ঢাকা ০৪:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬

অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ে ৮৫৬ উন্নয়ন প্রকল্পে ‘গ্রিন সিগন্যাল’

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০১:৫৬:৩৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মেয়াদের একেবারে শেষ সময়ে এসে নতুন ৮৫৬টি উন্নয়ন প্রকল্পের নীতিগত অনুমোদন বা ‘গ্রিন সিগন্যাল’ দেওয়া হয়েছে। এসব প্রকল্প চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (আরএডিপি) ‘সবুজ পাতায়’ (বরাদ্দহীন অনুমোদনহীন প্রকল্পের তালিকা) অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই বিশাল কর্মযজ্ঞের প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১২ লাখ ১৯ হাজার ৮৭২ কোটি ৮৯ লাখ টাকা।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, গ্রিন সিগন্যাল পাওয়া এই ৮৫৬টি প্রকল্পের মধ্যে ৬৬৮টি সরকারি নিজস্ব তহবিলে (GOB), ১৫৬টি বৈদেশিক ঋণে এবং ৩২টি স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নির্বাচনী ডামাডোলের মধ্যে এত বিপুল সংখ্যক প্রকল্প সবুজ পাতায় যুক্ত করা পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের ওপর এক ধরনের নীতিগত ও প্রশাসনিক চাপ সৃষ্টি করবে।

প্রকল্পের খাতওয়ারি বিশ্লেষণ

অনুমোদন প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত প্রকল্পগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রকল্প রয়েছে গৃহায়ন ও কমিউনিটি সুবিধা খাতে। খাতওয়ারি উল্লেখযোগ্য পরিসংখ্যান নিচে দেওয়া হলো:

খাতের নামপ্রকল্পের সংখ্যা
গৃহায়ন ও কমিউনিটি সুবিধাবলী১৬০
পরিবহন ও যোগাযোগ১০২
কৃষি খাত৯০
শিক্ষা খাত৭২
স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন৬৯
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি৫৮

উল্লেখযোগ্য প্রকল্পসমূহ

সবুজ পাতায় যুক্ত হওয়া প্রকল্পগুলোর তালিকায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল প্রকল্প স্থান পেয়েছে:

  • আবাসন প্রকল্প: প্রধানমন্ত্রীর নতুন বাসভবন নির্মাণ, বেইলি রোডে অফিসার্স কোয়ার্টার ও রমনায় তিনটি মিনিস্টার্স অ্যাপার্টমেন্ট নির্মাণ।
  • বিপ্লবে হতাহতদের জন্য আবাসন: ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শহীদ ও আহতদের পরিবারের স্থায়ী বাসস্থানের জন্য মিরপুরের ৯ ও ১৬ নং সেকশনে আবাসিক ফ্ল্যাট নির্মাণ প্রকল্প।
  • প্রশাসনিক অবকাঠামো: বাংলাদেশ সচিবালয়ে ২১ তলা বিশিষ্ট নতুন অফিস ভবন এবং সেগুনবাগিচায় গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয় (পূর্ত ভবন) নির্মাণ।
  • রাজউক প্রকল্প: উত্তরা অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্প (ব্লক বি ও সি) এবং পূর্বাচল অ্যাপার্টমেন্ট নির্মাণ প্রকল্প।
  • আঞ্চলিক উন্নয়ন: কুমিলা ও পটুয়াখালী জেলার গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন এবং পদ্মা সেতু সংযোগ সড়ক উন্নয়ন প্রকল্প।

বিশেষজ্ঞদের অভিমত

সাবেক পরিকল্পনা সচিব মামুন-আল-রশীদ এ বিষয়ে বলেন, “সবুজ পাতায় প্রকল্প যুক্ত হওয়া মানে এক ধরনের নীতিগত সম্মতি। এর ফলে প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা পরবর্তীতে পরিকল্পনা কমিশনকে চাপ দিতে পারেন যে, এটি আগে থেকেই তালিকায় ছিল। তবে নির্বাচিত সরকার চাইলে এসব প্রকল্প পুনরায় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে পারবে এবং প্রয়োজনে বাতিলও করতে পারবে।”

বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি তহবিলের প্রায় সাত লাখ ৩৬ হাজার কোটি টাকা এবং বৈদেশিক ঋণের প্রায় পাঁচ লাখ কোটি টাকার এই বিশাল ব্যয়ের বোঝা বহন করা পরবর্তী সরকারের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। অর্থনৈতিক সংকটের এই সময়ে তড়িঘড়ি করে এত প্রকল্প তালিকায় রাখা কতটা বাস্তবসম্মত, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

আলোচিত ছাত্রনেতা রিয়াদ হত্যাচেষ্টা মামলায় রিমান্ডে, জামিন পেলেন ৩ সহ-অভিযুক্ত

অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ে ৮৫৬ উন্নয়ন প্রকল্পে ‘গ্রিন সিগন্যাল’

আপডেট সময় : ০১:৫৬:৩৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মেয়াদের একেবারে শেষ সময়ে এসে নতুন ৮৫৬টি উন্নয়ন প্রকল্পের নীতিগত অনুমোদন বা ‘গ্রিন সিগন্যাল’ দেওয়া হয়েছে। এসব প্রকল্প চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (আরএডিপি) ‘সবুজ পাতায়’ (বরাদ্দহীন অনুমোদনহীন প্রকল্পের তালিকা) অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই বিশাল কর্মযজ্ঞের প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১২ লাখ ১৯ হাজার ৮৭২ কোটি ৮৯ লাখ টাকা।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, গ্রিন সিগন্যাল পাওয়া এই ৮৫৬টি প্রকল্পের মধ্যে ৬৬৮টি সরকারি নিজস্ব তহবিলে (GOB), ১৫৬টি বৈদেশিক ঋণে এবং ৩২টি স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নির্বাচনী ডামাডোলের মধ্যে এত বিপুল সংখ্যক প্রকল্প সবুজ পাতায় যুক্ত করা পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের ওপর এক ধরনের নীতিগত ও প্রশাসনিক চাপ সৃষ্টি করবে।

প্রকল্পের খাতওয়ারি বিশ্লেষণ

অনুমোদন প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত প্রকল্পগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রকল্প রয়েছে গৃহায়ন ও কমিউনিটি সুবিধা খাতে। খাতওয়ারি উল্লেখযোগ্য পরিসংখ্যান নিচে দেওয়া হলো:

খাতের নামপ্রকল্পের সংখ্যা
গৃহায়ন ও কমিউনিটি সুবিধাবলী১৬০
পরিবহন ও যোগাযোগ১০২
কৃষি খাত৯০
শিক্ষা খাত৭২
স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন৬৯
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি৫৮

উল্লেখযোগ্য প্রকল্পসমূহ

সবুজ পাতায় যুক্ত হওয়া প্রকল্পগুলোর তালিকায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল প্রকল্প স্থান পেয়েছে:

  • আবাসন প্রকল্প: প্রধানমন্ত্রীর নতুন বাসভবন নির্মাণ, বেইলি রোডে অফিসার্স কোয়ার্টার ও রমনায় তিনটি মিনিস্টার্স অ্যাপার্টমেন্ট নির্মাণ।
  • বিপ্লবে হতাহতদের জন্য আবাসন: ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শহীদ ও আহতদের পরিবারের স্থায়ী বাসস্থানের জন্য মিরপুরের ৯ ও ১৬ নং সেকশনে আবাসিক ফ্ল্যাট নির্মাণ প্রকল্প।
  • প্রশাসনিক অবকাঠামো: বাংলাদেশ সচিবালয়ে ২১ তলা বিশিষ্ট নতুন অফিস ভবন এবং সেগুনবাগিচায় গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয় (পূর্ত ভবন) নির্মাণ।
  • রাজউক প্রকল্প: উত্তরা অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্প (ব্লক বি ও সি) এবং পূর্বাচল অ্যাপার্টমেন্ট নির্মাণ প্রকল্প।
  • আঞ্চলিক উন্নয়ন: কুমিলা ও পটুয়াখালী জেলার গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন এবং পদ্মা সেতু সংযোগ সড়ক উন্নয়ন প্রকল্প।

বিশেষজ্ঞদের অভিমত

সাবেক পরিকল্পনা সচিব মামুন-আল-রশীদ এ বিষয়ে বলেন, “সবুজ পাতায় প্রকল্প যুক্ত হওয়া মানে এক ধরনের নীতিগত সম্মতি। এর ফলে প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা পরবর্তীতে পরিকল্পনা কমিশনকে চাপ দিতে পারেন যে, এটি আগে থেকেই তালিকায় ছিল। তবে নির্বাচিত সরকার চাইলে এসব প্রকল্প পুনরায় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে পারবে এবং প্রয়োজনে বাতিলও করতে পারবে।”

বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি তহবিলের প্রায় সাত লাখ ৩৬ হাজার কোটি টাকা এবং বৈদেশিক ঋণের প্রায় পাঁচ লাখ কোটি টাকার এই বিশাল ব্যয়ের বোঝা বহন করা পরবর্তী সরকারের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। অর্থনৈতিক সংকটের এই সময়ে তড়িঘড়ি করে এত প্রকল্প তালিকায় রাখা কতটা বাস্তবসম্মত, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই।