ঢাকা ০৪:৪৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬

৩০০ আসনের ৫৩টিতে সহিংসতার শঙ্কা: বিশেষ সতর্কতায় পুলিশ

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০১:৫৩:১১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশের ৫৩টি সংসদীয় আসনে সহিংসতার আশঙ্কা করছে পুলিশ। এসব এলাকায় সম্ভাব্য হট্টগোল, হামলা-পাল্টা হামলা এবং বিশৃঙ্খলা এড়াতে আগেভাগেই বিশেষ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, বিশেষ নজরদারির আওতায় থাকা এই আসনগুলোতে ভোটের দিন ও তার আগে বাড়তি পুলিশ সদস্য মোতায়েন এবং নিয়মিত টহল জোরদার করা হবে।

ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করার কারণসমূহ: পুলিশ সদর দপ্তর ও গোয়েন্দা সূত্র জানায়, বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট কারণে এই ৫৩টি আসনকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ বা ‘বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে:

  • একাধিক প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী: একই আসনে একাধিক প্রভাবশালী বা হেভিওয়েট প্রার্থীর উপস্থিতি।
  • অতীতের ইতিহাস: বিগত নির্বাচনগুলোতে যেসব এলাকায় সহিংসতার রেকর্ড রয়েছে।
  • রাজনৈতিক প্রভাব: স্থানীয় পর্যায়ে বিশেষ রাজনৈতিক দলের শক্তিশালী অবস্থান বা উগ্রপন্থী প্রভাব।
  • ভৌগোলিক ও সামাজিক অবস্থান: ছিন্নমূল ও বস্তিবাসী অধ্যুষিত এলাকা এবং বড় বড় ব্যবসা কেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দ্বন্দ্ব।

পুলিশের বিশেষ নিরাপত্তা ছক: ঝুঁকিপূর্ণ আসনগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী একটি বিশেষ ছক তৈরি করেছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী:
১. গোয়েন্দা নজরদারি: আগে থেকেই এসব এলাকায় সাদা পোশাকে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
২. তল্লাশি অভিযান: নির্বাচনের কয়েক দিন আগে থেকে ভোটকেন্দ্র সংলগ্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান ও বাসাবাড়িতে তল্লাশি চালানো হবে।
৩. টহল জোরদার: পুলিশের মোবাইল পার্টি, পিকেট পার্টি এবং গাড়ি টহল বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি বিট পুলিশিং কার্যক্রমকে আরও সক্রিয় করা হয়েছে।
৪. চেকপোস্ট স্থাপন: গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও প্রবেশপথগুলোতে অস্থায়ী চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি করা হচ্ছে।

আইজিপি ও স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার বক্তব্য: এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জানিয়েছেন, নির্বাচন ঘিরে কোনো ধরনের সহিংসতা বরদাশত করা হবে না। প্রতিটি বাহিনীকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং সীমান্ত রক্ষা থেকে শুরু করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব প্রতিরোধেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

অন্যদিকে, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম বলেছেন, “বিগত কয়েকটি নির্বাচনে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও এবার পুলিশ সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করবে। নির্বাচন সহিংসতামুক্ত করতে আমরা সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েছি।” তিনি আরও জানান, বৈধ অস্ত্রের অবৈধ ব্যবহার রোধে কঠোর নজরদারি করা হচ্ছে এবং মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের প্রতি নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন কোনো অবস্থাতেই বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের ছাড় দেওয়া না হয়।

তালিকায় থাকা উল্লেখযোগ্য আসনসমূহ: পুলিশের তালিকা অনুযায়ী ঝুঁকিপূর্ণ আসনের মধ্যে রয়েছে ঠাকুরগাঁও-২, দিনাজপুর-২ ও ৫, রংপুর-১ ও ৪, বগুড়া-৩, রাজশাহী-৪ ও ৫, ঢাকা-১, ৯, ১৫ ও ১৬, চট্টগ্রাম-১, ২ ও ৬, কুমিল্লা-৩, নোয়াখালী-১ ও ৩, এবং কক্সবাজার-৪ সহ আরও বেশ কিছু এলাকা। এসব এলাকায় ইতিমধ্যে পুলিশের বিশেষ নিরাপত্তা কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

আলোচিত ছাত্রনেতা রিয়াদ হত্যাচেষ্টা মামলায় রিমান্ডে, জামিন পেলেন ৩ সহ-অভিযুক্ত

৩০০ আসনের ৫৩টিতে সহিংসতার শঙ্কা: বিশেষ সতর্কতায় পুলিশ

আপডেট সময় : ০১:৫৩:১১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশের ৫৩টি সংসদীয় আসনে সহিংসতার আশঙ্কা করছে পুলিশ। এসব এলাকায় সম্ভাব্য হট্টগোল, হামলা-পাল্টা হামলা এবং বিশৃঙ্খলা এড়াতে আগেভাগেই বিশেষ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, বিশেষ নজরদারির আওতায় থাকা এই আসনগুলোতে ভোটের দিন ও তার আগে বাড়তি পুলিশ সদস্য মোতায়েন এবং নিয়মিত টহল জোরদার করা হবে।

ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করার কারণসমূহ: পুলিশ সদর দপ্তর ও গোয়েন্দা সূত্র জানায়, বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট কারণে এই ৫৩টি আসনকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ বা ‘বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে:

  • একাধিক প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী: একই আসনে একাধিক প্রভাবশালী বা হেভিওয়েট প্রার্থীর উপস্থিতি।
  • অতীতের ইতিহাস: বিগত নির্বাচনগুলোতে যেসব এলাকায় সহিংসতার রেকর্ড রয়েছে।
  • রাজনৈতিক প্রভাব: স্থানীয় পর্যায়ে বিশেষ রাজনৈতিক দলের শক্তিশালী অবস্থান বা উগ্রপন্থী প্রভাব।
  • ভৌগোলিক ও সামাজিক অবস্থান: ছিন্নমূল ও বস্তিবাসী অধ্যুষিত এলাকা এবং বড় বড় ব্যবসা কেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দ্বন্দ্ব।

পুলিশের বিশেষ নিরাপত্তা ছক: ঝুঁকিপূর্ণ আসনগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী একটি বিশেষ ছক তৈরি করেছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী:
১. গোয়েন্দা নজরদারি: আগে থেকেই এসব এলাকায় সাদা পোশাকে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
২. তল্লাশি অভিযান: নির্বাচনের কয়েক দিন আগে থেকে ভোটকেন্দ্র সংলগ্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান ও বাসাবাড়িতে তল্লাশি চালানো হবে।
৩. টহল জোরদার: পুলিশের মোবাইল পার্টি, পিকেট পার্টি এবং গাড়ি টহল বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি বিট পুলিশিং কার্যক্রমকে আরও সক্রিয় করা হয়েছে।
৪. চেকপোস্ট স্থাপন: গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও প্রবেশপথগুলোতে অস্থায়ী চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি করা হচ্ছে।

আইজিপি ও স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার বক্তব্য: এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জানিয়েছেন, নির্বাচন ঘিরে কোনো ধরনের সহিংসতা বরদাশত করা হবে না। প্রতিটি বাহিনীকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং সীমান্ত রক্ষা থেকে শুরু করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব প্রতিরোধেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

অন্যদিকে, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম বলেছেন, “বিগত কয়েকটি নির্বাচনে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও এবার পুলিশ সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করবে। নির্বাচন সহিংসতামুক্ত করতে আমরা সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েছি।” তিনি আরও জানান, বৈধ অস্ত্রের অবৈধ ব্যবহার রোধে কঠোর নজরদারি করা হচ্ছে এবং মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের প্রতি নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন কোনো অবস্থাতেই বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের ছাড় দেওয়া না হয়।

তালিকায় থাকা উল্লেখযোগ্য আসনসমূহ: পুলিশের তালিকা অনুযায়ী ঝুঁকিপূর্ণ আসনের মধ্যে রয়েছে ঠাকুরগাঁও-২, দিনাজপুর-২ ও ৫, রংপুর-১ ও ৪, বগুড়া-৩, রাজশাহী-৪ ও ৫, ঢাকা-১, ৯, ১৫ ও ১৬, চট্টগ্রাম-১, ২ ও ৬, কুমিল্লা-৩, নোয়াখালী-১ ও ৩, এবং কক্সবাজার-৪ সহ আরও বেশ কিছু এলাকা। এসব এলাকায় ইতিমধ্যে পুলিশের বিশেষ নিরাপত্তা কার্যক্রম শুরু হয়েছে।