর্মকর্তাদের একাংশের বিচার শুরু হলেও মূল অপরাধীরা বিচারের বাইরে রয়ে গেছে।

মানতাবিরোধী অপরাধ এবং (উল্লেখযোগ্য ঘটনা, যেমন – একটি নির্দিষ্ট গণ-অভ্যুত্থান) সময়ের হত্যাকাণ্ডের মামলায় অভিযুক্ত ১৫ জন সেনাকর্মকর্তাকে বৈষম্যমূলকভাবে সেনানিবাসের অভ্যন্তরে সাবজেল বা উপ-কারাগারে রাখা হয়েছে, যা প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।

টিআইবি জানিয়েছে, ২০২৫ সাল পর্যন্ত দায়েরকৃত মামলা ১ হাজার ৭৮৫টি (হত্যা মামলা ৮৩৭টি)। এর মধ্যে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে ১০৬টিতে, যার মধ্যে হত্যা মামলা ৩১টি। পতিত সরকারের মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য ১২৮ জন গ্রেপ্তার হয়েছেন।

(উল্লেখযোগ্য ঘটনা, যেমন – গণ-অভ্যুত্থান) হত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগে বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সারা দেশে পুলিশের বিরুদ্ধে ৭৬১টি মামলায় ১ হাজার ১৬৮ জন পুলিশ সদস্য আসামি, এবং তাদের মধ্যে ৬১ জন গ্রেপ্তার হয়েছে।

একটি মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মৃত্যুদণ্ড এবং রাজসাক্ষী হওয়ায় পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শকের পাঁচ বছরের কারাদণ্ড হয়েছে। অন্য একটি মামলায় তিন পুলিশ কর্মকর্তার মৃত্যুদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দুটি বেঞ্চে মোট ১২টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে এবং এতে ১০৫ জনের বেশি অভিযুক্ত হয়েছেন।

সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, (উল্লেখযোগ্য ঘটনা, যেমন – গণ-অভ্যুত্থান) আহতদের যথাযথ ক্ষতিপূরণ, সন্তোষজনক চিকিৎসা এবং (উল্লেখযোগ্য প্রতিষ্ঠান, যেমন – একটি নির্দিষ্ট অধিদপ্তর বা ফাউন্ডেশন) কাজের পরিধি নিয়ে প্রশ্ন এবং সমন্বয়ের অভাব দেখা দিয়েছে। অনুদান প্রদানের কিছু ক্ষেত্রে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগও উঠেছে। পাশাপাশি, (উল্লেখযোগ্য স্থাপনা, যেমন – একটি স্মৃতি জাদুঘর) নির্মাণে সরকারি ক্রয় নীতিমালা অনুসরণে ঘাটতি রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু হবে কিনা, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। কারণ, নির্বাচনে পেশীশক্তি, অর্থ ও ধর্মের ব্যবহার লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এই বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে।

তিনি আরও বলেন, গুমের সঙ্গে জড়িত সেনাবাহিনী ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের যারা পালাতে সহযোগিতা করেছে, তাদের আইনের আওতায় আনার জন্য সরকারকে উদ্যোগ নিতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে টিআইবির নির্বাহী কমিটির উপদেষ্টা ড. সুমাইয়া খায়ের, পরিচালক (কমিনিউকেশন) মোহাম্মদ তাওহিদুল ইসলাম এবং পরিচালক (গবেষণা) মো. বদিউজ্জামান উপস্থিত ছিলেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আলোচিত ছাত্রনেতা রিয়াদ হত্যাচেষ্টা মামলায় রিমান্ডে, জামিন পেলেন ৩ সহ-অভিযুক্ত

গুমের ঘটনায় সেনাবাহিনীর সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির ক্ষেত্রে সরকারের দুর্বলতা: টিআইবি

আপডেট সময় : ০২:৪০:৫৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

গুমের ঘটনায় সেনাবাহিনীর সদস্যদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সরকারের অবস্থান দুর্বল বলে মন্তব্য করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটি আরও বলেছে, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের রাষ্ট্র ও আইন সংস্কারের উদ্যোগও নাজুক অবস্থায় রয়েছে।

সোমবার (তারিখ) রাজধানীর ধানমন্ডির মাইডাস সেন্টারে টিআইবির প্রধান কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির গবেষণা প্রতিবেদনে এই তথ্য তুলে ধরা হয়।

টিআইবি অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় আসার পর বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন এবং এর পূর্বে সংঘটিত অপরাধ ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের তদন্ত ও বিচার, রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক পুনর্গঠন ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন সংক্রান্ত কার্যক্রম, এবং বিভিন্ন খাতে নিয়মিত কার্যক্রম (আর্থিক, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, স্থানীয় সরকারব্যবস্থা, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, পরিবেশ, বৈদেশিক কর্মসংস্থান, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক) সহ রাষ্ট্র পরিচালনাসহ বিভিন্ন বিষয়ে গবেষণা করেছে।

গবেষণায় দেখা গেছে, নিরাপত্তা বাহিনী ও সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে আলামত নষ্টের অভিযোগ থাকলেও সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির আওতায় আনতে সরকার ব্যর্থ হয়েছে। গুমের বিচার প্রক্রিয়া ধীরগতির বলেও অভিযোগ করেছে টিআইবি।

গ্রেফতারি পরোয়ানা ও দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও ১০ জন সেনা কর্মকর্তার বিদেশে পালানো রোধ করতে সরকার ব্যর্থ হয়েছে। গুমের সঙ্গে জড়িত আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও সেনা কর্মকর্তাদের একাংশের বিচার শুরু হলেও মূল অপরাধীরা বিচারের বাইরে রয়ে গেছে।

মানতাবিরোধী অপরাধ এবং (উল্লেখযোগ্য ঘটনা, যেমন – একটি নির্দিষ্ট গণ-অভ্যুত্থান) সময়ের হত্যাকাণ্ডের মামলায় অভিযুক্ত ১৫ জন সেনাকর্মকর্তাকে বৈষম্যমূলকভাবে সেনানিবাসের অভ্যন্তরে সাবজেল বা উপ-কারাগারে রাখা হয়েছে, যা প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।

টিআইবি জানিয়েছে, ২০২৫ সাল পর্যন্ত দায়েরকৃত মামলা ১ হাজার ৭৮৫টি (হত্যা মামলা ৮৩৭টি)। এর মধ্যে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে ১০৬টিতে, যার মধ্যে হত্যা মামলা ৩১টি। পতিত সরকারের মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য ১২৮ জন গ্রেপ্তার হয়েছেন।

(উল্লেখযোগ্য ঘটনা, যেমন – গণ-অভ্যুত্থান) হত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগে বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সারা দেশে পুলিশের বিরুদ্ধে ৭৬১টি মামলায় ১ হাজার ১৬৮ জন পুলিশ সদস্য আসামি, এবং তাদের মধ্যে ৬১ জন গ্রেপ্তার হয়েছে।

একটি মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মৃত্যুদণ্ড এবং রাজসাক্ষী হওয়ায় পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শকের পাঁচ বছরের কারাদণ্ড হয়েছে। অন্য একটি মামলায় তিন পুলিশ কর্মকর্তার মৃত্যুদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দুটি বেঞ্চে মোট ১২টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে এবং এতে ১০৫ জনের বেশি অভিযুক্ত হয়েছেন।

সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, (উল্লেখযোগ্য ঘটনা, যেমন – গণ-অভ্যুত্থান) আহতদের যথাযথ ক্ষতিপূরণ, সন্তোষজনক চিকিৎসা এবং (উল্লেখযোগ্য প্রতিষ্ঠান, যেমন – একটি নির্দিষ্ট অধিদপ্তর বা ফাউন্ডেশন) কাজের পরিধি নিয়ে প্রশ্ন এবং সমন্বয়ের অভাব দেখা দিয়েছে। অনুদান প্রদানের কিছু ক্ষেত্রে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগও উঠেছে। পাশাপাশি, (উল্লেখযোগ্য স্থাপনা, যেমন – একটি স্মৃতি জাদুঘর) নির্মাণে সরকারি ক্রয় নীতিমালা অনুসরণে ঘাটতি রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু হবে কিনা, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। কারণ, নির্বাচনে পেশীশক্তি, অর্থ ও ধর্মের ব্যবহার লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এই বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে।

তিনি আরও বলেন, গুমের সঙ্গে জড়িত সেনাবাহিনী ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের যারা পালাতে সহযোগিতা করেছে, তাদের আইনের আওতায় আনার জন্য সরকারকে উদ্যোগ নিতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে টিআইবির নির্বাহী কমিটির উপদেষ্টা ড. সুমাইয়া খায়ের, পরিচালক (কমিনিউকেশন) মোহাম্মদ তাওহিদুল ইসলাম এবং পরিচালক (গবেষণা) মো. বদিউজ্জামান উপস্থিত ছিলেন।